ঢাকা: সবসময়ই বলা হয় যে লম্বা ক্রিকেটারকে বাড়তি সুবিধা পান। লম্বা পেসাররা পিচ থেকে বেশি বাউন্স আদায় করে নিতে পারেন। লম্বা ব্যাটসম্যানদে পুল কিংবা হুক শট খেলতে সুবিধা হয় এমনকি লম্বা স্পিনাররাও পিচ থেকে বাড়তি সুবিধা নিতে পারেন। তবে এতকিছুর পরেও ক্রিকেটে মেধা আর পরিশ্রমটাই সবচেয়ে জরুরি।
ক্রিকেটে ইতিহাসে অনেক খাটো ক্রিকেটাররাও নিজেদের নিয়ে গিয়েছেন সেরাদের কাতারে। শুরুতে খানিকটা অসুবিধা হলেও তাঁরা তাঁদের দুর্বলতাকেই শক্তিকে রূপান্তরিত করেছেন। কেউ কেউ হয়েছেন কিংবদন্তিও। সোনালীনিউজের পাঠকদের জন্য আজ থাকছে এমনই একটি প্রতিবেদন।

১. সুনীল গাভাস্কার
ভারতের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সফল ব্যাটসম্যান। যিনি দেশটির ক্রিকেটে ব্যাটিংটাকে নতুন করে লিখেন। ভারতের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে ১০ হাজার রানের কোটা পূরণ করেন। ১৯৮০ সালে তিনি উইজডেন ক্রিকেটার অব দ্য ইয়্যারও ঘোষিত হয়েছিলেন। ভারতীয় ক্রিকেটের এই কিংবদন্তির উচ্চতা মাত্র ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি। তবে এই উচ্চতা যে কোন বাঁধা হয়ে দাড়ায়নি তার সামনে।

২. শচীন টেন্ডুলকার
তার উচ্চতা ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি। সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যান সচিন টেন্ডুলকার এই তালিকায় দশম স্থানে রয়েছেন। তার নামে অসংখ্য রেকর্ড তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার ১০০টি সেঞ্চুরি রয়েছে যা ভাঙ্গা প্রায় অসম্ভব। শুধু তাই নয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিন ফরম্যাটের ৩৪ হাজারের বেশি রানের মালিক তিনি।

৩. ওয়াল্টার কনফোর্ড
তার উচ্চতা ৪ ফুট ১১ ইঞ্চি। ইংল্যান্ডের জার্সি গায়ে মাত্র চারটি টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। ৪ টেস্টে মাত্র ৩৬ রান করেছিলেন কনফোর্ড। খাটোদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা এই ইংলিশ ব্যাটসম্যান ১৯৬৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।

৪. আলফ্রেড ফ্রিম্যান
তার উচ্চতা ৫ ফুট ২ ইঞ্চি। ইংল্যান্ডের এই লেগ স্পিনার ২২ টেস্টে ৬৬টি উইকেট শিকার করেছিলেন। যার মধ্যে চার উইকেট করে শিকার করেছিলেন তিনবার আর পাঁচ উইকেট পেয়েছিলেন পাঁচবার। এছাড়া ১০ উইকেটের দেখা পেয়েছিলেন তিনবার। ১৯৬৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন আলফ্রেড ফ্রিম্যান।

৫. মুশফিকুর রহিম
মুশফিকের উচ্চতা ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি। ২০০৬ সালে বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডে ও টি-টুয়েন্টিতে অভিষেক হয় মুশফিকের। ৬২ টেস্টে ১১৬ ইনিংস খেলে মুশি করেন ৩৬৯৯ রান। ওয়ানডেতে ১৮৭ ম্যাচ খেলে ১৭৩ ইনিংসে ৪৮২৮ রান করেন। এছাড়া টি-টুয়েন্টিতে ৭৪ ম্যাচে ৬৬ ইনিংসে ১১৩১ রান করেছেন তিনি। এছাড়াও তিন ফরম্যাটে ৩৪৯টি ডিসমিসাল রয়েছে মুশফিকের।

