নতুন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র দু’দিনের মাথায় রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণে রাতে মাঠে নামলেন মো. আলী হোসেন ফকির।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় টহল কার্যক্রম ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
আইজিপি জানান, নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি নিজেই রাস্তায় নেমেছেন এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার ভাষায়, “অপরাধী যেই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
তিনি বলেন, কিশোর গ্যাং, ছিনতাই ও মাদক চক্রের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সন্ধ্যার পর বিশেষ ব্লক রেইড চালিয়ে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার কাজ জোরদার করা হয়েছে।
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে আইজিপি জানান, ছাত্রজীবনে ১৯৮৬ সালে জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় তিনি নিজেও ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি মনে করেন, মোহাম্মদপুর দীর্ঘদিন ধরেই অপরাধপ্রবণ এলাকা।
তিনি আরও বলেন, রাজধানীতে ফুটপাত দখলের পর এখন সড়কও দখলের শিকার হচ্ছে, যা জনচলাচলে বড় বাধা তৈরি করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে অর্থনীতি ও বিনিয়োগও ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতার বিষয়ে আইজিপি বলেন, প্রায় ২০ কোটি মানুষের দেশে পুলিশের সংখ্যা মাত্র ২ লাখ ২০ হাজার। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরীতেই প্রায় ৪ কোটি মানুষের বসবাস— যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বড় চ্যালেঞ্জ।
আসন্ন ঈদুল ফিতর সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি নিজেও নিয়মিত রাতের টহলে থাকার কথা জানান। একই সঙ্গে মানবাধিকার অক্ষুণ্ন রেখে আইন প্রয়োগে কঠোরতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।
তিনি বলেন, কার্যকর পুলিশিং নিশ্চিত করতে বাহিনীর মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি। পোশাক বা সরঞ্জামের বাইরে গিয়ে পুলিশকে প্রকৃত অর্থেই জনসেবক হিসেবে কাজ করতে হবে।
এ সময় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার এবং তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার ইবনে মিজানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এম
আপনার মতামত লিখুন :