• ঢাকা
  • শনিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২১, ৯ মাঘ ১৪২৭

যারা পাচ্ছেন করোনার ভ্যাকসিন 


নিজস্ব প্রতিবেদক জানুয়ারি ১০, ২০২১, ০৭:০৫ পিএম
যারা পাচ্ছেন করোনার ভ্যাকসিন 

ফাইল ছবি

ঢাকা : চলতি মাসের শেষে বা সামনের মাসের প্রথম দিকেই বাংলাদেশ ভ্যাকসিন পেয়ে যাবে বলে জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি জানিয়েছেন ইতিমধ্যে ভ্যাকসিন দেওয়ার সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। বাংলাদেশে ভ্যাকসিনের কোনো অভাব হবে না। 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে অনেকেই ভ্যাকসিন দিতে চাচ্ছে। চীন , রাশিয়া ও আমেরিকা আমাদের ভ্যাকসিন দিতে চাচ্ছে। ভ্যাকসিনের জন্য আমরা সব দরজা খুলে রেখেছি। ফাইজার কোম্পানি থেকে বিনামূল্যে কিছু ভ্যাকসিন দিতে চাচ্ছে। এই ভ্যাকসিন আমরা গ্রহণ করবো এবং ফ্রন্ট লাইনারদেরকে আগে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে।

এদিকে দেশে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনা ভ্যাকসিনের প্রথম চালানের অর্ধেক বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৮০ বছরের বেশি বয়সিদের জন্য। আর বাকি অর্ধেকের বড় অংশ পাবেন সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে কর্মরত চিকিৎসক, নার্স ও বিভিন্ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা। কিছু অংশ বীর মুক্তিযোদ্ধারা পাবেন। আর জরুরিভিত্তিতে রোগের প্রকোপ মোকাবিলার জন্য কিছু রাখা হবে। 

দ্বিতীয় ধাপে টিকা পাবেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, আনসার-ভিডিপি, সামরিক বাহিনীর সদস্য, র‌্যাব, কোস্টগার্ড, সচিবালয়ে কর্মরত সরকারি কর্মচারী, সাংবাদিক, স্থানীয় সরকারে কর্মরত জনগোষ্ঠী এবং ধর্মীয় নেতারা।

ফেব্রুয়ারির শুরুতে ৫০ লাখ ডোজ টিকা হাতে পাওয়ার আশা করছে সংশ্লিষ্টরা, সম্প্রতি কোভিড-১৯ টিকাদানের জন্য প্রণীত অগ্রাধিকার পরিকল্পনায় এ তথ্য পাওয়া গেছে। 

এ বিষয়ে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রিপেয়ার্ডনেস অ্যান্ড ডেপ্লয়মেন্ট কোর কমিটির প্রধান ও অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য যাচাই করে বাংলাদেশে ভ্যাকসিনের নিবন্ধন হবে অনলাইনে।

ইতোমধ্যে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর ইতোমধ্যে সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন দেশে আনা ও ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। এর আগে টিকা কিনতে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী প্রতি মাসে ৫০ লাখ ডোজ হিসাবে পুরো তিন কোটি টিকা পাওয়া যাবে। এজন্য অগ্রিম হিসাবে ৫ জানুয়ারি ৫০৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা সেরামের অ্যাকাউন্টে জমা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। ভ্যাকসিন কেন্দ্র স্থাপনের জন্য ১৫ ধরনের প্রতিষ্ঠানও নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, ভ্যাকসিন প্রদানের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ভাবে বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়।

জানা গেছে, এ সংক্রান্ত অ্যাপ তৈরির কাজ চলছে। প্রচলিত টিকাদান কেন্দ্রগুলোও ব্যবহার হবে। কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রিপেয়ার্ডনেস অ্যান্ড ডেপ্লয়মেন্ট কোর কমিটি টিকা প্রপ্তির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তালিকা তৈরি করেছে। এতে বলা হয়েছে, মোট জনগোষ্ঠীর ৩ শতাংশ মানুষকে প্রাথমিক ভাবে টিকা দেয়া হবে। যা সংখ্যায় ৫১ লাখ ৮৪ হাজার ২৮২ জন। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ের প্রথম ধাপে পাবেন ৮০ বছরের ঊর্ধ্বের জনগোষ্ঠী। বেশি বয়সিদের এ তালিকায় আছেন ১৩ লাখ ১২ হাজার ৯৭৩ জন।

এই ধাপে টিকা পাবেন সরকারি পর্যায়ে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মী যারা কোভিড-১৯ প্রতিরোধ প্রক্রিয়ায় সরাসরি সম্পৃক্ত। যাদের মধ্য রয়েছে- চিকিৎসক, নার্স এবং মিডওয়াইফ, প্যাথলজি ল্যাবে কর্মরত টেকনোলজিস্ট, পরিবেশগত এবং পেশাগত স্বাস্থ্য সম্পৃক্ত কাজে জড়িতরা, কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কার এবং অ্যাম্বুলেন্স চালকরা। তালিকায় রয়েছেন ৩ লাখ ৩২ হাজার ২৭ জন।

