• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৯ আশ্বিন ১৪২৮
abc constructions

শয্যা ফাঁকা নেই, রোগী নিয়ে বিপাকে স্বজনরা


নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ২৫, ২০২১, ১২:১১ পিএম
শয্যা ফাঁকা নেই, রোগী নিয়ে বিপাকে স্বজনরা

ঢাকা : ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা ইউনিটে ৭০৫টি সাধারণ শয্যা রয়েছে। সেখানে রোগী ভর্তি আছেন ৭২৪ জন। অর্থাৎ শয্যার বাইরে  আরো ১৯ রোগী ভর্তি রয়েছেন।

এছাড়া হাসপাতালের ২০টি আইসিইউ শয্যার একটিও খালি নেই। কুর্মিটোলায় আইসিইউ না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন করোনা রোগীরা। একই অবস্থা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ)।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজমুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, যে পরিমাণ আইসিইউ আছে, সেগুলো ফাঁকা থাকার সুযোগ নেই। আজ এখানে রোগী ভর্তি আছে ৭২৪ জন। বিছানা খালি না থাকায় নতুন করে কোনো রোগী নিতে পারছি না। প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০টা নতুন করোনা রোগী আসে। শয্যা না থাকার পরও কিছু রোগী ভর্তি নিতে হয়। কিছু ক্রিটিক্যাল রোগী শেখ হাসিনা বার্নে স্থানান্তর করতে হয়।

এদিকে শয্যা ফাঁকা না থাকায় রোগী নিয়ে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে স্বজনদের। দূর-দূরান্ত থেকে রোগী নিয়ে এসে তারা কোথায় যাবেন, কী করবেন বুঝে উঠতে পারছেন না। ফলে রোগী নিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে তাদের।

সিরাজগঞ্জের বাসিন্দা মুজিবুল হক। পুরনো রোগ ডায়াবেটিসের সঙ্গে কয়েকদিন ধরে যোগ হয়েছে জ্বর। হালকা জ্বর থাকায় প্রথম দিকে জ্বরের সাধারণ ওষুধ খেয়েছিলেন। কিন্তু কিছুতেই জ্বর ভালো হচ্ছিল না। পরে টেস্ট করালে গত পরশু রিপোর্টে তার করোনা পজিটিভ আসে। শারীরিক অবস্থা খারাপ হয়ে গেলে শনিবার (২৪ জুলাই) সকালে মুজিবুলকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে আসেন বড় ছেলে রকনুজ্জামান মিয়া।

রকনুজ্জামান তিনি বলেন, হঠাৎ করে বাবার শরীর খারাপ হয়ে যায়। সিরাজগঞ্জ থেকে এখানে ভর্তি করাতে নিয়ে এসেছি, কিন্তু সিট ফাঁকা পাচ্ছি না। হাসপাতালের লোকজন বলেছে, অপেক্ষা করতে। কিন্তু কখন সিট খালি হবে সেটা বলতে পারছে না।

গত শুক্রবার রাতে নিজের খালাকে ঢামেকে ভর্তি করান পুরান ঢাকার বাসিন্দা আব্দুল মোতালেব। শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় মোতালেবের খালাকে গতকাল থেকে আইসিইউতে স্থানান্তরের চেষ্টা চলছে। কিন্তু কিছুতেই ব্যবস্থা করতে পারছেন না।

মোতালেব বলেন, খালার অবস্থা ভালো না। শুক্রবার রাত থেকে চেষ্টা করছি আইসিইউতে নেওয়ার। ওরা বলছে, ব্যবস্থা করে দেবে। কিন্তু এখনও পাচ্ছি না। খালার অ্যাজমা আছে, যার জন্য ভয়টা বেশি।

হাসপাতালের ৭ম তলায় কথা হয় সখিনা বেগমের সঙ্গে। তিনি জানান, মায়ের অবস্থা ভালো না। সিট পেতে খুব কষ্ট করতে হয়েছে। তিনদিন ধরে আইসিইউতে নেওয়ার জন্য চেষ্টা করছি, কিন্তু ফাঁকা পাচ্ছি না।

আইসিইউ সংকটের চিত্র দেখা গেল রাজধানীর করোনা বিশেষায়িত কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালটিতে কোভিড রোগী ভর্তি করার সক্ষমতা ৩০০ হলেও বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন ৩৪৩ জন রোগী। আইসিইউ বেড রয়েছে ১০টি। বর্তমানে কোনো আইসিইউ বেড খালি নেই। সব সিটেই করোনা রোগীতে ভর্তি আছে।

এছাড়া হাসপাতালটিতে বাংলাদেশের খবর করোনার চিকিৎসার জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডার রয়েছে ৪৩৯টি, হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলার সংখ্যা ৫৭টি ও অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটরের রয়েছে ৩৯টি।

গতকাল হাসপাতালটিতে সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে অনেক রোগী শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে হাসপাতালের সামনে বসে আছেন। হাসপাতালে ধারণ ক্ষমতার বেশি রোগী চলে আসায় তাদেরও ভর্তি হতে সমস্যা হচ্ছে।

দুপুর ১২টার দিকে হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগে অ্যাম্বুলেন্স থেকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় এক বৃদ্ধকে তার ছেলে ও চালক নামিয়ে একটি হুইল চেয়ারে বসান। ওই ব্যক্তিকে প্রচণ্ড শ্বাসকষ্টে ভুগতে দেখা গেছে।

হুইল চেয়ারে করে বৃদ্ধকে তার ছেলে এবং অ্যাম্বুলেন্স চালক হাসপাতালের ভর্তি কাউন্টারে নিয়ে যান। সেখানে কিছুক্ষণ কথা বলার পর ওই ব্যক্তিকে তার ছেলে ও চালক আবার অ্যাম্বুলেন্সে তোলেন। তখন ওই বৃদ্ধের শ্বাসকষ্টের মাত্রা কিছুটা বেড়ে যেতে দেখা যায়।

বৃদ্ধের ছেলে কাজী হোসাইনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা বাবার নাম মোশারফ হোসাইন। তারা মিরপুরের বাসিন্দা। তার বাবা গত চার দিন ধরে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মিরপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

কিন্তু আজ তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় সেই হাসপাতালে আইসিইউ না থাকায় এখানে (কুর্মিটোলা) নিয়ে আসেন। কিন্তু কুর্মিটোলায় এসেও তাদের নিরাশ হতে হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে এখানে কোনো আইসিইউ বেড খালি নেই।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের করোনা ইউনিটে সাধারণ শয্যা রয়েছে ২৪০টি আর আইসিইউ শয্যা ২০টি। বর্তমানে কোনো আইসিইউ শয্যা খালি নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতলের এক কর্মকর্তা বলেন, কোনো রোগী সুস্থ হয়ে বের হয়ে গেলে বা মারা গেলে সাধারণত আইসিইউ খালি হয়। না হলে আইসিইউ খালি পাওয়া দুষ্কর। এক্ষেত্রে কোনো রোগীর অবস্থা বেশি খারাপ হলেও আমাদের কিছু করার থাকে না।

এবিষয়ে জানতে চাইলে বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, আমাদের অনেক রোগী ম্যানেজ করতে হয়। ইউনিটের পাশাপাশি ফিল্ড হাসপাতাল ও ফিভার ক্লিনিকে এসব রোগী ম্যানেজ করছি।

সোনালীনিউজ/এমটিআই

Haque Milk Chocolate Digestive Biscuit
Dutch Bangla Bank Agent Banking
Wordbridge School
Sonali IT Pharmacy Managment System