জন্মের পরপরই প্রত্যেক শিশু পাবে ইউনিক আইডি নম্বর

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: নভেম্বর ২৭, ২০২০, ১০:১৮ পিএম
জন্মের পরপরই প্রত্যেক শিশু পাবে ইউনিক আইডি নম্বর

ঢাকা: জন্মের পরপরই শূণ্য বছর বয়স থেকে নাগরিকদের তথ্য যাবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সার্ভারে। এছাড়া ১০ বছর বয়স থেকে ১৭ বছর বয়সীদেরকে লেমিনিটেড কার্ড দিবে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় ইসি থেকে এনআইডির কিছু অংশ সরিয়ে নেওয়ার প্রাথমিক যে পরিকল্পনা করেছিল সেটি আপাতত হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ইসি সূত্র জানায়, সম্প্রতি ইসির ‘আইডিইএ দ্বিতীয় পর্যায় প্রকল্প’ একনেক সভায় অনুমোদন পাওয়ার পর  স্বস্তিতে রয়েছে সংশ্লিষ্ঠ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তারা বলছেন, নতুন প্রকল্পে ২০২২ সালের মধ্যে দেশের সব ভোটারের হাতে স্মার্ট কার্ড দেয়া হবে। এছাড়া জন্মের পরপরই প্রত্যেক শিশুকে দেয়া হবে ইউনিক আইডি নম্বর। আর জাতীয় পরিচয়পত্র সার্ভিস দেবে দেশের সকল সেবা সংস্থাকে। এ জন্য সকল প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। 

ইসি কর্মকর্তরা জানান, বর্তমানে নাগরিকদের এনআইডি সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ্য প্রমাণপত্র। এনআইডির জন্য আগে বিভিন্ন বয়স থেকে তথ্য নেওয়া হত। এতে নাগরিকদের তথ্য নেওয়ার সময় অন্য প্রতিষ্ঠানের প্রমাণপত্রের সহায়তা লাগত। এখন শূন্য বয়স থেকে নাগরিকের তথ্য নিলে ইসির আর কারো কাছ থেকে তথ্য নিতে হবেনা। দুর্নীতিও করার সুযোগ থাকবে না। প্রয়োজনে ইসি থেকে অন্য প্রতিষ্ঠান তথ্য নিয়ে কাজ করতে পারবে।

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, গত মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১০ হাজার ৭০২ কোটি ২৩ লাখ টাকা খরচে ৭টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। একনেক সভায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের ‘আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং একসেস টু সার্ভিসেস (আইডিইএ) (২য় পর্যায়)’ প্রকল্পে প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা অনুমোদন দিয়েছেন। যার খরচ ধরা হয়েছে ১ হাজার ৮০৫ কোটি ৯ লাখ টাকা। চলতি বছরের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি বলেন, একসেস টু সার্ভিসেস ২য় পর্যায় প্রকল্পে যেসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে তা হচ্ছে- নতুন ভোটার নিবন্ধন, স্থানান্তর, কর্তন, তথ্যের ভুল সংশোধন সংক্রান্ত কার্যক্রম বাস্তবায়ন এবং অধিকতর দক্ষতা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে নাগরিক সেবা। ভোটার তালিকা  প্রস্তুতকরণ এবং অনুর্ধ্ব ১৮ (১০+) নাগরিকদের নিবন্ধনের জন্য গাইডলাইন প্রস্তুতকরণ ও কর্মপ্রক্রিয়া সুনির্দিষ্টকরণ। রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক ক্ষেত্রে সকল পরিসেবা যথাযথভাবে নিশ্চিত করার মাধ্যমে শান্তি শৃঙ্খলা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা, সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ।

সাইদুল ইসলাম বলেন, ডাটাসেন্টার (ডিসি) এবং ডিজাস্টার রিকভারি সিস্টেম (ডিআরএস) এর সার্ভার, হার্ডওয়্যার, কম্পিউটার সামগ্রী, ইকুইপমেন্ট ইত্যাদি ২০১১ সাল থেকে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে এসব যন্ত্রপাতির কার্যক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। এসব যন্ত্রের প্রতিস্থাপন, আপগ্রেডেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ সম্পন্ন না হলে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ডাটাসেন্টার হুমকির সম্মুখীন হবে এবং পরিচিতি সেবা ব্যহত হবে, বিধায় প্রস্তুাবিত প্রকল্পের আওতায় সার্ভারের সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ নতুন ইকুইপমেন্ট সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এছাড়া ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত এবং নিবন্ধনযোগ্য সব নাগরিকের ১০ আঙুলের ছাপ ও আইরিশ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ, বায়োমেট্রিক ম্যাচিং সম্পন্ন করার মাধ্যমে দ্বৈততা পরিহারকরণ, খসড়া ও চূড়ান্ত ভোটার তালিকাসহ অন্যান্য কার্যক্রম রাখা হয়েছে।

এনআইডি কর্মকর্তারা বলেন, আগামী রোববার প্রাবাসীদের ভোটার করা নিয়ে বৈঠকে বসবে কমিশন। ঐদিন প্রবাসীদের ভোটার করার সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে আলোচনা হবে।

খোজ নিয়ে জানা গেছে, পাঁচ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে প্রবাসী অধ্যুষিত ৪০ দেশে কাজ শুরু করবে ইসি। প্রাথমিকভাবে ৫-৬টি দেশে জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়া শুরু হবে। সিইসি কেএম নুরুল হুদা এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমেদ করোনা শুরুর আগে মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্রের অনলাইন নিবন্ধন শুরু করেছিলেন। গত বছরের নভেম্বরে মালয়েশিয়া প্রবাসীদের অনলাইনে ভোটার হওয়ার কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছিল।

কোভিড-১৯ মহামারির আগেই চার দেশ থেকে মোট ৭৩৮ প্রবাসী জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য আবেদন করেছিলেন। এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৫৩০, যুক্তরাজ্য থেকে ১২১, মালয়েশিয়া থেকে ৪৮ এবং সৌদি আরব থেকে ৩৯টি আবেদন অনলাইনে এসেছে।

সোনালীনিউজ/এইচএন

Link copied!