• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

সরকারি কর্মচারীদের স্মারকলিপি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রেরণ 


নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ৫, ২০২২, ০৩:২৯ পিএম
সরকারি কর্মচারীদের স্মারকলিপি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রেরণ 

ঢাকা: নবম জাতীয় পে-স্কেল, বেতন বৈষম্য নিরসন, ৫০শতাংশ মহার্ঘ ভাতা, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড পূনর্বহাল এবং শতভাগ পেনশন ব্যবস্থা চালুসহ ৭ দফা দাবিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্মারকলিপি দিয়েছেন সরকারি কর্মচারীরা।

স্মারকলিপির বিষয়ে সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রেরণ করেছেন নেত্রকোণার জেলা প্রশাসক (ডিসি) অঞ্জনা খান মজলিস।

এর আগে রোববার (২ অক্টোবর) একযোগে সারাদেশের জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর এ স্মারকলিপি প্রদান করেন নিম্ন গ্রেডের (১১-২০) সরকারি কর্মচারীরা।

স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, যথাযথ শ্রদ্ধা ও সম্মান পূর্বক সবিনয় নিবেদন এই যে, বাংলাদেশ সরকারী কর্মচারি দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ এর পক্ষ থেকে আপনাকে জানাই ছালাম, আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী, মহান স্বাধীনতার স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। যিনি একটি শোষনহীন, বৈষম্যমুক্ত সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমাদের একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র উপহার দিয়েছেন। তারই লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়নে আপনি প্রাণপন চেষ্টা করে যাচ্ছেন। 

আপনার সদয় অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, আপনার বাবার নিম্ন-বেতনভূক্ত কর্মচারীদের প্রতি অগাধ ভালবাসায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত অবস্থায় চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের স্বপক্ষে কথা বলতে গিয়ে ছাত্রত্ব হারিয়ে ছিলেন এবং তিনি চেয়েছিলেন অসহায়, দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানের লক্ষ্যে বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থা। জাতির জনকের প্রতি আমাদের অকৃত্রিম ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আমরা আপনার সানুগ্রহ সহানুভূতির জন্য স্মারকলিপির মাধ্যমে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারিদের প্রত্যাশিত বিষয়গুলো তুলে ধরছি। আমরা সারাদেশের ১১-২০ গ্রেডের সকল কর্মচারী সকল প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মানবিক বিপর্যয়সমুহতে নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আর্তমানবতার সেবা ও দেশের সকল উন্নয়ন কাজের সাথে সম্পৃক্ত থেকে নিস্বার্থভাবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত প্রজাতন্ত্রের সকল কর্মচারী আপনার লালিত স্বপ্ন বাংলাদেশকে একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্র তথা উন্নত সমৃদ্ধ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে হাতে হাত রেখে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আমরা আপনার নিকট অত্যন্ত কৃতজ্ঞ যে, ২০১৫ সালে প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বেতন স্কেলসহ
নানাবিধ সুবিধা দিয়েছেন। কিন্তু, অত্যন্ত দুঃখের বিষয় কোন অদৃশ্য কারনে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় স্বাধীনতার ৫১ বছর পূর্ণ হলেও ১১-২০ গ্রেডভূক্ত কর্মচারীগণ আজ বেতন ও পদবীর ক্ষেত্রে চরম বৈষম্যের অবসান ঘটেনি। আমরা ১১-২০ গ্রেডের সরকারি কর্মচারিরা বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ বৃদ্ধি, পরিবারের চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধি, পরিবারের ভরণ-পোষণের ব্যয় বৃদ্ধি ও সেবা খাতের ব্যয় বৃদ্ধির দরুণ আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। ইতোমধ্যে বৈশ্বিক কোভিড-১৯, মহামারি ও রাশিয়া ইউক্রেনসহ অন্যান্য দেশের মধ্যে যুদ্ধের কারণে এর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশে। যার ফলে দ্রব্যমূল্য কয়েকগুন বৃদ্ধি পেয়েছে ও সেবামূল্যও আকাশচুম্বি রুপ ধারন করেছে অথচ নিম্ন গ্রেডের কর্মচারিদের বাৎসরিক বেতন বৃদ্ধি ৫% হিসেবে বহাল রয়েছে অথচ ২০১৫ সনের প্রদানকৃত ৮ম পে-স্কেলে বাৎসরিক মুদ্রাস্ফীতির সাথে সংগতি রেখে বাৎসরিক বেতন বৃদ্ধির বিষয় সমন্বয় করার কথা লিপিবদ্ধ থাকলেও তার বাস্তবায়ন হয়নি।

