বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন তালিকা: বাদ পড়ছেন যারা, নিশ্চিত যাদের আসন

  • নিউজ ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২২, ২০২৫, ০৮:১৭ এএম
বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন তালিকা: বাদ পড়ছেন যারা, নিশ্চিত যাদের আসন

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থী চূড়ান্ত করার শেষ ধাপে পৌঁছেছে বিএনপি। ৩০০ আসনের মধ্যে আগে ঘোষিত প্রাথমিক ২৭২ আসনের তালিকা থেকে একাধিক আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ শাসনামলে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর জন্য আসন বণ্টনও প্রায় চূড়ান্ত করেছে দলটি। খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে।

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানান, মাঠপর্যায়ের একাধিক জরিপ, সাংগঠনিক মতামত এবং রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনা করেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে প্রয়োজনে শেষ মুহূর্তে পরিবর্তন আসতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের প্রস্তুতিতে কোনো ধরনের অভ্যন্তরীণ বিভক্তি বরদাশত করা হবে না; ঐক্যবদ্ধভাবেই মাঠে নামবে বিএনপি।

দলীয় সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে ঘোষিত ২৭২ আসনের প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় ও তিন দিনের কর্মশালা গত শনিবার শেষ হয়েছে। তবে সব ঘোষিত প্রার্থীকে কর্মশালায় ডাকা হয়নি, যা সম্ভাব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এরই মধ্যে কয়েকটি আসনে নতুন মুখকে ডেকে মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

বাগেরহাট জেলার চারটি আসনে প্রার্থিতা অনেকটাই নিশ্চিত বলে জানা গেছে। এর মধ্যে দুটি আসনে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের পরিচিত নেতাদের প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। বাগেরহাট-১ আসনে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মহাসচিব ও মতুয়া সমাজ ঐক্যজোটের সাধারণ সম্পাদক কপিল কৃষ্ণ মন্ডল এবং বাগেরহাট-৪ আসনে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ বাংলাদেশ শাখার সভাপতি সোমনাথ দেকে ধানের শীষের প্রার্থী করা হচ্ছে। এ ছাড়া বাগেরহাট-২ (সদর ও কচুয়া) আসনে জেলা বিএনপির নেতা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেনকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

চট্টগ্রাম-৪ আসনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। সেখানে আগে ঘোষিত প্রার্থী কাজী সালাউদ্দিনের পরিবর্তে আসলাম চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।

একই সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক তিন জোটের পাঁচ শীর্ষ নেতার আসন প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না বগুড়া-২, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক ঢাকা-১২ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেবেন। এ বিষয়ে দুই-তিন দিনের মধ্যে সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে বলে জানা গেছে। যেসব আসনে সমঝোতা চূড়ান্ত হবে, সেসব জায়গা থেকে বিএনপির দলীয় প্রার্থী প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে এবং শরিকরা নিজস্ব প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

ভাসানী জনশক্তি পার্টি ও গণফোরামকে আপাতত কোনো আসন না দিলেও ভবিষ্যতে রাজনৈতিক মূল্যায়নের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

দলীয় সূত্র আরও জানায়, তিন দিনের কর্মশালায় যাঁদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তাঁদের প্রার্থিতা প্রায় নিশ্চিত ধরে নেওয়া হচ্ছে। বিপরীতে যাঁদের ডাকা হয়নি, তাঁদের আসনে পরিবর্তনের সম্ভাবনা প্রবল। এর মধ্যে ঝালকাঠি-২ আসনের ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টু, চট্টগ্রাম-৬ আসনের গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং যশোর-৬ আসনের কাজী রওনকুল ইসলামের নাম রয়েছে।

এ ছাড়া ২৮টি ফাঁকা আসনের মধ্যে লক্ষ্মীপুর-১ আসনে শাহাদাত হোসেন সেলিম এবং লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে আশরাফ উদ্দিন নিজানকে মনোনয়নের জন্য ডাকা হয়েছে। তাঁরাও ধানের শীষ প্রতীকেই নির্বাচন করবেন বলে জানা গেছে। বাকি আসনগুলো শরিক ও মিত্র দলগুলোর জন্য সংরক্ষিত রয়েছে, যা কয়েক দিনের মধ্যেই প্রকাশ করা হবে।

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, প্রার্থী তালিকা নিয়ে সর্বশেষ সিদ্ধান্ত নেবেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার রাতে স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর তালিকা চূড়ান্ত হতে পারে এবং আজ অথবা আগামীকাল আনুষ্ঠানিকভাবে তা ঘোষণা করা হবে। সূত্র: বিভিন্ন গণমাধ্যম

এম

Link copied!