• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২০, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
Sonalinews.com

এবারো পতিত ৪৩ লাখ হেক্টর জমি অনাবাদি থাকার শঙ্কা


নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ২৪, ২০২০, ১১:২৯ এএম
এবারো পতিত ৪৩ লাখ হেক্টর জমি অনাবাদি থাকার শঙ্কা

ঢাকা : অনাবাদি জমিকে কীভাবে আবাদের আওতায় আনা যায়, সে বিষয়ে মানুষকে উৎসাহিত করা ছাড়া সরকারের তথা কৃষি বা ভূমি মন্ত্রণালয়ের সুনির্দিষ্ট কোনো কর্মপরিকল্পনা নেই।

১৯৫০ সালের রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন অনুযায়ী, কোনো জমি তিন বছর পতিত রাখলে সে জমিকে স্থানীয় প্রশাসন খাস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষমতা রাখে। তবে সরকার এ মুহূর্তে সেদিকে যেতে চাচ্ছে না। বর্তমানে দেশে পতিত জমির পরিমাণ ৪৩ লাখ ৯ হাজার ৩৩১ হেক্টর।

করোনা মহামারীর কারণে বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে বলে আশংকা করছেন বিশেষজ্ঞরা। কোনো কোনো অঞ্চলে দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে বলেও আভাস দিচ্ছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে এক ইঞ্চি জমিও যাতে অনাবাদি পড়ে না থাকে, সে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কৃষি জমির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

১৬ অক্টোবর বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সেমিনারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক ইঞ্চি জমিও কেউ ফেলে রাখবেন না। গাছ লাগান, ফল লাগান, তরিতরকারি লাগান। যে যা পারেন কিছু লাগিয়ে উৎপাদন বাড়ান। যখনই করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা গিয়েছে, তখনই আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি খাদ্য উৎপাদনে। আমাদের খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে হবে। খাদ্যের নিশ্চয়তা রাখতে হবে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) রিপোর্ট অন অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল স্ট্যাটিসটিকস-২০১৮’ শীর্ষক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে পতিত জমির মোট পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি ৮৫ লাখ ১৫ হাজার শতক বা ৪৩ লাখ ৯৩৩১ হেক্টর (২৪৭ শতকে এক হেক্টর)। মোট ব্যবহূত জমির পরিমাণ ২২৬ কোটি ৫১ লাখ ৭৪ হাজার শতক। পরিবারপ্রতি জমির পরিমাণ প্রায় ৮২ শতক। এসব জমির মধ্যে বসতবাড়ি, পুকুর, স্থায়ী ফসলি জমি, অস্থায়ী ফসলি জমির পাশাপাশি পতিত জমিও রয়েছে। এর মধ্যে পতিত জমি রয়েছে দুই ধরনের। অস্থায়ী এবং স্থায়ী পতিত জমির পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি ৮৫ লাখ ১৫ হাজার শতক।

যেসব জমিতে চলতি বছরে আবাদ বা কোনো ধরনের শস্য উৎপাদন হয়নি, কিন্তু তার আগের বছরে জমিটিতে আবাদ হয়েছে সেগুলোকে বলে অস্থায়ী পতিত জমি। এমন জমির পরিমাণ প্রায় এক কোটি ৫৩ লাখ ৫৫ হাজার শতক। পরিবারপ্রতি এ ধরনের জমি রয়েছে গড়ে প্রায় এক শতক। অন্যদিকে কখনই কোনো ধরনের আবাদ হয়নি বা শস্য উৎপাদন হয়নি এমন জমিকে বলা হয় স্থায়ী পতিত জমি। এর পরিমাণ প্রায় ৯ কোটি ৩১ লাখ ৫৯ হাজার শতক। পরিবারপ্রতি এ ধরনের পতিত জমি রয়েছে গড়ে প্রায় তিন শতক।

পতিত জমির বেশিরভাগ মালিক এলাকায় বসবাস করেন না। তারা চাকরির কারণে হোক, আর ব্যবসার কারণেই হোক, নিজের বসতবাড়ি বা নিজের মালিকানাধীন জমি থেকে দূরে বসবাস করেন। ফলে এসব জমির বেশিরভাগই সারাবছর অনাবাদি রয়ে যায়। কিছু জমি মাঝেমধ্যে চাষাবাদ হলেও তা তেমন উল্লেখযোগ্য নয়। আশংকা রয়েছে, এসব জমি এবছরও অনাবাদি থাকতে পারে।