মমতাময়ী মা,
বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫ নং অনুচ্ছেদে নাগরিকদের যুক্তি সংগত মজুরীর বিনিময়ে কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তার বিষয়টি রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হিসাবে বলা হয়েছে। একজন কর্মচারীর পরিবারে ৬ জন সদস্য বিবেচনায় সর্বনিম্ন বেতন ৮২৫০ টাকায় ৩ বেলা খাবার মাথা গোঁজার ঠাই, চিকিৎসা, সন্তানের শিক্ষা, অতিথি আপ্যায়ন ও বিনোদন ব্যয় মিটিয়ে মানবিক ও সামাজিক মর্যাদা নিয়ে জীবন ধারন সম্ভব কিনা আপনিই বলুন। এছাড়া ২০ থেকে ১১ গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন ৮২৫০ টাকা থেকে শুরু হয়ে ১২৫০০ টাকায় শেষ হয়েছে। এই ১০ গ্রেডের বেতন স্কেলের মোট পার্থক্য ৪২৫০ টাকা একই সময়ে ১০ থেকে ১ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন ১৬০০০ টাকা থেকে শুরু করে ৭৮০০০ টাকায় শেষ হয়েছে। এদের এই ১০ গ্রেডের বেতন স্কেলের মোট পার্থক্য ৬২০০০ টাকা। এছাড়াও কর্মকর্তাদের রয়েছে গাড়ী, আবাসিক সুবিধা, সুদমুক্ত গাড়ীর ঋন, কুক-মশালচি, দারোয়ানসহ নানাবিধ সুবিধা এমনকি সচিব ও সিনিয়র সচিবদের কুক ও গার্ড পদে লোক নিয়োগ দিয়ে সেবা না নিয়ে প্রতি মাসের বেতনের সাথে ১৬০০০ + ১৬০০০ = ৩২০০০ টাকা করে প্রদান করাসহ একাধিক সুবিধা প্রদান করা হলেও আমাদের নিম্ন-বেতনভূক্ত কর্মচারিদের বেতন-ভাতাদি খাতে কোন সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হয়নি। ১ম ও ১০ম গ্রেডের বেতনের অনুপাত প্রায় ১০৪১। অথচ আমরা প্রত্যেকেই একই বাজার ব্যবস্থার কাঠামোর আওতায় জীবন ধারণ করি, এতে প্রতিদিন শ্রেণী বৈষম্য প্রকট আকার ধারণ করছে। ২০১৫ সালে প্রদত্ত ৮ম পে-স্কেল ইতমধ্যে ৭ বছর পূর্ণ করেছে। সব সময়ই সরকার কোন পে-স্কেল ৪ বছর পূর্ণ হলেই মহার্ঘ ভাতা প্রদান করে থাকে। কিন্তু এ বিষয়ে কোন দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। ৮ম পে-স্কেল ঘোষনার সময় স্থায়ী পে-কমিশন গঠনের কথা বলা হলেও তা অদ্যাবধি বাস্তবায়ন হয়নি এবং মুদ্রাস্ফিতির সাথে সমন্বয় করে বেতনও বাড়ানো হয়নি। বর্ণিত বিষয় বিবেচনায়, ১৯৭৩ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ঘোষনা অনুযায়ী ১০ ধাপে বেতন স্কেল নির্ধারণসহ ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পে-কমিশন গঠন ও উক্ত পে-কমিশনে কর্মচারিদের প্রতিনিধিত্ব প্রদানের জন্য কর্মচারী প্রতিনিধি রাখার প্রয়োজনীয় সদয় হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করছি।

বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা প্রধানমন্ত্রী,
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী সকল নাগরিক চাকুরীর ক্ষেত্রে পদবী অনুযায়ী সকল সুযোগ সুবিধা সমানভাৱে ভোগ করার কথা থাকলেও সচিবালয়ের বাহিরের দপ্তর, অধিদপ্তর ও খায়ৎসাশিত প্রতিষ্ঠানের ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীরা সে সুবিধা থেকে বঞ্চিত। শুধুমাত্র সচিবালয়ের কর্মরত কর্মচারীদের পদনায় ১৯৯৫ সালে পরিবর্তনসহ গ্রেড পরিবর্তন করে তাদের সামাজিক মর্যাদা ও অর্থনৈতিক মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন, হাইকোর্ট এবং রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে কর্মরত কর্মচারীদের পদবী ও গ্রেড পরিবর্তন করা হয়েছে। সর্বশেষ ২০২২ সালে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে কর্মরত কর্মচারীদের পদবী পরিবর্তন করে তাদেরও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয়েছে। অথচ স্বাধীনতার ৫১ বছর পরের স্বাধীন দেশের কর্মচারি হিসেবে সচিবালয়ের ন্যায় সচিবালয়ের বাহিরে অন্যান্য দপ্তর ও অধিদপ্তরের কর্মচারীদের পদনাম বা গ্রেডের কোন পরিবর্তন করা হয়নি। উল্লেখিত বিষয় বিবেচনায় সচিবালয়ের ন্যায় সকল দপ্তর, অধিদপ্তরের পদ-পদবী পরিবর্তনসহ এক ও অভিন্ন নিয়োগবিধি প্রণয়নের জোর দাবি জানাচ্ছি।

হে মানবতাময়ী মা,
আমরা মনে করি ২০১৫ সালে নতুন বেতন কাঠামোয় প্রদত্ত উচ্চতর স্কেল নামে আমাদের সাথে একটি প্রহসন করা হয়েছে, যাতে কর্মচারীরা খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যেমনঃ (যেখানে ১ জন কর্মচারী ১০ বছর ও ১৬ বছর চাকরি করে বেতন মাত্র ১০ টাকা বাড়ে), অথচ টাইম স্কেল সিলেকশন গ্রেড বাতিল করা হয়েছে। আমরা পূর্বের ন্যায় টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড এবং বেতন জ্যেষ্ঠতা প্রদানের দাবী জানাচ্ছি। একই সাথে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ৫% এর স্থলে ২০% এর জোর দাবী জানাচ্ছি।

এছাড়া বিদ্যমান পেনশন নীতিমালা সংশোধন করে পূর্বের ন্যায় শতভাগ পেনশন প্রদান, বিদ্যমান পেনশনের হার ৯০% এর স্থলে ১০০% পুনঃনির্ধারণ ও পেনশন গ্র্যাচুয়িটির হার ১ (এক) টাকায় ২৩০ টাকার স্থলে ৫০০ টাকা নির্ধারনের দাবী জানাচ্ছি।

হে শিক্ষানুরাগী,
আপনার সদয় বিবেচনার জন্য জানাচ্ছি যে, শিক্ষকদের পেশার সম্মান সমুন্নত রাখার নিরিখে মহামান্য সুপ্রিমকোর্টের আপীল বিভাগের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান শিক্ষকদের ও সহকারি শিক্ষকদের নিয়োগবিধি-২০১৯ অনুযায়ী উল্লেখিত রায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সহকারী শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডে এবং প্রধান শিক্ষকদের ৯ম গ্রেডে উন্নীতকরণ একান্ত প্রয়োজন। এছাড়া আউট সোর্সিং পদ্ধতি বাতিল পূর্বক উক্ত পদ্ধতিতে নিয়োগকৃত ও উন্নয়ন খাতের কর্মচারীদের রাজস্বখাতে স্থানান্তর করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।

