তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় দেশ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৩, ২০২৫, ০২:০৭ পিএম
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় দেশ

ফাইল ছবি

ঢাকা: রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে সিসিইউতে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। মায়ের এই কঠিন পরিস্থিতিতে কাছে নেই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তারেক রহমান কবে দেশে ফিরবেন এ নিয়ে দলের নেতাকর্মী ছাড়াও দেশের সাধারণ মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। এক কথায় তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষা গোটা দেশ।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তারেক রহমানের দেশে ফেরার সত্যটা অনেক গভীরে। মায়ের জন্য সন্তানের হৃদয়ভাঙা অপেক্ষা, আছে নিরাপত্তার বিষয়।

তবে সব কিছু ছাপিয়ে জাতীয়তাবাদের এই কান্ডারি যে দেশে ফিরছেন, তা নিশ্চিত। বিএনপির নেতাদের কেউ বলছেন, দেশে ফেরার প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। কিন্তু তা জাতীয় নির্বাচনের তফসিলের আগে হওয়ার সম্ভাবনা কম। এমনও হতে পারে তিনি মহান বিজয় দিবস পালন করবেন দেশের মাটিতে। আবার কারও মতে, নিরাপত্তার বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত হলেই দেশে ফিরবেন। তবে ফেরার সুনির্দিষ্ট তারিখের বিষয়ে কেউ নিশ্চিত নয়। শিগগিরই যে তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে-তা দলটির নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে কথা বলেও নিশ্চিত হওয়া গেছে।

গত সোমবার রাতে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, ‘তারেক রহমান শিগগির দেশে ফিরবেন।’ এই ঘোষণার পরই দেশে ফেরার নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পুরোনো ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করা হয় তারেক রহমান দেশের উদ্দেশে রওয়ানা করেছেন। তবে ফ্যাক্ট চেকিং প্ল্যাটফর্ম ও ওয়েবসাইট দ্য ডিসেন্ট জানিয়েছে, ওই ভিডিওটি পুরোনো।

এদিকে মঙ্গলবার বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে শিগগিরই তার ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরবেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার মতো শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের পর তারেক রহমান দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেবেন। পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে শিগগিরই দেশে ফিরবেন তিনি।’

এদিন দুপুরে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন জানান, তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে নেই। তিনি এখনো ট্রাভেল পাস চাননি, চাওয়ামাত্রই তা ইস্যু করা হবে। তাকে দেশে ফিরতে সব ধরনের সহযোগিতা করবে সরকার।

উপদেষ্টা বলেন, খালেদা জিয়া দেশের বাইরে চিকিৎসা নিতে চাইলে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে সরকার। তবে সিদ্ধান্ত দল ও পরিবারের।

বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য বুধবার (৩ ডিসেম্বর) যুক্তরাজ্য থেকে রিচার্ড বিল নামে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ঢাকায় পৌঁছেছেন। খালেদা জিয়ার চিকিৎসার্থে এদিন বিকালে চীন থেকে ৪ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আসার কথা রয়েছে।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দুই মামলায় খালেদা জিয়াকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। দুই বছরের বেশি সময় তিনি কারাবন্দি ছিলেন। এরপর করোনাকালে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ তৎকালীন সরকার নির্বাহী আদেশে তার সাজা স্থগিত করে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেয়।

এরপর ছয় মাস পরপর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার সাজা স্থগিত করে মুক্তির মেয়াদ বাড়ায় সরকার। যদিও চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশ যেতে দেয়া হয়নি। খালেদা জিয়া বহু বছর ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন।

গত বছরের ৫ আগস্টে গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর খালেদা জিয়া মুক্তি পান। এরপর চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান খালেদা জিয়া। চিকিৎসার জন্য ১১৭ দিন লন্ডনে অবস্থান শেষে গত ৬ মে দেশে ফেরেন তিনি। এরপর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয় বিএনপি চেয়ারপারসনকে।

গত ২৩ নভেম্বর থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া চিকিৎসাধীন। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ফুসফুসে ইনফেকশন ধরা পড়ে। পরে তার অবস্থা সংকটময় বলে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়।

এরপর গত বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) থেকে খালেদা জিয়াকে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) নিয়ে চিকিৎসকরা নিবিড়ভাবে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন।

এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি মেডিকেল বোর্ডের অধীনে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে।

এদিকে খালেদা জিয়াকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ঘোষণা করার পর স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) নিরাপত্তা দেওয়া শুরু করেছে। মঙ্গলবার বেলা ২টা ২০ মিনিটের দিকে এসএসএফ সদস্যরা খালেদা জিয়াকে নিরাপত্তা দেওয়া শুরু করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।

পিএস

Link copied!