• ঢাকা
  • বুধবার, ০৪ আগস্ট, ২০২১, ১৯ শ্রাবণ ১৪২৮
abc constructions
মামলা নিষ্পত্তির হার ৫.২০ শতাংশ

ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না দুদক


নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১৩, ২০২১, ১১:৩৬ এএম
ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না দুদক

ফাইল ছবি

ঢাকা : দুর্নীতি দমনে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ব্যাপক সাফল্যের আশা নিয়ে দুর্নীতি দমন ব্যুরো থেকে ২০০৪ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতিষ্ঠা করা হলেও এখনো ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি সংস্থাটি। মানুষ দুর্নীতি থেকে বাঁচতে দুদকের শরণাপন্ন হলেও সংস্থাটি সেই আশা পূরণে সফল হচ্ছে না; বরং দুদককে দায়মুক্তির কমিশন হিসেবে কটাক্ষ করা হয়। অন্যদিকে দুদকের মামলা নিষ্পত্তির হার ‘হতাশাজনক’ বলেও মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে দুদকের তদন্ত প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতায় দুর্নীতির মামলা নিষ্পত্তির অচলাবস্থা দেখা গেছে। এমনকি ১৯৯৮ থেকে ২০০৪ সাল পযন্ত তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরোর আমলে করা ২০২টি মামলার বিচার কাজ এখনো শেষ হয়নি। দুদকের পরিসংখ্যানে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের হওয়া বিভিন্ন মামলা নিষ্পত্তির হারেও হতাশাজনক চিত্র দেখা যায়। অভিজ্ঞ আইনজীবী সংকট ও বিচারকাজ শুরু করতে বিলম্বসহ নানা কারণে দীর্ঘ দেড় যুগেও আশানুরূপ গতি পায়নি দুদক।   

‘দুদক একটি নখদন্তহীন বাঘ’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া সংস্থাটির তৃতীয় চেয়ারম্যান গোলাম রহমান ২০১৩ সালের জুন মাসে বিদায় নেওয়ার কয়েকদিন আগে বলেছিলেন, ছোটখাটো কিছু সফলতা থাকলেও বিস্তৃত পরিধিতে আমি নিজেকে সফল মনে করছি না। আমার চার বছরেও আমি দুদকের কার্যক্রম সংশোধন করতে পারিনি। যদি দুর্নীতির দায়ে দ্রুত বিচার করে অপরাধীদের শাস্তি দিতে পারতাম, তাহলে নিজেকে সফল মনে করতাম। চার বছরে নিজেকে হতাশ মনে হয়েছে। আইনের সীমাবদ্ধতার জন্য কিছুই করা যায় না। নিজের চার বছরে আলোচিত কয়েকটি মামলা ও সেগুলোর আইনি প্রক্রিয়ায় ধীরগতির সমালোচনা করে ছিলেন তিনি।

অন্যদিকে, দুদকের সদ্য বিদায়ী (চলতি বছর) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ দাবি করেছেন, আমি প্রথম দিনেই বলেছিলাম, দুদক হবে দুর্নীতিবাজদের আতঙ্ক এবং সাধারণ মানুষের আশ্রয়স্থল। এ দেশে প্রথমবারের মতো দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা নগদ টাকা উদ্ধার করেছি। দুদকের মামলায় সাজার হার মাত্র ২০ শতাংশে নেমে এসেছিল, তা আজ প্রায় ৭০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। শুধু বাংলাদেশের নয়, পৃথিবীর অনেক তদন্তকারী সংস্থার চেয়েও দুদকে মামলার সাজার হার সন্তোষজনক। তাই আগের মতো অবস্থা হতে চলেছে বলাটা সম্পূর্ণ ভুল। বিত্তবান, কম বিত্তবান সবাইকে গ্রেপ্তার করেছি।

