• ঢাকা
  • শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর, ২০২০, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
Sonalinews.com

প্রশংসিত তারুণ্যনির্ভর যুবলীগের নতুন কমিটি


নিজস্ব প্রতিবেদক নভেম্বর ১৭, ২০২০, ০৪:০৭ পিএম
প্রশংসিত তারুণ্যনির্ভর যুবলীগের নতুন কমিটি

ঢাকা : বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ২০১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষিত হয়েছে গত শনিবার। প্রায় এক বছর পর ঘোষিত এই কমিটি প্রশংসা পাচ্ছে সব মহলে। কমিটিতে ঠাঁই হয়নি বিতর্কিতদের। সম্ভাবনাময় এবং প্রতিশ্রুতিশীল রাজনৈতিক কর্মীদের জায়গা দেওয়া হয়েছে। এ কমিটিতে আছেন জাতীয় পর্যায়ে আলোচিত এবং হেভিওয়েট অনেক ব্যক্তি।

বঙ্গবন্ধুর আত্মীয় যারা রাজনীতিতে আছেন, তাদের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আছেন যুবলীগের এবারের কমিটিতে। ছাত্রলীগের সাবেক কমিটির কয়েকজনকে দেওয়া হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পদও। বয়স সীমা থাকলেও বিগত কমিটিতে যারা ‘বিতর্কিত’ তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে।

এই কমিটি ঘোষিত হবার পর, আওয়ামী লীগের নেতারাই বলছেন, ‘আওয়ামী লীগের পর দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ কমিটি এখন যুবলীগ।’ নানা কারণেই এই কমিটি সাধারণ মানুষের মনে আশা জাগিয়েছে।

ক্যাসিনো বাণিজ্য, কমিটি বাণিজ্য, টেন্ডার বাণিজ্যকে পেছনে ফেলে এই কমিটি এগিয়ে নেবে যুবলীগকে এমন আশা করছেন অনেকে। নানা কারণে এই কমিটি আলোচিত ও প্রশংসিত।

প্রকাশিত কমিটিতে প্রেসিডিয়াম সদস্য হয়েছেন প্রতিষ্ঠাতা শেখ মণির ভাই যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল করিম সেলিমের ছেলে শেখ ফজলে ফাহিম, যুগ্ম সম্পাদক হয়েছেন শেখ সেলিমের আরেক ছেলে শেখ ফজলে নাঈম। আলোচিত সংসদ সদস্য মুজিবর রহমান চৌধুরী নিক্সন প্রেসিডিয়াম সদস্য হয়েছেন।

প্রেসিডিয়াম সদস্য হয়েছেন সংসদ সদস্য জুয়েল আরেং, সংসদ সদস্য আলতাফ জর্জ, সংসদ সদস্য আহসানুল হক চৌধুরী ও সাবেক সংসদ সদস্য নবী নেওয়াজ। ছয়জন চিকিৎসকের মধ্যে প্রেসিডিয়াম সদস্য হয়েছেন ডা. খালেদ শওকত আলী।

বাকি পাঁচজন চিকিৎসক হলেন  সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. হেলাল উদ্দিন, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. ফরিদ রায়হান, উপ-স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক ডা. মাহফুজুর রহমান উজ্জ্বল ও সহ-সম্পাদক ডা. মো. মঞ্জুরুল ইসলাম ভূইয়া রাফি।

স্থান পেয়েছেন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ, সহসভাপতি জয়দেব নন্দী, আদিত্য নন্দী, আরিফুর রহমান লিমন, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শামছুল কবির রাহাত, মানোয়ারুল ইসলাম মাসুদ, জসিম উদ্দিন, সাবেক দপ্তর সম্পাদক দেলোয়ার শাহজাদাসহ সাবেক অনেক ছাত্রনেতা।

এ ছাড়া সাংবাদিক নিয়াজ জামান সজীব, আসাদুজ্জামান আজম, মানিক লাল ঘোষ, সাইদুর আবির, শাফি বিল্লাহসহ অনেকে কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন। আলোচিত ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন আইন সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন। নাজিউর রহমান মঞ্জুর ছেলে অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান শান্ত হয়েছেন নির্বাহী সদস্য।

বঙ্গবন্ধু পরিবারের ৬ জন : এই কমিটিতে জাতির পিতার আত্মীয় আছেন ৬ জন। কমিটির চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ। পরশ শহীদ শেখ মণির বড় ছেলে।

শেখ সেলিম এমপির দুই পুত্র আছেন কমিটিতে। এদের একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলে ফাহিম। অন্যজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ ফজলে নাঈম। প্রেসিডিয়ামে আছেন শেখ হেলালের ছোট ভাই, ক্রীড়া সংগঠক শেখ সোহেল।

আছেন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য, বঙ্গবন্ধুর আত্মীয়, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপের ছোট ভাই নিক্সন চৌধুরী। শেখ সেলিম ও শহীদ শেখ মণির বোনের ছেলে, বিজেপি নেতা আন্দালিব রহমান পার্থের ছোট ভাই, তরুণ অর্থনীতিবিদ আশিকুর রহমান শান্ত আছেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে।

৪ এমপি : কেন্দ্রীয় কমিটিতে রয়েছেন ৪ সংসদ সদস্য। এরা হলেন মো. আহসানুল হক চৌধুরী। মুজিবর রহমান চৌধুরী (নিক্সন চৌধুরী) ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ এবং জুয়েল আরেং।

বিতর্কিত কেউ নেই : কমিটিতে ১৪ জন ব্যারিস্টার আছেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্ভাবনাময় তরুণ আছেন। তবে আশার কথা হলো বিতর্কিত কাউকেই কমিটিতে রাখা হয়নি।

আওয়ামী লীগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী সংগঠন : যাদের নিয়ে যুবলীগের কমিটি গঠন করা হয়েছে, তাদের জন্যই এই আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষমতাবান সংগঠনে পরিণত করল যুবলীগকে।

কমিটি প্রকাশ হওয়ার পর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এক বছর পর কমিটি প্রকাশ হলো। কমিটিতে যারা রয়েছেন তাদের হাত ধরে যুবলীগ আরো সুসংহতভাবে এগিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, বিতর্কিতদের কোন জায়গাতে স্থান নেই। বিতর্কের উর্ধ্বে উঠে যুবলীগ নেতারা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নকে আরো ত্বরান্বিত করবেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে শেখ ফজলুল হক মণির নেতৃত্বে ১৯৭২ সালের ১১ নভেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক যুব কনভেনশনের মাধ্যমে এই যুবলীগ প্রতিষ্ঠা হয়।

বঙ্গবন্ধুর আদর্শ তথা অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও শোষণমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য নিয়েই যাত্রা শুরু করে এই সংগঠন।

১৯৭৪ সালে যুবলীগের প্রথম কংগ্রেসে শেখ মণি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। গত চার দশকের বেশি সময় ধরে দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম ও হাজারো নেতা-কর্মীর আত্মত্যাগের মাধ্যমে যুবলীগ এখন দেশের সর্ববৃহৎ যুব সংগঠনে পরিণত হয়েছে।

সোনালীনিউজ/এমটিআই

Sonali IT Pharmacy Managment System