• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২১, ১৩ মাঘ ১৪২৭
রয়টার্সের প্রতিবেদন

বাংলাদেশ থেকে টিকার দাম বেশি নিচ্ছে সেরাম


নিউজ ডেস্ক জানুয়ারি ১৩, ২০২১, ১২:৪২ পিএম
বাংলাদেশ থেকে টিকার দাম বেশি নিচ্ছে সেরাম

ঢাকা : অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার উদ্ভাবিত করোনার ভ্যাকসিন বা টিকার প্রতি ডোজ চার ডলার মূল্যে বাংলাদেশকে সরবরাহ করবে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট (এসআইআই)।

বাংলাদেশি মুদ্রায় এর দাম পড়বে প্রায় ৩৪০ টাকা। অথচ সেরাম ভারতে ২.৭২ ডলারে বা ২০০ রুপি (বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৩০.৯৪ টাকা) প্রতিডোজ টিকা ভ্যাকসিন বিক্রি করবে।

এ হিসাবে সেরাম বাংলাদেশের কাছে প্রতি ডোজ টিকা ভারতের চেয়ে প্রায় দেড়গুণ (৪৭ শতাংশ) বেশি দামে বিক্রি করছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অন্তত তিনটি সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।

গত নভেম্বরে করোনার টিকার জন্য সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী, সেরাম প্রতি মাসে ৫০ লাখ করে ছয় মাসে বাংলাদেশকে তিন কোটি ডোজ টিকা দেবে। তবে সেরাম কত দামে সেই টিকা বাংলাদেশের কাছে বিক্রি করছে তা এত দিন অজানা ছিল।

সংশ্লিষ্ট অন্তত ৩টি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, বাংলাদেশ সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে প্রতিটি টিকা  কিনছে ৪ ডলারে। ভারত যে দামে টিকা পাচ্ছে, এ মূল্য তার থেকে ৪৭ শতাংশ বেশি। এ তিন সূত্রের একটি রয়টার্সকে বলেছে, বাংলাদেশের জন্য টিকার প্রতি ডোজের গড় মূল্য তিন ডলার করে হওয়া উচিত ছিল।

তবে বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে কোনো সূত্রই নাম প্রকাশ করে কোনো কিছু জানাতে রাজি হননি। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য সচিব কেউই এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রয়টার্সের ফোন কলে সাড়া দেননি। ভারতের পরিকল্পনা অনুযায়ী ৩০ কোটি মানুষকে টিকা প্রয়োগ করতে ৬০ কোটি ডোজ টিকার প্রয়োজন পড়বে। আর বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পরিমাণ টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সেরাম ইনস্টিটিউট ইতোমধ্যে পাঁচ কোটি ডোজ টিকা ভারতে সরবরাহের জন্য মজুত করে ফেলেছে।

ধারণা করা হচ্ছে ভারতের চাহিদার ৯০ শতাংশই পূরণ হবে অক্সফোর্ডের টিকার মাধ্যমে। ভারতের বিপুল চাহিদার কারণে দেশটি অপেক্ষাকৃত কম দামে দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সেরাম।  অ্যাস্ট্রাজেনেকা, গেটস ফাউন্ডেশন এবং জাভি ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্সের সহযোগিতার সেরাম ১০০ কোটি ডোজেরও বেশি টিকা নিম্ন আয়ের দেশগুলোর জন্য সরবরাহ করবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ৩০২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে সাত হাজার ৮০৩ জনের। সোমবার বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চলতি মাসের ২১ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে সেরামের কোভিশিল্ড ভ্যাকসিন দেশে পৌঁছাবে। আর ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে সেই ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু হবে। প্রথম ধাপে ভ্যাকসিন পাবেন দেশের ৫০ লাখ মানুষ।

সোনালীনিউজ/এমটিআই