ইরান যুদ্ধেই নির্বাচনে হার, স্বীকার ট্রাম্পের; তবু হামলা চালানোর ঘোষণা

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: নভেম্বর ৫, ২০২৬, ০৮:৩০ এএম
ইরান যুদ্ধেই নির্বাচনে হার, স্বীকার ট্রাম্পের; তবু হামলা চালানোর ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির ভরাডুবির পেছনে ইরান যুদ্ধের বড় ভূমিকা ছিল বলে স্বীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্তকে ভুল মনে করেন না তিনি। বরং একই পরিস্থিতি তৈরি হলে আবারও ইরানে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তার যুক্তি, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেয়া যায় না।

স্থানীয় সময় বুধবার (৪ নভেম্বর) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প এসব কথা বলেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, কথাটি অনেকাংশেই সত্য। কারণ, এর ফলে স্বল্প মেয়াদে জ্বালানির দাম কিছুটা বেড়েছে।’ তবে যুদ্ধের কারণে রাজনৈতিক ক্ষতি হলেও সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কোনো সুযোগ ছিল না বলে জানান তিনি। খবর বিবিসির। 

ট্রাম্প বলেন, ‘আবার যদি একই পরিস্থিতি তৈরি হতো, তাহলে আমাকে আবারও একই কাজ করতে হতো। কারণ, দীর্ঘ মেয়াদে এটিই একমাত্র সমাধান। ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেয়া যায় না।’

যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। তার ধারণা ছিল, ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও অনেক বেশি বাড়বে। তবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে এখন বিপুল পরিমাণ তেল পরিবাহিত হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, যুদ্ধের চেয়ে তেলের দাম বৃদ্ধিই ভোটারদের অসন্তোষের প্রধান কারণ ছিল। তার ভাষায়, ‘ইরানের বিষয়টি আমাদের করতেই হতো। আমরা এখনো সেটি করছি।’

নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয় নিয়ে নিজের জনপ্রিয়তার যুক্তিও তুলে ধরেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, নিজে প্রার্থী হলে রিপাবলিকানরা নির্বাচনে জিতত। তার নির্বাচনি সমাবেশে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘মানুষের মধ্যে এত ভালোবাসা ছিল, যা ছিল অবিশ্বাস্য। কিন্তু সেই ভালোবাসা অন্য প্রার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়া সম্ভব হয়নি।’

নির্বাচনের পর ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহের কথাও জানান ট্রাম্প। তবে ডেমোক্র্যাটরা বাধা সৃষ্টি করলে প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ রয়েছে বলে সতর্ক করেন। এদিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে দায়িত্ব থেকে সরানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও জানান তিনি। হেগসেথের কাজের প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, তিনি খুব ভালো কাজ করছেন।

নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ নিয়ে ভ্যান্সের বক্তব্য: 
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক দীর্ঘ পোস্টে রিপাবলিকানদের নির্বাচনী বিপর্যয়ের জন্য সরাসরি ইরান যুদ্ধকে দায়ী করেন।

ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা হেরেছি যুদ্ধের কারণে। প্রেসিডেন্ট নিজেই গত রাতে তা বলেছেন।’ তার মতে, ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্প ও ভ্যান্সকে ভোট দেয়া অনেক মার্কিন নাগরিক এবার ডেমোক্র্যাটদের ভোট দিয়েছেন। অর্থাৎ, রিপাবলিকানদের ভোটাররা নির্বাচনে অংশ নিতে ব্যর্থ হননি; বরং তাঁদের একটি অংশ দল পরিবর্তন করেছেন।

ভ্যান্স আরও বলেন, আগামী ছয় বছরের জন্য সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানো যদি যুদ্ধের মূল্য হিসেবে মেনে নেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত হয়ে থাকে, তাহলে সেটির পক্ষে যুক্তি দেওয়া উচিত। কিন্তু পরাজয়ের প্রকৃত কারণ নিয়ে সৎ আলোচনা করতে হলে ইরান যুদ্ধের প্রভাব স্বীকার করতেই হবে।

গত ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদের পাশাপাশি সিনেটের নিয়ন্ত্রণও রিপাবলিকানদের কাছ থেকে নিজেদের দখলে নিয়েছে দলটি। এর ফলে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে বাকি দুই বছরের শাসনামলে কংগ্রেসে তার নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে সামরিক হামলা শুরুর পর থেকেই যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিতর্ক চলছে। সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম বেড়েছে। পাশাপাশি মার্কিন সেনাদের প্রাণহানিও জনমনে অসন্তোষ তৈরি করেছে।

এবিসি নিউজের নির্বাচনি জরিপ অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনে ভোট দেওয়া মার্কিন নাগরিকদের ৩৪ শতাংশের কাছে ইরান যুদ্ধ ছিল ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে জীবনযাত্রার ব্যয়কে গুরুত্বপূর্ণ বলেছেন ৪৯ শতাংশ এবং সরকারি দুর্নীতিকে গুরুত্বপূর্ণ বলেছেন ৫৫ শতাংশ ভোটার।

এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প যুদ্ধের কারণে নির্বাচনে ক্ষতির কথা স্বীকার করলেও সামরিক অভিযানকে ন্যায্য বলে দাবি করছেন। অন্যদিকে ভ্যান্সের বক্তব্যে রিপাবলিকান শিবিরের ভেতরেই যুদ্ধের রাজনৈতিক মূল্য নিয়ে মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

এম

Link copied!