ফাইল ছবি
ভোটের আর মাত্র ২২ দিন বাকি থাকতেই দেশের আট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) বদলি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার রাতে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই বদলির আদেশ দেওয়া হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগে এমন বদলিকে ঘিরে মাঠ প্রশাসনে ক্ষোভ ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সামিউল আমিন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপণে জানানো হয়, প্রশাসনিক প্রয়োজনেই এই বদলি। তবে একাধিক ঘটনায় সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্ত ও ইউএনওদের ভূমিকার সঙ্গে বদলির যোগসূত্র খুঁজছেন সংশ্লিষ্টরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুর রহমানকে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায় বদলি করা হয়েছে। এর একদিন আগেই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভূইয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করে।
গত শনিবার বিকেলে কলমাকান্দার লেংগুড়া বাজারে সরকারি জায়গা দখল করে ঘর তোলার খবর পেয়ে ইউএনও মাসুদুর রহমান ঘটনাস্থলে যান। সেখানে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সাইদুর রহমানের ভাই পরভেজসহ কয়েকজনকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এ সময় চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ইউএনওর কাছে গিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান এবং তার অনুমতি ছাড়া মোবাইল কোর্ট পরিচালনার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পরদিন এই ঘটনার জেরে চেয়ারম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তার পরদিনই ইউএনও মাসুদুর রহমানের বদলির আদেশ আসে।
এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন। নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ইউএনওর বদলির আদেশের কপি সংযুক্ত করে লেখেন, ন্যায় যখন পরাজিত হয়, তখন অন্যায় আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
এদিকে, তিন মাস আগে বগুড়ার ধুনট উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেওয়া প্রীতিলতা বর্মনকে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় বদলি করা হয়েছে। বদলির ঠিক আগের দিন তিনি ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জমি দখল করে দোকান নির্মাণের অভিযোগ পেয়ে সেখানে যান। ওই ঘটনায় প্রভাবশালী একটি পক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে বদলি করাতে ভূমিকা রেখেছে বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল-আমীনকে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় বদলি করা হয়েছে। এক বছর ধরে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের কারণে একটি পক্ষ তার বিরুদ্ধে অসন্তুষ্ট হয়ে বদলির উদ্যোগ নেয় বলে প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রেহেনা আক্তারকে বদলি করে বগুড়ার ধুনটে পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে গণভোটে ‘না’ ভোটের পক্ষে ভোটারদের উৎসাহিত করার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া তার স্বামী রাশিদুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারদা সূর্যসেন হলের নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের পদধারী নেতা ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। ইউএনওর দেবর রাইসুল ইসলামও একই হলের ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন এবং জুলাই আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় তার ভূমিকার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, তারা ৫ আগস্টের পর থেকে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন।
এ ছাড়া বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ইশরাত জাহানকে ভোলার চরফ্যাশনে বদলি করা হয়েছে। হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার ইউএনও লিটন চন্দ্র দেকে চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে পাঠানো হয়েছে। ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ইউএনও মেহরাজ শারবীনকে বদলি করা হয়েছে নেত্রকোণার কলমাকান্দায়। ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ইউএনও মো. লোকমান হোসেনকে বরগুনার পাথরঘাটায় বদলি করা হয়েছে।
নির্বাচনের একেবারে কাছাকাছি সময়ে একাধিক ইউএনওর এই বদলি প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও নির্বাচনকালীন মাঠ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
এসএইচ
আপনার মতামত লিখুন :