ছবি: সংগৃহীত
চলতি ফেব্রুয়ারিতে একের পর এক ভূমিকম্পে কেঁপে উঠছে দেশ। মাসের প্রথম দিন থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাত্র ২৬ দিনের ব্যবধানে মোট আটবার ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। সর্বশেষ বুধবার রাত ১০টা ৫১ মিনিট ৪৯ সেকেন্ডে মিয়ানমারে সৃষ্ট ৫ দশমিক ১ মাত্রার একটি ভূমিকম্পের কম্পন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় টের পাওয়া যায়।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, সর্বশেষ ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের গভীরে। ইউরো-মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, কম্পনটি আঘাত হানে ইউটিসি সময় ১৬টা ৫১ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডে। এর কেন্দ্র ছিল মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলে, মোনইয়া শহর থেকে প্রায় ১১০ কিলোমিটার উত্তর-উত্তরপশ্চিমে এবং মাওলাইকের প্রায় ৭৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে। গভীরতায় উৎপত্তি হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। রাজধানী ঢাকায় কয়েক সেকেন্ডের জন্য হালকা কম্পন অনুভূত হয়।
ফেব্রুয়ারির শুরু থেকেই ধারাবাহিকভাবে কম্পন অনুভূত হচ্ছে। ১ ফেব্রুয়ারি সিলেট অঞ্চলে ৩ মাত্রার মৃদু ভূমিকম্প দিয়ে মাসের ভূকম্পন শুরু। ৩ ফেব্রুয়ারি একই দিনে তিনবার কেঁপে ওঠে দেশ। এর মধ্যে সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ৪ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প এবং মিয়ানমারে ৫ দশমিক ৯ ও ৫ দশমিক ২ মাত্রার দুটি কম্পন ছিল। ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি সিলেটের গোয়াইনঘাটে যথাক্রমে ৩ দশমিক ৩ ও ৪ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ১৯ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের ছাতকে ৪ দশমিক ১ মাত্রার আরেকটি ভূকম্পন হয়। সব মিলিয়ে ২৬ দিনে আটবার কেঁপেছে দেশ।
ঘন ঘন এই কম্পনে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত ২১ নভেম্বর ৫ দশমিক ৭ মাত্রার একটি ভূমিকম্পে ঢাকাসহ দেশে ১০ জনের মৃত্যু এবং শতাধিক মানুষ আহত হন। বহু ভবনে ফাটল ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে। সেই অভিজ্ঞতা এখনও তাজা থাকায় নতুন করে আতঙ্ক বাড়ছে।
ভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার গণমাধ্যমকে বলেন, ছোট ও মাঝারি মাত্রার ঘন ঘন ভূমিকম্প বড় ধরনের কম্পনের পূর্বলক্ষণ হতে পারে। ভূত্বকের নিচে দীর্ঘদিন শক্তি সঞ্চিত থাকলে তা হঠাৎ বড় আকারে মুক্তি পেতে পারে। ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় এ অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ। ছোট কম্পনগুলো ভূগর্ভে অস্থিরতার ইঙ্গিত দেয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে ভূমিকম্প মোকাবিলার প্রস্তুতি এখনও মূলত উদ্ধার তৎপরতার মধ্যে সীমাবদ্ধ। ঝুঁকি কমাতে বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে অনুসরণ, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা প্রস্তুত, নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত মহড়ার বিকল্প নেই। অন্যথায় বড় কোনো ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ভয়াবহ হতে পারে।
এসএইচ
আপনার মতামত লিখুন :