হে বিশ্ব মানবতার বিবেক,
আমাদের দেশে ব্লক পোষ্টধারী কর্মচারিদের সারা কর্মজীবন একই পদে চাকুরী করে বাড়ী যেতে হয়, নাই কোন
পদোন্নতি বা উচ্চতর গ্রেড। তাই এই ব্লক পোষ্ট পদ বাতিল করে ব্লক পোষ্ট পদে কর্মরত কর্মচারীদের পদোন্নতি বা ৫ বছর পর পর উচ্চতর গ্রেড প্রদান করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি। প্রশাসন ক্যাডারের ৯ম গ্রেডের একজন কর্মকর্তা যোগদান করার সাথে সাথে অটোমেটিক ৮ম গ্রেডে উন্নীত হন এবং পদোন্নতির ক্ষেত্রের ৯ম গ্রেড থেকে তদুর্ধ্ব কর্মকর্তাদের পরবর্তী পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে পদ শূন্য না থাকলেও তাদেরকে সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে পদোন্নতি প্রদান করা হয়। এ পদ্ধতিও একটি দেশে প্রজাতন্ত্রের সকল কর্মচারিদের জন্য সমন্বিত হওয়া প্রয়োজন। ১১ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারীদের এ সুযোগ সীমিত বা নাই বললেই চলে। এ ছাড়া ব্লক পোষ্টে চাকরিরত কর্মচারীরা কোন দিন পদোন্নতি পান না। এ প্রসংগে আমাদের দাবী ১১ থেকে ২০ গ্রেডের সকল পদে কর্মচারিদের পদোন্নতি দেয়া সম্ভব না হলে ৫ বছর পর পর উচ্চতর গ্রেড দেয়ার জন্য জোর দাবী জানাচ্ছি। এছাড়া অধঃস্তন আদালতের কর্মচারীদের বিচার বিভাগীয় কর্মচারী হিসেবে গণ্য করতে হবে এবং টেকনিক্যাল কাজে নিয়োজিত কর্মচারিদের ডিপ্লোমাধারীদের ন্যায় টেকনিক্যাল পদমর্যাদা দিতে অনুরোধ জানাচ্ছি।

গণতন্ত্রের মানস কন্যা,
বর্তমান দ্রব্যমূল্যের বাজারে ১১-২০ গ্রেডভূক্ত কর্মচারিদের পরিবার-পরিজন নিয়ে কেমন অবস্থার মধ্যে দিনাতিপাত করছেন সে বিষয় আপনি অবগত। বর্তমান বাজারে মাসে প্রাপ্ত বেতন ভাতা দিয়ে কোন কর্মচারীই চলতে পারছে না। তাই বর্তমানে প্রদত্ত ভাতাসমূহ যেমনঃ মেডিকেল ভাতা ১৫০০ টাকা স্থলে ৫০০০ টাকা করতে হবে। যাতায়াত ভাতা ৩০০ টাকার স্থলে ৩০০০, টিফিন ভাতা ২০০ স্থলে ৩০০০ টাকা শিক্ষা সহায়ক ভাতা সন্তান প্রতি ৫০০ টাকার স্থলে ২০০০ টাকা করার দাবী জানাচ্ছি। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত কর্মচারীদের জন্য মূল বেতনের ৩০% ঝুঁকি ভাতার দাবী জানাচ্ছি। মাঠ পর্যায়ের কর্মরত কর্মচারীদের ২০% মাঠ ভাতা প্রদানের দাবী জানাচ্ছি। অতিরিক্ত কর্মঘন্টার জন্য ঘন্টা অনুযায়ী অতিরিক্ত ভাতার দাবী জানাচ্ছি। বর্তমানে প্রদত্ত বাড়ী ভাড়া ভাতা ৪০% এর পরিবর্তে ৮০% করার দাবী জানাচ্ছি। এছাড়া বৈশাখী ভাতা ২০% এর পরিবর্তে ১০০% প্রদানসহ স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীকে সম্মান দেখিয়ে আগামী বিজয় দিবস থেকে বিজয় দিবস ভাতা চালুর দাবী জানাচ্ছি। শিক্ষাক্ষেত্রে সেশনজট তথা চাকুরীর দুষ্প্রাপ্যতা বিবেচনায় চাকুরীতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর এবং মেধা প্রজ্ঞা, অভিজ্ঞতা গড় আয়ু বৃদ্ধির বিষয় বিবেচনা করে অবসর গ্রহণের বয়স সীমা ৬২ বছর নির্ধারণ করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।

উল্লেখ্য যে, ইতোপূর্বে আপনার সাথে সচিবালয়ের কর্মচারি সংগঠনের প্রতিনিধিদের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হলেও সচিবালয়ের বাহিরের সংগঠনের কর্মচারী প্রতিনিধিদের সাথে স্বাক্ষাতের নির্ধারিত সূচি থাকা সত্ত্বেও কোন স্বাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়নি। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবী আদায় ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে একাধিকবার আপনার সাক্ষাৎকার চেয়ে আবেদন করেছি।

অতএব, মহোদয় সমীপে বিনীত আরজ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি পরিবারের ভরন পোষণের ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়ে আপনার মহানুভবতায় বিবেচনা করে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পে-কমিশন গঠন, অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে ৫০% মহার্ঘভাতা প্রদানসহ ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য সবিনয়ে অনুরোধ করছি।

সোনালীনিউজ/আইএ

Wordbridge School