• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১

ক্রেতাশূন্য বইমেলায় অদ্ভুত নীরবতা


নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৭, ২০২১, ১১:১৭ পিএম
ক্রেতাশূন্য বইমেলায় অদ্ভুত নীরবতা

ঢাকা : করোনাভাইরাস মহামারীতে দেশে লকডাউনের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) সুনসান নীরবতা চলে বইমেলায়।

এদিন দুপুর সাড়ে ১২টায় মেলা শুরু হলেও ক্রেতাশূন্য পরিবেশ ছিল বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে। দুপুরের তপ্ত রোদে ক্রেতাদের অপেক্ষায় ছিলেন স্টল ও প্যাভিলিয়নগুলোতে থাকা বিক্রয়কর্মী, প্রকাশকরা। গুটি কয়েক ক্রেতা দেখা গেলেও তারা বিভিন্ন জায়গায় জড়ো হয়ে আড্ডাই দেন শুধু।

এ ছাড়া গত রোববারের হঠাৎ ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে যাওয়া স্টলগুলো মেরামত করতে দেখা যায় এদিন। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কিছু কিছু স্টল বন্ধ থাকতেও দেখা যায়। ভিজে যাওয়া বইগুলো মাঠে এনে শুকান বিক্রয়কর্মীরা। কয়েকটি প্রকাশনীতে গিয়ে আবার দেখা যায় বিক্রয়কর্মীরা কেউ ঝিমান, কেউ বই গোছান। বইমেলা ঘুরে দেখা যায় এমন চিত্র।

ডেইলি স্টার বুকসের বিক্রয়কর্মী তৌফিক মেসবাহ বলেন, ‘লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধ রেখে বইমেলা চালু রাখা একদমই অযৌক্তিক। যেখানে দূর-দূরান্ত থেকে বিক্রয়কর্মীরাই আসতে পারছে না, সেখানে পাঠক আসার সুযোগ কোথায়? গতকাল সারা দিন বসে থেকে মাত্র একটা বই বিক্রি হয়েছে। আশপাশে অন্যদের তো হচ্ছেই না। এভাবে মেলা চলার থেকে না চলাই ভালো।’

প্রথমা প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী সফিকুর রহমান বলেন, ‘দুপুর ১২টায় স্টলে এসেছি এখন পর্যন্ত দু-একজন ক্রেতা এসেছে। বিকাল ৪টার সময় কিছু ক্রেতা আসতে পারে। লকডাউন অবস্থায় বইমেলায় ক্রেতা আসবে কীভাবে? আমরা নিজেরাই হেঁটে, রিকশায় করে অনেক কষ্টে এসেছি।’

রাজধানীর শনিরআখড়া থেকে তিন বন্ধু আসেন বইমেলায়। তারা জানান, ‘লকডাউনের মধ্যে মেলায় আসতে অনেক কষ্ট হয়েছে। পথে পুলিশের বাধার সম্মুখীন হয়েছি বারবার। একটু রিকশায়, একটু হেঁটে বইমেলায় এসেছি। বইমেলা চলা অবস্থায় লকডাউনের কোনো মানেই হয় না।’

ত্রয়ী প্রকাশনীর প্রকাশক মাধব কুণ্ড বলেন, ‘লকডাউনে বইমেলা চলছে, আমরা এমন অবস্থায় আছি। বন্ধ ও রাখতে পারছি না, আবার খুললেও বেচা-বিক্রি হচ্ছে না। লকডাউনে মানুষ আসবেও বা কীভাবে? সবার তো পারসোনাল গাড়ি নেই। সবাই তো রিকশায় করে বইমেলায় আসতে পারবে না। ক্ষতির সম্মুখীন তো হয়েছি, তবু বইমেলার প্রতি আমাদের আবেগ রয়েছে, অনুভূতি রয়েছে তাই স্টল খোলা রেখেছি।’

মেলায় স্ত্রী ও তিন মেয়েকে নিয়ে এসেছিলেন সাংবাদিক নাঈমুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, ব্যস্ততার কারণে বইমেলায় আসা হয় না। লকডাউন সে সুযোগ এনে দিয়েছে। তিনি বলেন, মেলা ঘুরে প্রকাশকদের কষ্টটাও চোখে পড়ল। সংস্কৃতি খাতে যে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা কম সেটাও উপলব্ধি করলাম। লকডাউনে মেলা সেভাবে জমবে না সেটা সবার জানা।

ফলে ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে প্রকাশকদের বিক্রি অনুযায়ী সরকার বইমেলায় অংশ নেওয়া প্রতিটি প্রকাশকদের থোক অনুদান দিতে পারত। সেটা এমন খুব বেশি টাকা নয়, যা সরকার দিতে পারে না।

সোনালীনিউজ/এমটিআই

Wordbridge School
Link copied!