তিনি বলেন, ৫ বছরে দায়িত্ব পালনকালে বেশি পরিমাণ মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। ওই ৫ বছর চেষ্টা করেছি মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য। এজন্য প্রসিকিউশন টিম ঢেলে সাজানো হয়েছে, তদন্তের গতি বাড়াতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আরো কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেগুলো বর্তমান চেয়ারম্যান বাস্তবায়ন করলে আরো গতি বাড়বে। প্রসঙ্গত, ২০০৪ সালে ‘দুর্নীতি দমন ব্যুরো’ বিলুপ্ত হয়ে প্রতিষ্ঠা হয় ‘দুর্নীতি দমন কমিশন’। এই কমিশনের প্রথম চেয়ারম্যান হন বিচারপতি সুলতান হোসেন খান। এরপর ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে মামলা-গ্রেপ্তার নিয়ে দুদক সবচেয়ে আলোচিত ছিল। তখন চেয়ারম্যান ছিলেন সাবেক সেনাপ্রধান হাসান মশহুদ চৌধুরী। ২০০৯ সালে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর হাসান মশহুদ পদত্যাগ করলে চেয়ারম্যানের পদে নিয়োগ পান সাবেক সচিব গোলাম রহমান। এরপর ২০১৩ সালে সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. বদিউজ্জামান কমিশনার থেকে চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পেয়ে ২০১৬ সালের ১৩ মার্চ দায়িত্ব পালন করেন। এরপর থেকে সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব ইকবাল মাহমুদ চলতি বছরের ৯ মার্চ পর্যন্ত সংস্থাটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ গত ১৩ মার্চ থেকে দুদকের চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করছেন সাবেক সিনিয়র সচিব মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ। বর্তমান চেয়ারম্যানের সময় আদৌ কি দুদকের কার্যক্রমে গতি বৃদ্ধি পাবে, তা নিয়েও রয়েছে সংশয়।

দুদকের বড় মামলার নিষ্পত্তির হার কম। দুদকের পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩ হাজার ৩৭৫ টি মামলা নিষ্পত্তি হলেও, এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ও আলোচিত মামলা নিষ্পত্তির হার একেবারেই কম। ৪৩৬টি মামলার বিচার হাইকোর্টের আদেশে স্থগিত রয়েছে। সোনালি ব্যাংকের সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় হলমার্কের বিরুদ্ধে আলোচিত ১১ মামলার একটিরও বিচার গত ৮ বছরে নিষ্পত্তি হয়নি।

দুদকের আইনজীবীরা জানান, ২০১৮ সালে এসব মামলা ছয় মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে দুই দফা নির্দেশনা দিলেও তা কাজে আসেনি। টেরিটাওয়েল (তোয়ালে জাতীয় পণ্য) উৎপাদক প্রতিষ্ঠান বিসমিল্লাহ গ্রুপের প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতি, মানিলন্ডারিং ও দুর্নীতির অভিযোগে ১২ মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। ২০১৪ সাল থেকে এসব মামলার বিচার এখন পর্যন্ত চলমান।
 
অন্যদিকে বহুল আলোচিত সোনালি ব্যাংকের সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের মামলার তদন্ত গত সাত বছর ধরেই তদন্ত চলছে। এ নিয়ে কয়েকদফা হাইকোর্টও উদ্বেগ প্রকাশ করলেও তদন্তে গতি নেই। ঋণের নামে জনতা ব্যাংক থেকে ৩ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ক্রিসেন্ট গ্রুপ। এর মধ্যে প্রায় হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এই চক্রের মূলহোতা ক্রিসেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান এমএ কাদের ও তার ভাই জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার আব্দুল আজিজ। এই ঘটনায় ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাজধানীর চকবাজার থানায় চারটি মামলা করে দুদক। ক্রিসেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান এমএ কাদের ও তার ভাই জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার আব্দুল আজিজসহ ১৫ জনকে আসামি করে এসব মামলা করা হয়।  এসব মামলার একটিতেও এখন পর্যন্ত অভিযেগপত্র (চার্জশিট) দিতে পারেনি দুদক।

মেসার্স সোনালী সোডা ফ্যাক্টরি ২০০০ সালের ২৭ জুন থেকে ২০০৩ সালের ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কাঁচামাল আমদানি করে মূসক রেজিস্ট্রারে এন্ট্রি না করে সাবান উৎপাদন করে আবার মূসক পরিশোধ না করেই পণ্য খালাস করে ১৪ কোটি ২৬ লাখ ৯৯ হাজার ৩২৭ টাকা আত্মসাত করেছিল। প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী নুর উদ্দিন, কাস্টম এক্সসাইজ ও ভ্যাট, তেজগাঁও সার্কেলের তৎকালীন সুপারিনটেনডেন্ট মো. সিরাজুল হক ও আবুল খায়েরসহ ৯ কর্মকর্তা পরস্পর যোগসাজশে ওই অর্থ আত্মসাত করেন।