এসব জমি আবাদের আওতায় আনতে সরকার কোনো পদক্ষেপ নেবে কিনা জানতে চাইলে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সদ্যবিদায়ী সচিব মোহম্মদ নাসিরুজ্জামান বলেন, মালিককে তার জমি চাষাবাদের জন্য অনুরোধ করা যায়, উৎসাহ দেওয়া যায়, প্রয়োজন হলে সহযোগিতাও করা যায়, কিন্তু জোর করা যায় না। তিনি তার জমি চাষাবাদের জন্য কাকে দেবেন, সেটি তার সিদ্ধান্ত। সেখানে সরকারের পক্ষে জোর করার তো কিছু নাই।

সরকারের পক্ষ থেকে প্রতি ইঞ্চি জমি আবাদের আওতায় আনতে সবধরনের সহযোগিতার জন্য সরকার তথা কৃষি বিভাগের উপজেলা এমনকী ইউনিয়ন পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে এসব পতিত জমির মালিকেরা নিশ্চয়ই তাদের অব্যবহূত জমি চাষাবাদের জন্য কাউকে না কাউকে দায়িত্ব দেবেন এটি আমাদের বিশ্বাস। আশা করছি, এবছর কোনো জমি অব্যবহূত পড়ে থাকবে না। কৃষকদের সরকারি প্রণোদনা কার্যক্রমের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে, যাতে প্রতি ইঞ্চি জমি আবাদের আওতায় আসে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব মাকছুদুর রহমান পাটওয়ারী বলেন, জমি চাষাবাদের আওতায় আনা না আনার বিষয়টি দেখভাল করে কৃষি মন্ত্রণালয়। এক্ষেত্রে ভূমি মন্ত্রণালয়ের কাজ খুব বেশি নাই। তার পরেও কোনো অনাবাদি জমি চাষাবাদের আওতায় আনতে যদি কোনো কাগজপত্রের প্রয়োজন হয় সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরকে ওইসব কাগজপত্র দ্রুত সরবরাহ দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। আমরাও আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে সবাইকে প্রতি ইঞ্চি জমি চাষাবাদের আওতায় আনার জন্য সবধরনের উৎসাহ-উদ্দীপনা দিয়ে যাচ্ছি।

উল্লেখ্য, বিবিএসের সর্বশেষ তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে বসতবাড়ি রয়েছে ২১ কোটি ২৯ লাখ ৬৩ হাজার শতক। পরিবারপ্রতি বসতবাড়ি জমির পরিমাণ প্রায় আট শতক। পুকুর রয়েছে পাঁচ কোটি ৫৪ লাখ ৮১ হাজার শতক জমিতে। পরিবারপ্রতি পুকুরের জমির পরিমাণ প্রায় দুই শতক। স্থায়ী ফসল (যেমন ফল, বাগান) বা জীবনকাল এক বছরের বেশি এমন ফসলের আবাদি জমির পরিমাণ ১২ কোটি ৩৪ লাখ ৩৮ হাজার শতক। অস্থায়ী ফসলি (জীবনকাল এক বছরের নিচে এমন) জমির পরিমাণ ১৭৬ কোটি ৪৭ লাখ ৭৭ হাজার শতক। মূলত নিয়মিত যেসব কৃষিশস্য বা ফসল আবাদ করা হয় এমন জমিগুলোকেই অস্থায়ী ফসলি জমি বলা হয়। পরিবারপ্রতি এমন জমির পরিমাণ প্রায় ৬৪ শতক।

দেশে চাষযোগ্য ফসলি জমি এখন প্রায় ১৭৮ কোটি ১ লাখ ৩৩ হাজার শতক। পরিবারপ্রতি ফসলি জমির পরিমাণ প্রায় ৬৫ শতক। এর মধ্যে একফসলি জমি এখনো ৫০ কোটি ৪৮ লাখ ৪৬ হাজার শতক। দোফসলি জমির পরিমাণ ১০৫ কোটি ৫৬ লাখ ১১ হাজার শতক। এছাড়া তিনফসলি জমি রয়েছে ২০ কোটি ৬২ লাখ শতক। চারফসলি জমি রয়েছে এক কোটি ৩৪ লাখ ৭১ হাজার শতক।

সোনালীনিউজ/এমটিআই

Side banner