• ঢাকা
  • রবিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২১, ৫ বৈশাখ ১৪২৮
abc constructions

বিশেষ গোষ্ঠীর পক্ষে শীর্ষ নেতারা, সতর্ক হাইকমান্ড


নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২১, ০৫:৩৫ পিএম
বিশেষ গোষ্ঠীর পক্ষে শীর্ষ নেতারা, সতর্ক হাইকমান্ড

ঢাকা: ২০ দলীয় জোটের কয়েকটি শরিক দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা বিশেষ একটি গোষ্ঠীর পক্ষ হয়ে নানা কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন বলে তথ্য পেয়েছে বিএনপি। দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির কয়েকটি বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে বিএনপির কিছু নেতাও রয়েছেন। যার মধ্যে বেশিরভাগই সংস্কারপন্থি হিসাবে পরিচিত। 

তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ হচ্ছে - বিএনপির ভেতরে থেকে দলের ক্ষতির চেষ্টা করছেন। ‘সরকার পতন’র পাশাপাশি জিয়া পরিবারকে ‘মাইনাস’ করারও চেষ্টা চালাচ্ছেন।

আরও পড়ুন<<>>নুর-ইশরাকে বিপাকে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা

বিষয়টি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে জানানো হয়েছে। কয়েকটি সভায় বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা করেছেন দলের নীতিনির্ধারকরা। এমন পরিস্থিতিতে সংস্কারপন্থি হিসাবে পরিচিত নেতাদের জেলা-থানাসহ তৃণমূলের কোনো কমিটিতে না রাখার নির্দেশ দিয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড। 

বিএনপির একজন কেন্দ্রীয় নেতা জানান, সাবেক মন্ত্রী-এমপিসহ স্থানীয় পর্যায়ের নেতা যারা সে সময় সংস্কারপন্থি হিসাবে পরিচিত ছিলেন, তারা অনেকে নিজ এলাকায় দলীয় পদ চাইছেন। যাদের বয়স হয়েছে তারা তাদের সন্তানদের পদ দিতে তদবির করছেন। অথচ বিগত দিনের আন্দোলনে তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি, একটি মামলা পর্যন্ত নেই। সংস্কারপন্থিদের এমন মনোভাব দলীয় নেতাকর্মীর মাঝে সন্দেহ তৈরি করাটাই স্বাভাবিক।

আরও পড়ুন<<>>আ.লীগের তৃণমূলে মানা হচ্ছে না গঠনতন্ত্র!

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের বলেন, দলের চেয়ারপারসন দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে নিজ গৃহে রাখা হলেও কার্যত তিনি গৃহবন্দি। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি এখন ঐক্যবদ্ধ আছে এবং যে কোনো সময়ের চেয়ে আরও বেশি শক্তিশালী। জিয়া পরিবারের বাইরে আমাদের কোনো ঠিকানা নেই। এ পরিবারের বিরুদ্ধে অতীতেও ষড়যন্ত্র হয়েছে, এখনও চলছে। কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হয়নি, ভবিষ্যতেও হবে না।

তিনি বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দলের সব পর্যায়ের নেতাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবশ্যই জানেন। সবার নিয়মিত খোঁজ-খবর নেন। যারা ত্যাগী ও পরীক্ষিত তাদের দিয়েই জেলা-থানা পর্যায়ের কমিটি হচ্ছে বলেও জানান বিএনপির এই নেতা।

আরও পড়ুন<<>>রাজপথে আন্দোলনের উপযোগী হচ্ছে বিএনপি

উল্লেখ্য, ওয়ান-ইলেভেনে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ২০০৭ সালের ২৫ জুন বিএনপির মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়া দলের অভ্যন্তরে ১৫ দফা সংস্কার প্রস্তাব দেন। তার ওই প্রস্তাবকে দলের ১২৭ জন সাবেক মন্ত্রী-এমপি সমর্থন দেন। এসব নেতাদের নিজ এলাকার কিছু অনুসারীও সংস্কারের পক্ষে ছিলেন। যারা সংস্কারপন্থি হিসাবে পরিচিতি পান।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গ্রেফতারের আগে সংস্কার প্রস্তাবের সঙ্গে সম্পৃক্ত দলের মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়া, যুগ্ম মহাসচিব আশরাফ হোসেন, দফতর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তিকে বহিষ্কার করেন। তবে দলের পঞ্চম ও সর্বশেষ ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে সংস্কারপন্থি নেতাদের অনেককে পদ-পদবি দেয়া হলেও একটি অংশকে দলের বাইরে রাখা হয়।

অন্য কোনো দলে যোগ না দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি হাইকমান্ডের ওপর আস্থা রেখেছেন - এমন ১৪ জন সংস্কারপন্থি নেতাকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গুলশান কার্যালয়ে ডেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দলে কাজ করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।তবে বর্তমানে সংস্কারপন্থিদের বেশিরভাগ নেতা বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় নেই। 

সোনালীনিউজ/আইএ

Haque Milk Chocolate Digestive Biscuit
Wordbridge School