৬. কেদার যাদব
২০১৪ সালে ভারতের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় কেদার যাদবের। ভারতের ২০১৯ বিশ্বকাপ দলেও জায়গা করে নিয়েছিলেন এই ক্রিকেটার। ওয়ানডে ক্রিকেটে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং এর জন্য পরিচিত তিনি।
এই ফরম্যাটে তার ব্যাটিং স্ট্রাইক রেট ১০৩। সবমিলিয়ে ভারতের হয়ে খেলা ৫৯ ওয়ানডে ম্যাচে ৪৩ গড়ে করেছেন প্রায় ১১০০ রান। এছাড়া তার ঝুলিতে আছে ২৭ টি উইকেটও। অথচ এই ক্রিকেটারের উচ্চতাও মাত্র পাঁচ ফুট চার ইঞ্চি। যদিও এই মুহূর্তে ভারত দল থেকে ছিটকে পড়েছেন তিনি।

৭. মুমিনুল হক
তার উচ্চতা ৫ ফুট ৩.৫ ইঞ্চি। ২০১২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে ও টি-টুয়েন্টিতে অভিষেক হয় মুমিনুলের। ২৯ টেস্টে ৫৪ ইনিংসে ২১৭০ রান করেছেন তিনি। ওয়ানডে ফরম্যাটে ২৬ ম্যাচে ২৪ ইনিংসে ৫৪৩ রান এবং টি-টুয়েন্টিতে মাত্র ৬ ম্যাচ খেলে সংগ্রহ করেছেন ৬০ রান। মুমিনুল হক বর্তমানে বাংলাদেশ টেস্ট দলের অধিনায়ক।

৮. পার্থিব প্যাটেল
তার উচ্চতা ৫ ফুট ৩.৭৫ ইঞ্চি। ভারতের এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান টেস্টে ৩৮ ইনিংসে ৯৩৪ রান, ওয়ানডেতে ৩৪ ইনিংসে ৭৩৬ রান এবং টি-টুয়েন্টিতে দুই ইনিংসে ৩৬ রান সংগ্রহ করেছেন। এছাড়াও তিন ফরম্যাটে ১১২টি ডিসমিসাল এই উইকেটরক্ষকের।

৯. গুন্ডাপ্পা বিশ্বনাথ
তার উচ্চতা ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি। ভারতের এই ব্যাটসম্যান এক সময় ভারত দলের নিয়মিত ও অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান ছিল। ক্যারিয়ার শেষের আগে ৯১ টেস্টে ৬০৮০ রান এবং ২৫ ওয়ানডেতে ৪৭৯ রান করেন তিনি।

১০. আলভিন কালীচরণ
তার উচ্চতা ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি। আলভিন কালীচরণ হলেন একজন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৬৬টি টেস্ট এবং ৩১টি ওডিআই ম্যাচ খেলেছেন। তবে তার ঘরোয়া ক্রিকেট অসাধারণ ছিল, যেখানে তিনি ৫০৫টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেন।

১১. টাটেন্ডা টাইবু
তার উচ্চতা ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি। টাটেন্ডা টাইবু জিম্বাবুয়ের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়দের মধ্যে একজন। ২০০৪ সালে সর্বকনিষ্ঠ অধিনায়ক হিসেবে কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন। তিনি জিম্বাবুয়ের চতুর্থ সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক এবং দ্বিতীয় সফল উইকেট রক্ষক।

১২. ক্রুজার ফন উইক
তার উচ্চতা ৪ ফুট ৯ ইঞ্চি। ২০১২ সালের ৭ মার্চে নিউজিল্যান্ডের হয়ে প্রথম আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার সুযোগ হয় এই ক্রিকেটারের। মাঠে নেমেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে উচ্চতায় সবচেয়ে খাটো ক্রিকেটার হিসেবে নাম লেখান। নিউজিল্যান্ডের হয়ে মাত্র নয় টেস্ট খেলেছিলেন তিনি। নয় টেস্টে ১৭ ইনিংসে ২১.৩১ গড়ে ৩৪১ রান করেছিলেন ক্রুজার ফন উইক।
সোনালীনিউজ/এআর
আপনার মতামত লিখুন :