বাংলাদেশে ৪ বছর ধরে বাড়ছে দারিদ্র্য ও বৈষম্য

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ৭, ২০২৬, ০৩:৫২ পিএম
বাংলাদেশে ৪ বছর ধরে বাড়ছে দারিদ্র্য ও বৈষম্য

ফাইল ছবি

দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আরও কমিয়ে এনেছে বিশ্বব্যাংক। চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি কমে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হতে পারে বলে প্রাক্কলন করেছে সংস্থাটি, যা গত এপ্রিলে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ বলা হয়েছিল। একই সঙ্গে সংস্থাটি জানিয়েছে, টানা চার বছর ধরে দেশে নিম্নমুখী রয়েছে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার, পাশাপাশি লাগাতার বাড়ছে দারিদ্র্য ও বৈষম্যের হার।

 মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ বা ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন হালনাগাদ’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের বিভাগীয় পরিচালক জ্যঁ পেম, সিনিয়র অর্থনীতিবিদ ধ্রুব শর্মা ও নাজমুস সাদাত খান।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যবসা-বাণিজ্যে আস্থার সংকট, ব্যাংকিং খাতে ভঙ্গুর পরিস্থিতি এবং জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতির কারণে বেসরকারি বিনিয়োগ তীব্রভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের প্রাক্কলন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে গত অর্থবছরে দেশে নতুন করে ২১ লাখ মানুষ দরিদ্র হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই মানদণ্ডে দারিদ্র্যের হার বেড়ে ১০ দশমিক ১ শতাংশে ঠেকেছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) খানা আয় ও ব্যয় জরিপের পদ্ধতি অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে দারিদ্র্যের হার বেড়ে ২২ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে। একই সঙ্গে বিগত চার বছরে বৈষম্য পরিমাপক জিনি সূচকও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

অর্থনৈতিক এই স্থবিরতার প্রধান কারণ হিসেবে জ্বালানি খাতের দীর্ঘস্থায়ী সংকটকে চিহ্নিত করেছে বিশ্বব্যাংক। ডলার সংকটের কারণে এলএনজি ও কয়লা আমদানিতে জটিলতা দেখা দেওয়ায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহে ঘন ঘন বিঘ্ন ঘটছে। এর ফলে অনেক কারখানা উৎপাদন কমিয়েছে, বন্ধ রেখেছে কিংবা শ্রমিক ছাঁটাই করতে বাধ্য হয়েছে, যা শ্রমবাজারকে দুর্বল করে তুলেছে।

মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বমুখী ধারাকে সাময়িক কোনো সমস্যা নয় বরং দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছে বিশ্বব্যাংক। খাদ্য মূল্যস্ফীতি ধারাবাহিকভাবে ১০ শতাংশের ওপরে থাকায় নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনধারণ কষ্টকর হয়ে উঠেছে।

এছাড়া আর্থিক খাতের ঝুঁকি ও দুর্বলতা তীব্রতর হওয়ার কথা জানিয়ে বলা হয়েছে, গত জুনে খেলাপি ঋণ বেড়ে ৩৩ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছেছে এবং মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাত নির্ধারিত সীমার অনেক নিচে নেমে গেছে।

পরিস্থিতি উত্তরণের জন্য জ্বালানি খাতের সংস্কার, নিজস্ব গ্যাসের উৎপাদন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। একই সঙ্গে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ নিরসন, কর নীতি ও প্রশাসন আলাদা করা এবং সর্বজনীন ভর্তুকি কমিয়ে দরিদ্র মানুষের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা বাড়ানোর জোরালো সুপারিশ করা হয়েছে।

এসএইচ 

Link copied!