• ঢাকা
  • রবিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২১, ৪ মাঘ ১৪২৭

ইসলামপন্থি সংগঠনগুলো আশকারা পেয়েছে


নিজস্ব প্রতিবেদক ডিসেম্বর ১, ২০২০, ১১:৫৯ এএম
ইসলামপন্থি সংগঠনগুলো আশকারা পেয়েছে

ঢাকা : বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যবিরোধীরা ওয়াজ থেকে কী পরিমাণ আয় করে, তার হিসাব নিতে সরকারকে পরামর্শ দিয়েছে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক জোট ১৪ দল।

১৪ দলের নেতারা বলেছেন, সরকার কট্টর ইসলামপন্থি সংগঠনগুলোর প্রতি নমনীয় আচরণ করায় তারা আশকারা পেয়েছে।  

সোমবার (৩০ নভেম্বর) সমসাময়িক ইস্যুতে এক ভার্চুয়াল আলোচনায় এসব কথা বলেন জোটের নেতারা।

ভাস্কর্যবিরোধীদের ধর্মান্ধ আখ্যা দিয়ে সংবিধানের মূলনীতি লংঘনের অভিযোগে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে এই আলোচনায়। সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর হওয়ার আহ্বানও জানানো হয়।

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, এরা ধর্মের বিকৃতি কেবল নয়, ধর্ম বেচে। এনবিআর কেন এদের অর্থের খোঁজ করে না? কোন ওয়াজে কত টাকা তারা নেয় সেভাবে কেন ট্যাক্স আদায় করে না, আমরা জানি না।

সরকারকে তাদের কথা শুনতে হবে বলে হেফাজতে ইসলামীর আমির জুনাইদ বাবুনগরী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তারও প্রতিক্রিয়া জানান মেনন। বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মদিনা সনদের কথা বলেছেন। আমি বলব যে, বাবুনগরীর মদিনা সনদ সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই। এর মর্মার্থ তারা বোঝে না।

কারণ, মদিনা সনদ হচ্ছে প্রথম আমাদের শাসনতন্ত্র, যেখানে সুস্পষ্টভাবে পরস্পর ধর্মের সহঅবস্থান কেবল নয়, তাদের রীতিনীতি অক্ষুণ্ন রাখা এবং সবার মতামত নিয়ে দেশ পরিচালনা করা।

ধর্মনিরপেক্ষতার নীতিই এই মদিনা সনদে বিবৃত হয়েছিল। এ কথা তারা বুঝতে রাজি না, কারণ তারা জ্ঞ্যানপাপী তারা ধর্মপাপী।

রাজধানীর ধোলাইপাড়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধিতা করছে ধর্মভিত্তিক বেশ কয়েকটি দল।

প্রথমে এই ইস্যুতে মাঠে নামে চরমোনাইয়ের পীরের দল ইসলামী আন্দোলন। তারা হুমকি দেয় ভাস্কর্য নির্মাণ হলে তা বুড়িগঙ্গায় ফেলে দেওয়া হবে। যদিও এই ইস্যুতে এখন চুপ আছেন নেতারা। তবে এরপর বিরোধিতায় নামে ধর্মভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম।

সংগঠনের আমির জুনাইদ বাবুনগরী বলেছেন, ভাস্কর্য নির্মাণ হলে তারা টেনে হিঁচড়ে ফেলে দেবেন। সংগঠনের যুগ্ম-মহাসচিব মামুনুল হক হুমকি দিয়েছিলেন, ভাস্কর্য নির্মাণ হলে তিনি দেশে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের মতো পরিস্থিতি আবার তৈরি করবেন। অবশ্য এই বক্তব্য দিয়ে প্রতিরোধের মুখে পড়া মামুনুল হক সংবাদ সম্মেলনে এসে সুর নরম করেছেন।

বলেছেন, ভুল তথ্য প্রচার করে তাকে প্রশাসনের মুখোমুখি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি ভাস্কর্যের বিরোধী হলেও এ নিয়ে কোনো ‘যুদ্ধে যাবেন না’।

শুরুতে নীরব থাকলেও গত শুক্রবার বাবুনগরী হুমকি দেওয়ার পর থেকে মুখ খুলেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা। রোববার এই ইস্যুতে সারা দেশে একযোগে কর্মসূচি পালন করে লাখ লাখ মানুষকে রাজপথে নিয়ে এসেছে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগ। সরকারি দল নীরবতা ভাঙার পরে অবশ্য ভাস্কর্যবিরোধীরা নতুন করে কোনো বক্তব্য দিচ্ছে না।

১৪ দলের আলোচনার শুরুতেই বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যবিরোধীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু। পরে তার বক্তব্যকে সমর্থন করেন অন্য নেতারা।

ইনু বলেন, ভাস্কর্য ভেঙে ফেলার ঘোষণা দিয়ে যারা বক্তব্য দিচ্ছেন তারা প্রকৃতপক্ষে আইন ভঙ্গের শামিল অপরাধ করছেন। এই অপরাধেই তাদের গ্রেপ্তার করা যায়।

তিনি বলেন, তারা ধর্মের অপব্যাখ্যা করে উস্কানি দিচ্ছেন, এটি আরো বড় অপরাধ। এগুলো তারা প্রকাশ্যে করছেন। ডিজিটাল মাধ্যমেও তাদের বক্তব্যগুলো রয়েছে। এসব অপরাধে তাদের বিরুদ্ধে এখনই ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

হেফাজতে ইসলামসহ কট্টর ইসলামপন্থি সংগঠনগুলোর প্রতি নমনীয় আচরণ করায় সরকারের সমালোচনা করেন রাশেদ খান মেনন।

তিনি বলেন, এর আগে লালনের ভাস্কর্য করতে দেওয়া হয়নি, সুপ্রিমকোর্টে যখন লেডি জাস্টিসের ভাস্কর্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন হলো তখনো নমনীয় আচরণ করা হয়েছে। সরকার তাদের সাথে এক ধরনের আপসমুখিতায় গিয়েছিল। কিন্তু আপস আর কৌশল এক জিনিস নয়। আপস রাজনৈতিক কৌশলকে ছাপিয়ে যেতে পারে না।

হেফাজতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারের ‘ভীরুতা’ কেন- জানতে চেয়ে মেনন বলেন, তারা কি এতটাই শক্তিশালী হয়ে গিয়েছে?

ভাস্কর্যবিরোধীদের কথায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্য দেখছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ।

তিনি বলেন, মৌলবাদী শক্তিকে যত কিছুই দেওয়া হোক না কেন, কোনোভাবেই তাদের পক্ষে আনা যাবে না। তাই প্রগতিশীল শক্তিগুলোকে এখনই এদের বিরুদ্ধে লক্ষ্য স্থির করতে হবে।

১৪ দলের সমন্বয়ক আমির হোসেন আমু বলেন, বিরোধীপক্ষ আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়ে সহায়ক শক্তি হিসেবে ধর্ম ব্যবসায়ীদের সাহায্য নিচ্ছে। আগেও বহুবার এভাবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ধর্মকে ব্যবহার করা হয়েছে। নির্বাচনের সময় বলা হয় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে ইসলাম থাকবে না।

কিন্তু এদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ, ধর্মান্ধ নয়। তারা সব বোঝেন’-মন্তব্য করেন আমু।

সোনালীনিউজ/এমটিআই