যেসব লক্ষণে হচ্ছে থাইরয়েড ক্যানসার, সতর্ক করলেন চিকিৎসকরা

  • সোনালী ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ৫, ২০২৬, ০৭:৩২ পিএম
যেসব লক্ষণে হচ্ছে থাইরয়েড ক্যানসার, সতর্ক করলেন চিকিৎসকরা

ফাইল ছবি

গলার সামনে প্রজাপতির ডানার মতো ছোট্ট একটি গ্রন্থি-থাইরয়েড। শরীরের বিপাকক্রিয়া, হৃদস্পন্দন থেকে শুরু করে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের মতো অতীব গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো যার সুক্ষ্ম ইশারায় পরিচালিত হয়, সেই গ্রন্থিটিই আজ নীরব আশঙ্কার কারণ হয়ে উঠছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশেও বাড়ছে থাইরয়েড ক্যানসারের প্রকোপ। এটি মূলত নিয়ন্ত্রণযোগ্য এবং নিরাময়ের হারও বেশ বেশি; কিন্তু চিকিৎসকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে এই রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলোর ব্যথাহীন ও অগোচরে থাকার প্রবণতা। সময়মতো রোগ নির্ণয় না হলে জটিল আকার ধারণ করতে পারে এই মরণব্যাধি।

আন্তর্জাতিক ক্যানসার ডেটার তথ্য বলছে, গত দুই দশকে বিশ্বজুড়ে থাইরয়েড ক্যানসারের ঘটনা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে তরুণ সমাজ এবং নারীদের মধ্যে এর ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।

অথচ প্রাথমিক সতর্কবার্তা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের সচেতনতা এখনো বেশ অপ্রতুল। থাইরয়েড ক্যানসারের প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো তীব্র ব্যথা বা কষ্ট না থাকায় মানুষ প্রায়ই এই উপসর্গগুলোকে মামুলি ভেবে অবহেলা করেন, যা রোগটিকে নীরবে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ করে দেয়।

চিকিৎসকদের মতে, শরীরে কিছু সূক্ষ্ম পরিবর্তন দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। এর মধ্যে অন্যতম হলো ঘাড়ের সামনে ছোট কোনো চাকা বা গাঁট বা ফোলা ভাব দেখা দেওয়া, যা সাধারণত ব্যথাহীন হয়। এ ছাড়াও হঠাৎ করে গলার স্বর কর্কশ হয়ে যাওয়া, খাবার বা পানি গিলতে অস্বস্তি বা গলায় কিছু আটকে থাকার অনুভূতি হওয়া এবং গলার পাশে লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়ার মতো লক্ষণগুলো প্রকাশ পেতে পারে।

অনেক সময় গলা বা ঘাড়ের মৃদু ব্যথা কান পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে কিংবা হঠাৎ করেই জামার কলার টাইট লাগতে শুরু করতে পারে। এই দীর্ঘস্থায়ী লক্ষণগুলোর যেকোনো একটি বা একাধিক উপস্থিতি থাইরয়েডের অস্বাভাবিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে।

থাইরয়েড ক্যানসার মূলত কয়েক ধরনের হয়ে থাকে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় প্যাপিলারি থাইরয়েড ক্যানসার, যা তুলনামূলক ধীরে বৃদ্ধি পায় এবং চিকিৎসায় খুব ভালো সাড়া দেয়। এ ছাড়া ফলিকুলার, মেডুলারি, হারথল সেল এবং অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এনাপ্লাস্টিক থাইরয়েড ক্যানসারও রয়েছে, যার মধ্যে এনাপ্লাস্টিক ধরনটিকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বলে গণ্য করা হয়।

অতীতে মাথা বা ঘাড়ে রেডিয়েশন থেরাপি নিয়ে থাকলে, পরিবারে এই ক্যানসারের চিকিৎসার ইতিহাস বা নির্দিষ্ট কোনো জেনেটিক মিউটেশন থাকলে ঝুঁকি আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। তবে বহু ক্ষেত্রে কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই এই রোগ বাসা বাঁধতে পারে।

উপসর্গ দেখা দিলেই সেটি যে ক্যানসার, এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই। তবে লক্ষণগুলোকে দীর্ঘদিন জিইয়ে রাখলে রোগটি জটিল পর্যায়ে চলে যায়। ঘাড়ের আল্ট্রাসাউন্ড, রক্ত পরীক্ষা এবং ফাইন-নিডল অ্যাস্পিরেশন বায়োপসির মতো আধুনিক পরীক্ষার মাধ্যমে সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় করা সম্ভব।

প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে সার্জারি, রেডিওঅ্যাক্টিভ আয়োডিন থেরাপি কিংবা টার্গেটেড ট্রিটমেন্টের মাধ্যমে সুস্থ জীবন ফিরে পাওয়া পুরোপুরি সম্ভব। শরীরের এই নীরব ভাষা বুঝতে পারা এবং একটু সচেতনতাই পারে একটি বড় বিপদ থেকে রক্ষা করতে।

এসএইচ 

Link copied!