ফাইল ছবি
ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তারই এক বিতর্কিত অধ্যায় আবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ওই সময় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এপিডি উইংয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হককে বঞ্চিত কর্মকর্তারা ধাক্কা দিয়ে অফিস থেকে বের করে দেন। সেই জিয়াউল হককে এবার সচিব পদে পদোন্নতি দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উচ্চতর নিয়োগ–১ শাখার উপসচিব মোহাম্মদ রফিকুল হক স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হককে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগে পদায়ন করা হয়।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত আগস্টে ছাত্র–জনতার আন্দোলনের পর জনপ্রশাসনে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ওই সময় এপিডি উইংয়ের অতিরিক্ত সচিব শায়লা ফারজানাকে বিক্ষুব্ধ কর্মকর্তারা তাড়িয়ে দেন। এরপর শায়লা ফারজানার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত অতিরিক্ত সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হককেও ধাক্কা দিয়ে অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয়। সে সময় তিনি নিজের ব্যবহৃত ল্যাপটপ নিতে চাইলে সেটিও নিতে দেওয়া হয়নি। পরে তার কর্মচারীরা ল্যাপটপটি পৌঁছে দেন।
ওই ঘটনার পর জিয়াউল হককে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে বদলি করে সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগে পাঠানো হয়। সেখানে যোগদানের পর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া তৎকালীন সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হকের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন তিনি। পরে মো. এহছানুল হক জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বদলি হলে জিয়াউল হককে আবার এপিডি উইংয়ে পদায়নের আগ্রহ দেখানো হয়। তবে এতে জনপ্রশাসন সচিব সমালোচনার মুখে পড়তে পারেন—এমন আশঙ্কায় শেষ পর্যন্ত তাকে এপিডিতে পদায়ন করা হয়নি।
এরপর জিয়াউল হককে সচিব পদে পদোন্নতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে করে তখন পদোন্নতির প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যায়। তবে সংবাদ প্রকাশের প্রায় ৪২ দিন পর এবার তাকে সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হলো।
জিয়াউল হকের কর্মজীবনের তথ্য পর্যালোচনা করে জানা যায়, তিনি শায়লা ফারজানার ঘনিষ্ঠ এবং আওয়ামী লীগ–ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০১৫ সাল থেকে শেখ হাসিনা সরকারের পতন পর্যন্ত তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়েই কর্মরত ছিলেন। এর আগে তিনি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি ১/১১–পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়েও কাজ করেছেন।
আগস্টে অপদস্থ হওয়ার ঘটনার পর এমন একজন কর্মকর্তার সচিব পদে পদোন্নতি প্রশাসনের ভেতরে নতুন করে আলোচনা ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এসএইচ
আপনার মতামত লিখুন :