ঢাকা মেট্রোরেলে কিছু যাত্রীর অভিনব কৌশলে আগে থেকেই আসন দখল করে রাখার অভিযোগের পর নতুন ব্যবস্থা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে মাঝপথের স্টেশন থেকে ওঠা যাত্রীরা যেন সিট পান—সেজন্য অপারেশন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
মেট্রোরেলের পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) জানিয়েছে, অনেক যাত্রী উত্তরার দিক থেকে মতিঝিলগামী ট্রেনে উঠে শেষ স্টেশনে না নেমে একই ট্রেনে বসে থেকে আবার উত্তরার দিকে ফিরতি যাত্রা শুরু করছিলেন। এই কৌশলকে ‘লুপ রাইডিং’ বলা হচ্ছে। এতে সচিবালয়, শাহবাগসহ মাঝামাঝি স্টেশন থেকে ওঠা যাত্রীরা ব্যস্ত সময়ে আসন খালি পাচ্ছিলেন না।
নিয়মিত যাতায়াতকারী কয়েকজন যাত্রীর অভিযোগ, কিছু মানুষ আগে থেকেই মতিঝিল পর্যন্ত গিয়ে আবার একই ট্রেনে ফিরে আসেন, যাতে তারা পুরো পথ বসে যেতে পারেন। এতে অন্য যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছে।
এমন পরিস্থিতিতে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ মতিঝিল টার্মিনাল স্টেশনে ট্রেন পরিচালনার পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনেছে। ডিএমটিসিএলের অপারেশন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, আগে একটি ট্রেন মতিঝিলে পৌঁছানোর পর প্ল্যাটফর্ম বদলে আবার যাত্রা শুরু করত। এখন সেই ব্যবস্থা পরিবর্তন করে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে এবং যাত্রীদের নতুন ট্রেনে উঠতে বলা হচ্ছে।
ফলে কোনও যাত্রী মতিঝিল স্টেশনে পৌঁছে একই ট্রেনে বসে থেকে ফিরতি পথে যাত্রা করতে পারবেন না। সবাইকে ট্রেন থেকে নেমে অন্য প্ল্যাটফর্মে গিয়ে নতুন ট্রেনে উঠতে হবে।
এছাড়া প্ল্যাটফর্ম বা স্টেশনের ভেতরে অযথা দীর্ঘ সময় অবস্থান রোধে চেকইন ও চেকআউটের মধ্যবর্তী সময়সীমাও কমিয়ে আনা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের বেশি কেউ মেট্রোরেলের সিস্টেমের ভেতরে অবস্থান করলে তাকে জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।
যাত্রীদের একাংশ মনে করছেন, ভাড়া পরিশোধ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে থাকলে এতে নিয়ম ভাঙা হয় না। তবে অনেকের মতে, গণপরিবহনে নাগরিক সচেতনতা ও শিষ্টাচারও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সবাই যদি আগে থেকেই আসন নিশ্চিত করতে এমন পদ্ধতি অনুসরণ করেন, তাহলে সাধারণ যাত্রীদের জন্য যাতায়াত কঠিন হয়ে পড়বে।
এম
আপনার মতামত লিখুন :