এই অভিযোগে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরোর টাস্কফোর্স-৪ এর পরিদর্শক মোনায়েম হোসেন ২০০৪ সালের ১১ জুলাই তেজগাঁও থানায় মামলা করেছিলেন। ১৫ বছর ধরে ঝুলে আছে এই মামলার তদন্ত। দীর্ঘদিন তদন্ত সম্পন্ন না হওয়ায় ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে হাইকোর্টে রিট করে তদন্ত কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ নেয় আসামিরা।

গত ১০ বছরে দুদকের নিষ্পত্তি হওয়ার মামলার তালিকায় দেখা যায়, গত বিএনপি আমলের কৃষিবিদ জাবেদ ইকবালের বিরুদ্ধে একটি প্রকল্পের ৬০ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলাটি ২০১৬ সালে বিচারিক আদালতে নিষ্পত্তি হয়েছে। গ্রাহকের প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা আত্মসাত করে পাচারের অভিযোগে মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কোম্পানি (এমএলএম) ইউনিপে টু ইউ এর কর্তব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ২০১১ সালে রায় হলেও হাইকোর্টে আপিল অপেক্ষমাণ রয়েছে। কিন্তু বহুল আলোচিত এমএলএম কোম্পানি ডেসটিনির বিরুদ্ধে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ থেকে ৩ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের মামলাও ২০১২ সাল থেকেই বিচার চলমান।

অগ্রণী ব্যাংকের মতিঝিল বাণিজ্যিক শাখার প্রায় ৭ কোটি টাকা ঋণ কেলেঙ্কারির দায়ে ২০০০ সালে ব্যাংকটির সাবেক ব্যবস্থাপক ওমর ফারুকসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো। ২০০২ সালে ঢাকার আদালতে মামলাটির বিচার শুরু হয়। ওই বছরের অক্টোবর মাসে আসামিরা হাইকোর্ের্ট রিট করে মামলাটির বিচারে স্থগিতাদেশ নেয়। এখন পর্যন্ত মামলাটির বিচারকাজ শুরু হয়নি।

কারসাজি করে ৪১ কোটি টাকা মূল্যের সরকারি জমি এক ব্যক্তির নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার অভিযোগে ঢাকার তেজগাঁও জোনের তৎকালীন সাব-রেজিস্ট্রার মোকাম্মেল হকের বিরুদ্ধে ১৯৯৮ সালে মামলা করে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো। আসামিদের রিটের প্রেক্ষিতে ২০০০ সালে হাইকোর্টের আদেশে মামলার বিচার স্থগিত হলেও এখন পর্যন্ত ওই স্থগিতাদেশ বাতিল না হওয়ায় এখন পর্যন্ত মামলার বিচার শুরু হয়নি। ১৯৯৮ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরোর আমলে করা ২০২টি মামলার বিচার হাইকোর্টের আদেশে এখন পর্যন্ত স্থগিত রয়েছে। ‘দুর্নীতি দমন ব্যুরো’ বিলুপ্ত করে ‘দুর্নীতি দমন কমিশন’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।

দুদক বলেছে, স্থগিত হওয়া এসব মামলার বিপরীতে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা জড়িত রয়েছে। সংস্থাটির প্রধান আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, স্থগিত থাকা এসব মামলা বিচার পুনরায় চালুর বিষয়ে শিগগিরই হাইকোর্টে আবেদন করে স্থগিতাদেশ বাতিল চাওয়া হবে।

দুদকের পরিসংখ্যন থেকে জানা যায়, ২০২০ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে একটি আপিলও নিষ্পত্তি হয়নি, হাইকোর্টে নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র চারটি আপিল আর বিচারিক আদালতে নিষ্পত্তি হয়েছে ১৫৫ টি মামলা।

সংস্থাটির দেওয়া পরিসংখ্যান বলছে, ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বিচারাধীন মোট মামলা ছিল ২ হাজার ৯৩১টি। এসব মামলার বিপরীতে, আত্মসাত, পাচার, জ্ঞাতআয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা জড়িত। সংস্থাটির দাবি, ২০২০ সালে বিচার সম্পন্ন হয়ে ৭১ দশমিক ৬১ শতাংশ মামলায় অভিযুক্তদের সাজা নিশ্চিত হয়েছে। তৎকালীন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ এটিকে সংস্থাটির বড় সফলতা হিসেবে আখ্যায়িত করে গণমাধ্যমে বিভিন্ন সময় বিবৃতিও দেন। তবে দুদকের পরিসংখ্যানই বলছে, ওই বছর মাত্র ৫ দশমিক ২০ শতাংশ মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।

