গ্যাস সংকট আরও ঘনীভূত, সামনে মহা বিপদের শঙ্কা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: আগস্ট ৩, ২০২৬, ১২:৩২ পিএম
গ্যাস সংকট আরও ঘনীভূত, সামনে মহা বিপদের শঙ্কা

ফাইল ছবি

অনুমোদিত কার্গো সরবরাহে বৈশ্বিক অনীহা ও মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল চালুর অনিশ্চয়তায় সারা দেশে তৈরি হয়েছে তীব্র গ্যাস সংকট। টার্মিনাল বিকলের পাশাপাশি কার্গো পাওয়া না যাওয়ায় কারখানাগুলোতে উৎপাদন আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে, আর বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়ে তৈরি হয়েছে মারাত্মক লোডশেডিং পরিস্থিতি। 

গত ২১ জুলাই অগ্নিকাণ্ডের শিকার হওয়া এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালটি (এফএসআরইউ) সচল করার ঘোষণা একাধিকবার দেওয়া হলেও তা সম্ভব হয়নি। আগামী ৫ আগস্ট এটি আংশিক সচল হওয়ার একটা আভাস দেওয়া হলেও নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা। বন্ধ থাকা এই টার্মিনালে এলএনজি খালাসের উদ্দেশ্যে বঙ্গোপসাগরের বহির্নোঙরে ৬ দিন ধরে একটি জাহাজ অপেক্ষায় রয়েছে। এ ছাড়া আরও একটি কার্গো প্রস্তুত রাখা হলেও খালাসের অনিশ্চয়তা কাটেনি।

টার্মিনাল সচল না হওয়া পর্যন্ত এলএনজি সরবরাহের সূচিতে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ১০-১৫ আগস্ট মেয়াদের জন্য দুটি এলএনজি কার্গো ক্রয়ের দরপত্র আহ্বান করা হলেও তাতে কোনো প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়নি। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির অজুহাতে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে থাকা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন গ্যাস পাঠানো স্থগিত রেখেছে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে জিটুজি ভিত্তিতে সৌদি আরামকো ও মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির কাছে জরুরি ভিত্তিতে এলএনজি চেয়েছে পেট্রোবাংলা। অন্যদিকে ১৫-১৬ আগস্টের একটি কার্গোর দরপত্রে ভিটল এশিয়া লিমিটেড সর্বনিম্ন দরদাতা হলেও ১০-১৫ আগস্ট মেয়াদের শূন্যতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বর্তমান সংকটে কেবল সামিট গ্রুপের একটি টার্মিনাল দিয়ে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৫০ কোটি ৮০ লাখ ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ চলছে। কিন্তু নতুন কার্গো পৌঁছানো নিয়ে জটিলতা দেখা দেওয়ায় সামগ্রিক সরবরাহ ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ঢাকার চাহিদা সামাল দিতে বাখরাবাদ, কর্ণফুলী ও জালালাবাদের বরাদ্দ কমিয়ে তিতাস এলাকায় দৈনিক ৬ কোটি ঘনফুট গ্যাস বাড়ানো হলেও তাতে অন্য অঞ্চলের সংকট আরও প্রকট হয়েছে। দেশের কারখানাগুলোর বড় একটি অংশের উৎপাদন এখন অর্ধেকে নেমে এসেছে।

গ্যাস সরবরাহ ঘাটতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ খাতে। পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য দৈনিক অন্তত ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৬৮ কোটি ঘনফুট। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ১০ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে উৎপাদিত হচ্ছে মাত্র ৩ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। সেই সঙ্গে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ থাকায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে। ঢাকার বাইরে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে, যা সার্বিক জনজীবন ও অর্থনীতিকে গভীর বিপাকে ফেলেছে।

এসএইচ 

Link copied!