শুরু নির্বাচনী প্রচার: যেসব বিধিনিষেধ মানতে হবে

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জানুয়ারি ২২, ২০২৬, ০৭:৫৮ এএম
শুরু নির্বাচনী প্রচার: যেসব বিধিনিষেধ মানতে হবে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো নির্বাচনী প্রচারণা। এবারই প্রথমবারের মতো পোস্টারবিহীন প্রচারে অংশ নিচ্ছেন প্রার্থীরা, যা বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্য অনুযায়ী, মনোনয়ন প্রত্যাহার ও আপিল নিষ্পত্তি শেষে দেশের ২৯৮টি সংসদীয় আসনে মোট প্রার্থী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৭২ জনে। ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানান, সব প্রার্থীকে কঠোর আচরণবিধির আওতায় থেকে প্রচার চালাতে হবে।

প্রার্থী সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে ঢাকা-১২ আসনে, যেখানে ১৫ জন প্রার্থী ভোটের লড়াইয়ে রয়েছেন। বিপরীতে পিরোজপুর-১ আসনে সর্বনিম্ন দুইজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন—বিএনপির আলমগীর হোসেন ও জামায়াতে ইসলামীর মাসুদ সাঈদী।

ইসির হিসাবে অন্তত ৩১টি আসনে ১০ জন বা তার বেশি প্রার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ১৩ জন এবং খুলনা-১, ঢাকা-৯, ঢাকা-১৪ ও গাজীপুর-২ আসনে ১২ জন করে প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পাশাপাশি ১৪টি আসনে তিনজন করে প্রার্থী রয়েছেন, যার মধ্যে ঠাকুরগাঁও-১, জয়পুরহাট-২, নওগাঁ-২, মেহেরপুর-২, চুয়াডাঙ্গা-১ ও ২ এবং কক্সবাজার-১ উল্লেখযোগ্য।

এর আগে গত ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে মোট ২ হাজার ৫৮০ জন প্রার্থী আবেদন করেন। যাচাই-বাছাইয়ে ৭২৫টি মনোনয়ন বাতিল হলেও আপিল ও আদালতের আদেশে ৪৩৬ জন প্রার্থী পুনরায় বৈধতা পান।

সর্বশেষ হালনাগাদ অনুযায়ী দেশে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ১২ কোটি ৭৭ লাখ। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ৫৯টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ৫১টি দল প্রার্থী দিয়েছে। দলীয়ভাবে ২ হাজার ৯১টি এবং স্বতন্ত্র হিসেবে ৪৭৮টি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) রিটার্নিং কর্মকর্তারা চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেন। নিয়ম অনুযায়ী, আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রচারণা চালানো যাবে—মোট সময় পাচ্ছেন ২০ দিন।

প্রতীক বরাদ্দের পরপরই মাঠে উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে। আগারগাঁওয়ের নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বিএনপির প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন অভিযোগ করে বলেন, একটি বিশেষ দল আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে। পাল্টা বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা মো. মোবারক হোসাইন বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিচার করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের—রাজনৈতিক হামলা গ্রহণযোগ্য নয়।

রিটার্নিং কর্মকর্তা এ সময় স্পষ্ট করে বলেন, প্রার্থীর কর্মী বা সমর্থক কেউ আচরণবিধি ভাঙলে তার দায় প্রার্থীকেই নিতে হবে।

এদিকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে অভিযোগ করেন, নির্বাচনে এখনো সমতাভিত্তিক মাঠ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) নিশ্চিত হয়নি।

প্রচার শুরুর সঙ্গে সঙ্গে মাঠে নামানো হয়েছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাচনী তদন্ত কমিটিগুলো। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতাও বাড়ানো হয়েছে।

প্রচারণায় যেসব বিধিনিষেধ মানতে হবে

নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, প্রচারণায় পোস্টার, ড্রোন, কোয়াডকপ্টার ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিদেশে কোনো ধরনের প্রচার চালানো যাবে না। একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন, যার নির্ধারিত আকার ১৬ ফুট বাই ৯ ফুট। শব্দের মাত্রা সর্বোচ্চ ৬০ ডেসিবেল রাখতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারের ক্ষেত্রে প্রার্থী বা তার এজেন্টকে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের তথ্য আগেই রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে। অসৎ উদ্দেশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার, ভুয়া খবর, ঘৃণাত্মক বক্তব্য, চরিত্রহনন বা ধর্মীয় অনুভূতি উসকে দেওয়ার ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

আচরণবিধি লঙ্ঘনে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড, দেড় লাখ টাকা জরিমানা এবং গুরুতর অপরাধে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা রেখেছে নির্বাচন কমিশন।

এম

Link copied!