শুধু গত বছর নয়,  অনুসন্ধানে জানা যায় বিচারিক আদালতে এক যুগের (২০০৯ এর জানুযারি -২০২০ এর ডিসেম্বর পর্যন্ত) প্রতি বছরই মামলা নিষ্পত্তির হার একেবারেই কম। এই ‘কম নিষ্পত্তির হার’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আইন বিশেষজ্ঞরা এটিকে ‘আশ্চর্যজনক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তারা বলেছে, এই কম নিষ্পত্তির পেছনে সংস্থাটি মূলত দায়ী। এছাড়াও এসব মামলা নিষ্পত্তিতে আদালতেরও দায় রয়েছে।

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, দুদক মামলা দায়ের করলে, তা তদন্ত করতেই বছরের পর বছর ব্যয় হয়। দুদক পরিচালিত হওয়ার জন্য একটি আইন রয়েছে। সেই আইন খোদ সংস্থাটি কতটা মানে, তা নিয়েই প্রশ্ন আছে। অনেক বড় বড় মামলা রয়েছে নানা অজুহাতে সেগুলোর তদন্ত ৫-৭ বছর পর্যন্ত স্থগিত থাকে। এখানেই বিচার শুরু হতে হোঁচট খাচ্ছে।

বিচারিক আদালত ও আপিলে দুদকের মামলা নিষ্পত্তির হারকে ‘হতাশাজনক’ উল্লেখ করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দুদক বরারবই মামলা নিষ্পত্তির হার ও আসামিদের সাজার হার উল্লেখ করে, তারা সফল বলে প্রচারণা করছে, এটি আসলে কিভাবে তারা দাবি করছে সেটি বোধগম্য নয়। দুদক যতোটা উদ্যোগের সাথে মামলা দায়ের করে ততোটা উদ্যোগের সাথে মামলা নিষ্পত্তির জন্য মনোনিবেশ করেন না। তারা মনে করেন মামলা দায়ের করেই তাদের কাজ শেষ।

ড. ইফতেখারুজ্জামান আরো বলেন, মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ার পেছনে দুদকের দুর্বলতা মূলত দায়ী। কারণ মামলা পরিচালনার জন্য যে আইনজীবী প্যানেল রয়েছে, সেই প্যানেলে অভিজ্ঞ আইনজীবী নেই বললেই চলে। এছাড়াও যেসব আইনজীবী রয়েছেন তারা বেশিরভাগ মামলা প্রতি খরচ নিয়ে আদালতে কাজ করেন। অল্প কিছু অইনজীবী রয়েছেন যারা ফুলটাইম ও বেতনভুক্ত হিসেবে কাজ করেন। এছাড়াও দুদকের মামলার বিচার হয় বিশেষ জজ আদালতে। যেসব আদালতেও বিচারক ও জনবলের ঘাটতি রয়েছে।

আইন কমিশনের চেয়ারম্যান সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক বলেন, দুদক আইন-২০০৪ এর ২০ ধারা অনুযায়ী ১২০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্নের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়াও মামলার বিচার ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পন্ন করার যে বিধান সেটিও বাস্তবায়ন করতে হবে। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে মামলা নিষ্পত্তিতে সমস্যাগুলো খুঁজে বের করে তা সমাধানের দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে। এছাড়াও হাইকোর্টে আপিল নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ বেঞ্চ করা সময়ের দাবি।

দুদকের প্রধান আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, দুদকের মামলা নিষ্পত্তির হার কম বলা যাবে না। অন্যান্য মামলা নিষ্পত্তির তুলনায় দুদকের মামলা বেশ নিষ্পত্তি হচ্ছে। তবে হাইকোর্টে রিট বা রিভিশন দায়ের করে অনেক দুর্নীতিবাজ মামলার বিচার স্থগিতাদেশ নিচ্ছে। এটিই মূলত বিচারিক আদালতে মামলা নিষ্পত্তির জন্য বড় বাধা।

সোনালীনিউজ/এমএএইচ

Haque Milk Chocolate Digestive Biscuit
Dutch Bangla Bank Agent Banking
Wordbridge School