• ঢাকা
  • শনিবার, ২৮ মে, ২০২২, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

স্বপ্ন দেখি সুন্দর-সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশের


নিজস্ব প্রতিবেদক জানুয়ারি ১৮, ২০২২, ০১:৪২ পিএম
স্বপ্ন দেখি সুন্দর-সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশের

ঢাকা : এক সময় নানা ইস্যুতে কথা বলে সবসময় মাঠ গরম রাখতেন রাজনীতিতে আলোচিত-সমালোচিত নেতা ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা।

একাদশ নির্বাচনের পর থেকে দীর্ঘদিন আড়ালে ছিলিন তিনি। তবে হঠাৎ দেশের রাজনৈতিক অবস্থা নিয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করে আবার আলোচনায় এসেছেন নাজমুল হুদা। একটি দৈনিকের সঙ্গে একান্ত আলাপকালে তিনি এখনো সুষ্ঠু ও সুন্দর রাজনৈতিক পরিবেশের স্বপ্ন দেখার কথা জানান।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন এই সদস্য বিভিন্ন সময় দলে থেকেই দলের বিরুদ্ধে মন্তব্য করেছেন, পড়েছেন বিতর্কে। এসেছেন আলোচনার কেন্দ্রে। সবশেষ দল থেকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ বহিষ্কারের পর ‘তৃণমূল বিএনপি’ গঠন করেন বিএনপি সরকারের দুই মন্ত্রণালয় সামলানো এই নেতা। ১৯৪৩ সালের ৬ জানুয়ারি ঢাকার দোহারে জন্ম নাজমুল হুদার।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক এই সদস্য ১৯৯১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের তথ্যমন্ত্রী ছিলেন। চারদলীয় জোট সরকারের আমলে যোগাযোগমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দলে থাকা এই নেতা ১/১১-র সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের ঢাকা সেনানিবাসের বাড়ি হারানোর জন্য তার আইনজীবীদের দায়ী করে বক্তব্য দিয়ে দলে সমালোচিত হয়েছিলেন। বাড়ি হারানোর ঘটনায় প্রতিবাদের ওই সময় ঈদের আগে বিএনপি হরতাল দেওয়ার সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেছিলেন তিনি।

এক পর্যায়ে তাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। যদিও তার দাবি ছিল, যে প্রক্রিয়ায় তাকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে সেটা যথাযথ ছিল না। তাকে কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়নি।

তবে বিএনপি থেকে বাদ পড়লেও সব সময় কম বেশি আলোচনায় ছিলেন এই রাজনীতিক। কখনো বিএনপিতে ফেরার গুঞ্জনকে কেন্দ্র করে। কখনো আবার সরকারের প্রশংসা করে বিএনপির নেতাকর্মীদের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে তাকে। তবে তৃনমূল বিএনপি গঠন ছাড়াও নামসর্বস্ব অনেক দল নিয়ে ভোটের আগে পরে একাধিক জোট করলেও কোনো কুল করতে পারেননি নাজমুল হুদা। তবে দেশের উন্নয়নে বাংলাদেশ ন্যাশনাল অ্যালায়েন্সে (বিএনএ)কে কাজে লাগাতে চান দলের চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা।

দীর্ঘদিন রাজনীতির মাঠ থেকে নিজেকে আড়াল রাখার বিষয়ে আক্ষেপ করে তিনি বলেন, অনেক সময় কথা বলার ইচ্ছা হয়। বলা দরকারও হয়। কিন্তু আমাদের কথা শোনা বা লেখার জন্য তো তেমন কারো আগ্রহ নেই। আমার একটাই ইচ্ছা সুন্দর, সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ দেশে বিরাজ করবে। মানুষ পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবে।

নাজমুল হুদা বলেন, আমরা এখনো দ্বিধাবিভক্ত জাতি হিসেবে মুখ থুবড়ে পড়ে আছি। জনগণের ক্ষমতায়নের রাজনীতিতে অব্যবস্থায় ডুবে আছে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, নির্বাচন কমিশন, জাতীয় নির্বাচন, স্থানীয় নির্বাচন, সর্বোপরি গণতন্ত্র ও আইনের শাসন। এসব আজ আমাদের গৌরবের অর্জনকে স্নান করে দিচ্ছে। সংঘর্ষ, সংঘাত, মুখোমুখি পাল্টাপাল্টি বিদ্বেষ প্রতিহিংসা যেন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেউ যেন কাউকে সহ্য করতে পারছি না। কবে দেখব আমরা সুস্থ রাজনীতি, কবে পাব সুশাসন।

আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আইনের শাসনকে সুদৃঢ় করতে হবে। এজন্য বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সুনিশ্চিত করতে হবে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সুনিশ্চিত করতে উচ্চতর আদালতে তথা সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক নিয়োগ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারক নিয়োগ এবং বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি নিয়োগের সুস্পষ্ট স্বচ্ছ নীতিমালা থাকতে হবে। এ নীতিমালার জন্য জাতীয় ঐক্যমত প্রয়োজন।

তিনি বলেন, জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলনে দেশে সুষ্ঠু এবং অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার এবং একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের গঠনপ্রণালী নিয়ে জাতি আজ দ্বিধাবিভক্ত। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়া আজ প্রশ্নবিদ্ধ। নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটছে না। সুষ্ঠু নির্বাচন  বিষয়ে জাতীয় ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হতে হবে।

নাজমুল হুদা বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রশাসনকে দলীয়করণ করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসাবে চিহ্নিত করতে হবে। মনে রাখতে হবে, সরকারি কর্মচারী ও কর্মকর্তারা রাষ্ট্রের চাকরি করেন; কোনো দলীয় সরকারের নয়। এক্ষেত্রে প্রশাসনকে নিরপেক্ষ রাখতে জাতীয় ঐক্যমতের ভিত্তিতে একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা থাকা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন চলে আসছে। এ নির্বাচন নিয়ে আমি অনেক আশাবাদী যে, নির্বাচনের আগে রাষ্ট্রপতি সম্পূর্ণভাবে নিরপেক্ষ এবং নির্দলীয় থেকে জাতীয় সংলাপে সমগ্র জাতিকে সম্পৃক্ত করবেন।

সোনালীনিউজ/এমটিআই

Wordbridge School
Sonali IT Pharmacy Managment System