• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২১, ৮ মাঘ ১৪২৭

চাঁদের চেয়েও সুন্দর প্রিয়নবী (সা.)


মুফতি কাজী সিকান্দার ডিসেম্বর ৪, ২০২০, ১১:২৬ পিএম
চাঁদের চেয়েও সুন্দর প্রিয়নবী (সা.)

ঢাকা : আল্লাহতায়ালা মহনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মধ্যে জাহের বাতেন সব ধরনের সৌন্দর্যের সমাহার ঘটিয়েছেন, যা পৃথিবীর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কারো মধ্যে ঘটাননি। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পৃথিবীর সব সৌন্দর্যের আধার ছিলেন। লাবণ্যময় ও কমনীয়তার বর্ণনাতীত ছিলেন প্রিয়নবী মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েই অসংখ্য লোক ইসলাম গ্রহণ করেছেন। কবি হাসসান বিন সাবিত (রা.) কাফেরদের প্রস্তাব অনুযায়ী অঢেল উপঢৌকনের আশায় গিয়েছিলেন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখতে। উদ্দেশ্য ছিল নবীজির দোষ কবিতার মাধ্যমে বর্ণনা করা। যখন হাসসান বিন সাবিত নবীজিকে দেখলেন তখন তিনি বলেন : ‘যখন আমি তাঁর সৌন্দর্যের অপূর্ব জ্যোতির বিচ্ছুরণ দেখতে পেলাম, তখন দৃষ্টিশক্তি বিলুপ্ত হবে এ শঙ্কায় হাত দিয়ে চোখ দুটি চেপে ধরলাম। ফলে তার অপরূপ সৌন্দর্য যতটুকু দেখার ভাগ্যলিপি ছিল ততটুকু দেখতে পেলাম। এ যে আলোর আত্মা চাঁদের দেহে! এ যেন গহনা, যা বানানো আলোময় উজ্জ্বল তারা দিয়ে।’ এরপর তিনি কাফেরদের কাছে এসে বললেন, তোমাদের সম্পদ তোমরা নিয়ে যাও। এটা কোনো মিথ্যুকের চেহরা হতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ এক এবং মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিঃসন্দেহে তাঁর প্রেরিত রাসুল।

আম্মাজান হজরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) বলেন, আমি রাতের বেলা সেলাই করছিলাম। হঠাৎ আমার হাত থেকে সুঁই পড়ে গেল। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও সুঁই পাইনি। এমন সময় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার ঘরে তাশরিফ আনেন। তাঁর আলোকোজ্জ্বল চেহারার আলোয় আমি আমার সুঁই পেয়ে যাই। হজরত জাবির ইবনে সামুরা রাজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, চন্দ্রালোকে উজ্জ্বল এক রজনীতে আমি নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখেছি। আমি একবার হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিকে আরেকবার চাঁদের দিকে দেখছিলাম। তখন হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শরীরে লাল রেখা বিশিষ্ট পোশাক ছিল। আমার দৃষ্টিতে এবং বিশ্বাসে তখন হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে চাঁদের চেয়েও বেশি সুন্দর দেখাচ্ছিল (তিরমিজি, মেশকাত)।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সৌন্দর্য চাঁদসহ বিভিন্ন অপরূপ সৌন্দর্যের বস্তুর সঙ্গে তুলনা শুধু আমাদের বুঝে আসার জন্য। বস্তুত রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সৌন্দর্যের কোনো বস্তুর সঙ্গে তুলনা হয় না। হজরত ইউসুফ (আ.)-এর সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে রাসুল (সা.) বলেন, ‘আনা মালিহ ওয়া আঁঁখি আছবাহ’ অর্থাৎ আমি লাবণ্যময় আর আমার ভাই ইউসুফ (আ.) উজ্জ্বল। রাবী বিনতে মুআওয়িজ বলেন, আমি যখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিকে তাকাতাম তখন মনে হতো যেন উদিত সূর্যের দিকে তাকাচ্ছি (তিরমিজি)। হজরত আবু তোফায়ল (রা.) বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন শুভ্র এবং লাবণ্যময় চেহারার অধিকারী। তিনি যখন আনন্দিত হতেন, তখন তাঁর চেহারায় যেন পূর্ণিমার চাঁদ দেখা যেত (মুসলিম)। হজরত হাসান ইবনে আলী (রা.) বলেন, ‘রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন সম্মান ও মর্যাদার আধার, পূর্ণিমার চাঁদের আলোর মতো তার চেহারা থেকে নূর বিচ্ছুরিত হতো।’ আম্মাজান হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) যখন আনন্দিত হতেন, তখন তাঁর চেহারা অধিক উজ্জ্বল হতো। দেখলে মনে হতো যেন নক্ষত্রের এক টুকরো। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সৌন্দর্যের বর্ণনায় উম্মে মা’বাদ (রা.) বলেন : ‘এসেছিলেন মোদের ঘরে এক মোবারক মেহমান। এসেছিলেন খিমায় মোদের রূপজগতের রাজকুমার। লাবণ্যময় স্বর্ণ উজাল মধ্য তনুকান্তি তাঁর। সতেজ সুঠাম শোভন দেহ প্রশস্ত স্কন্ধদ্বয়। যুক্ত ভুরু গ্রীবা দীঘল চওড়া ললাট জ্যোতির্ময়। সরল সোজা উচ্চনাতি টিকালো নাক মনমোহন। গোলাপ রাঙা অধর যুগল টশটশে বেশ সুদর্শন। মুণ্ড সুগোল দর্শনীয় বিনয়ানত উচ্চশির। চিত্তহারি কুসুম কোমল অঙ্গে সুবাস কস্তুরির (কবি রূহুল আমীন খান অনূদিত)।

এমনিভাবে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সৌন্দর্য বর্ণনা করেছেন অসংখ্য সাহাবি (রা.)। তাঁর সৌন্দর্য দেখে শুধু মানবজাতি নয়, পশুরাও ছিল বিমোহিত। বিদায় হজের দিনে কোরবানির সময় উটগুলো নিজে নিজেই রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের তরবারির নিচে চলে এসেছিল। আর সাহাবায়ে কেরাম (রা.) নিজেদের প্রাণ দিয়ে বুঝিয়েছেন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সৌন্দর্যের তীব্রতা কত গভীর ছিল। সর্বোপরি তুলনাহীন সুন্দর ছিলেন আমার আপনার বিশ্বজগতের নবী হজরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

লেখক : পরিচালক, ইসলাহ বাংলাদেশ, আশরাফাবাদ, ঢাকা