ফাইল ছবি
রাজধানী ঢাকায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও চুরি হচ্ছে গাড়ি বা মোটরসাইকেল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য বলছে, বছরে ৩৬৬টির বেশি যানবাহন চুরির মামলা হচ্ছে ঢাকায়। তবে বাস্তবে এ সংখ্যা আরও অনেক বেশি-কারণ অনেক ভুক্তভোগী থানায় যান না, মামলাও করেন না। সংগঠিত গাড়ি চুরি চক্রগুলো মাত্র ৫ থেকে ১০ সেকেন্ডে চোখের পলকে গাড়ি নিয়ে উধাও হয়ে যাচ্ছে।
ঘটনা গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ভোর সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে গাড়ি নিয়ে রমনা পার্কে স্ত্রীসহ হাঁটতে গেছেন সোনালী পেপার এন্ড বোর্ড মিলস লিমিটেডের পরিচলক(টেকনিক্যাল) মো. কাওছার আজিজুর রহমান। ড্রাইভার মো. সবুজ গাড়িটি রমনা পার্কের রুণোদয় গেইটের সামনে রেখে ব্যক্তিগত কাজে ওয়াসরুম থেকে ফিরে এসে দেখেন গাড়ি নেই। মাত্র এক মিনিটে ‘মাস্টার কি’ দিয়ে লক খুলে গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায় চোর। গাড়িটি সোনালী পেপার এন্ড বোর্ড মিলস লিমিটেড এর মালিকানাধীন, গাড়ি নম্বর ঢাকা মেন্ট্রো গ-১৯-৫৬৯৪। পরে রমনা থানায় গিয়ে জিড়ি করা হয়, জিডি নং ১৬২৪।
জিডির সূত্র ধরে ডিএমপির রমনা বিভাগে ডিসি মাসুদ আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। ১৬২৪ নম্বর জিডি নিয়ে অলরেডি আমাদের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) কাজ করছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, যে জায়গায় গাড়িটি চুরি হয়েছে সেই জায়গায় সিসিটিভি ক্যামেরা নষ্ট ছিলো। আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো এসএসএফ নিয়ন্ত্রিত। এসএসএফের কাছে সিসিটিভি ফুটেজের জন্য আবদেন করা হয়েছে।
এভাবেই রাজধানী ঢাকায় দিন দিন বাড়ছে প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল, ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চুরির ঘটনা। থানায় মামলার পরিসংখ্যান বলছে, বছরে গড়ে ৩৬৬টি বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চুরি হচ্ছে। প্রায় প্রতিদিনই ঢাকার কোথাও না কোথাও চুরি হওয়ার এ প্রবণতা শুধু আইনশৃঙ্খলার অবনতির প্রশ্নই নয়, অনেক পরিবারের জন্য আর্থিক বিপর্যয়েরও কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, ব্যক্তিগত প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, পিকআপ, সিএনজি অটোরিকশা, লেগুনা ও মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহনই চোরচক্রের টার্গেটে পরিণত হচ্ছে। বিশেষ করে আবাসিক এলাকা, শপিংমল সংলগ্ন পার্কিং ও অরক্ষিত রাস্তার পাশে রাখা গাড়িগুলো বেশি ঝুঁকিতে থাকে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চুরি প্রতিরোধে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। জিপিএস ট্র্যাকার, সিসিটিভি নজরদারি এবং নিরাপদ পার্কিং ব্যবস্থার অভাব চোরদের সুযোগ করে দিচ্ছে। পাশাপাশি সচেতনতার ঘাটতিও একটি বড় কারণ। এছাড়া অন্তত ঢাকার সব সড়কে উন্নতমানের সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যানবাহন চুরি প্রতিরোধে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সন্দেহভাজন চক্রগুলো চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ৮ বিভাগের সদস্যরা বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছেন।
এসএইচ
আপনার মতামত লিখুন :