এছাড়া বেসরকারি পর্যায়ে কর্মরত এবং ব্যক্তিগতভাবে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীরাও এ ধাপেই আছেন। যারা সরাসরি কোভিড-১৯ মোকাবিলায় সম্পৃক্ত। বিশেষ করে, চিকিৎসক, নার্স এবং মিডওয়াইফ, ল্যাবেরটরি টেকনোলজিস্ট, পরিবেশগত এবং পেশাগত স্বাস্থ্য সম্পৃক্ত কাজে জড়িত, ফিজিওথেরাপিস্ট, ট্র্যাডিশনাল চিকিৎসক, কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কার এবং বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালকরা। এ তালিকায় রয়েছে ৬ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী। 

অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুরুতেই টিকা পাবেন মুক্তিযোদ্ধারা। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সামরিক, আধা-সামরিক এবং বেসামরিক যোদ্ধারা। এ তালিকায় রয়েছেন দুই লাখ ১০ হাজার জন। 

এছাড়া কোনো এলাকায় রোগ ছড়িয়ে পড়লে জরুরিভিত্তিতে তা মোকাবিলায় ৪৫ হাজার ভ্যাকসিন সংরক্ষণ করবে সরকার।

টিকার প্রথম ধাপের দ্বিতীয় পর্যায়ে পাবেন- সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ে কর্মরত ব্যক্তি যারা সরাসরি স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এ তালিকায় রয়েছেন এক লাখ ২০ হাজার।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে রয়েছেন- ট্রাফিক পুলিশ, পুলিশ, আনসার এবং ভিডিপি। এ তালিকায় রয়েছেন দুই লাখ ৭৩ হাজার ৩১০ জন।

এছাড়া সামরিক বাহিনীর সদস্য, নৌ বাহিনীর সদস্য এবং বিমানবাহিনীর সদস্যরা টিকা পাবেন এ ধাপে। তাদের সঙ্গে আরও রয়েছেন র‌্যাব সদস্য এবং কোস্টগার্ড ও প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের সদস্যরা। এ তালিকায় রয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার ৪৫৭ জন।

প্রথম পর্যায়ের দ্বিতীয় ধাপে ভ্যাকসিন পাবেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সচিবালয়, বিচারালয়, আইনজীবী, জেলা প্রশাসন এবং উপজেলা প্রশাসনের সদস্যরা। এ তালিকায় রয়েছেন ২৫ হাজার জন। সমান সংখ্যা অর্থাৎ আরও ২৫ হাজার জনগোষ্ঠী যারা বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত তারও টিকা পাবেন একই সঙ্গে। 

নির্বাচিত প্রতিনিধি সংসদ সদস্য, সিটি করপোরেশন, পৌরসভার মেয়র, কাউন্সিলর, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ এবং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা। টিকার তালিকায় ৮৯ হাজার ১৪৯ জন রয়েছেন।

এছাড়া সিটি করপোরেশন, পৌরসভায় কর্মরত কর্মচারীরা একই সঙ্গে টিকা পাবেন। তাদের সংখ্যা ৭৫ হাজার। মৃতদেহ সৎকারে সম্পৃক্ত ৩৭ হাজার ৫শ ব্যক্তিকে এক্ষেত্রে সম্পৃক্ত করা হবে। প্রথম পর্যয়ের দ্বিতীয় ধাপে আরও যারা রয়েছেন। এ ধাপে সবচেয়ে বেশি টিকা পাবেন ৭৭ থেকে ৭৯ বছর বয়সিরা। তাদের জন্য রাখা হয়েছে ১১ লাখ ৩ হাজার ৬৫৩ ডোজ টিকা।

একই সঙ্গে টিকা পাবেন জাতীয় পর্যায়ে ফুটবল, ক্রিকেট, হকি খেলোয়াড়রা। তাদের জন্য ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৯৩২ ডোজ এবং জরুরি রোগ প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় এ ধাপে রাখা হবে ২৫ হাজার ডোজ। 

তবে এ তালিকা কিছুটা পরিবর্তন-পরিবর্ধন হতে পারে বলে জানিয়েছে অধিদফতরের একটি সূত্র। তালিকাটি করা হয়েছে রোগতাত্ত্বিক সূত্র ধরে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিচার-বিশ্লেষণ করে। এ কাজে সরকারের আইসিটি বিভাগ সম্পৃক্ত। তারা এক্ষেত্রে কিছুটা পরিবর্তন করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ স্বাস্থ্য বিভাগের রোগতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ ও পরিসংখ্যানের সঙ্গে আইসিটি বিভাগের পরিসংখ্যানের পার্থক্য থাকাই স্বাভাবিক। 

সোনালীনিউজ/এমএএইচ