• ঢাকা
  • সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ২৪ মাঘ ১৪২৯
বিশেষজ্ঞদের অভিমত

এনআইডির ক্ষেত্রে উচিত ইসির অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো


শামসুল ইসলাম জানুয়ারি ৯, ২০২৩, ১২:২১ পিএম
এনআইডির ক্ষেত্রে উচিত ইসির অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো

ঢাকা: ২০০৬ সাল থেকে এনআইডি তৈরি ও সরবরাহের কাজ ছিল নির্বাচন কমিশনের। তবে এখন এই দায়িত্ব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দিতে যাচ্ছে সরকার। এনআইডি অন্য যে কোনো প্রতিষ্ঠানেই যাক না কেন, তাদের তো এই অভিজ্ঞতা নাই। কাজেই এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো উচিত এবং ব্যয় সাশ্রয়ী হওয়া উচিত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, ডাটাবেজ একটা জায়গায় থাকবে। ডাটাবেজ যেখানেই থাকুক সবগুলো একেবারে আইডেন্টিক্যাল হতে হবে। এটায় দ্বিমত নাই। যদি আইডেন্টিক্যাল না থাকে এটা হাস্যকর হয়ে যাবে। আর ইসি বলছে, এনআইডি স্থানান্তর নিয়ে আমরা বসে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করবো। তবে এখনই কিছু বলবো না। এনআইডি থাকা না থাকা নিয়ে কোনো সংকট নেই।

রাজধানীর আগারগওস্থ নির্বাচন কমিশন ভবনে  ইসি আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এবং সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন বিশেষজ্ঞরা। ইভিএমে (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) ভোটগ্রহণ ব্যবস্থায় এনআইডি ও ভোটার নম্বর ব্যবহারবিষয়ক আয়োজিত মতবিনিময় সভায় শিক্ষাবিদ ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদ, অধ্যাপক হায়দার আলী, ড. মুহাম্মদ মাহফুজুল ইসলাম এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ (সিইসি) অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। 

অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদ বলেন, ইসির অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো উচিত। অন্য যে কোনো প্রতিষ্ঠানেই যাক না কেন, তাদের তো এই অভিজ্ঞতা নাই। কাজেই এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো উচিত এবং ব্যয় সাশ্রয়ী হওয়া উচিত। তিনি বলেন, রাষ্ট্রে আমরা ব্যয় সাশ্রয় করি। কমিশনের এই বিষয়ে অভিজ্ঞতা হয়েছে। অনেক সময় একটি কাজ যখন সুষ্ঠুভাবে চলতে থাকে তখন সেটা আমরা অন্য জায়গায় নিয়ে যাই, নানা ধরনের সমস্যায় ভুগি। কো-অর্ডিনেশনে আমরা মোটেই ভালো না। যাতে সুষ্ঠুভাবে কাজটা হয় এটাই আমরা চাই।

ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, ডাটাবেজ যেখানেই থাকুক সবগুলো একেবারে আইডেন্টিক্যাল হতে হবে। এটায় দ্বিমত নাই। যদি আইডেন্টিক্যাল না থাকে এটা হাস্যকর হয়ে যাবে। এটা তো সিউর। এখন এটা কমিশনে আছে না অন্য কোথাও আছে, এটা তো মেটার করে না। কাজেই ভোটার তালিকার যে ডাটা নেয়া হয় সেটা থেকেই এনআইডি হয়। তিনি বলেন, বেসিক্যালি এখন ইভিএম হবে কি হবে না সেটা নিয়ে আলোচনা হয়নি। আলোচনা হয়েছে যে এই ডাটাগুলো অন্য কোথাও থাকলে ইভিএম ব্যবহারে কোনো ঝামেলা হবে কি না। টেকনিক্যাল পয়েন্ট থেকে তো ঝামেলা হওয়ার কথা না। কারণ একই জিনিস। এখানে থাকুক আর অন্য কোথাও থাকুক।

জাফর ইকবাল বলেন, আরেকটা বিষয় হচ্ছে যে আমরা সবাই সেটা স্বীকার করে নিচ্ছি, অত্যন্ত সুন্দর একটা ডাটাবেজ আছে। ১৮ বছরের নিচে যারা আছে তাদের তথ্য নিতে চাচ্ছি। এখন কমিশন না অন্য কেউ নেবে এটা নিয়ে আলোচনা করেছি।

অধ্যাপক মো. হায়দার আলী বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্রের মালিকানা রাষ্ট্রের। সরকারই টাকা দিয়ে এটা (এনআইডি) তৈরি করেছে। টেকনিক্যাল পয়েন্ট থেকে ইতিবাচক, নেতিবাচক আলোচনা হয়েছে। সিদ্ধান্ত কমিশন বা সরকার নেবে। তারা আরো জানবেন বিষয়টা। তিনি বলেন, তারপর আলোচনা করে বিষয়টা সিদ্ধান্ত নেবেন তারা। ডাটাবেজ একটা জায়গায় থাকবে। কোনো কোনো দেশে কমিশনের কাছে আছে। কোনো কোনো দেশে সরকারের কাছে আছে। আমরা কোনোটাই জোর দিইনি কার কাছে থাকা উচিত।

তথ্য বিশেষজ্ঞ মুহাম্মদ মাহফুজুল ইসলাম বলেন, যেখানেই এটা ইউনিক থাকুক। ইউনিক থাকলে যেখানেই থাকুক এটা নিয়ে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। টেকনিক্যাল ফিচারগুলো যদি সঠিক থাকে, ঠিকভাবে ম্যানেজ হয় যার কাছেই থাকুক কোনো সমস্যা নেই। সন্দেহের কিছু হবে না। দেশের বড় সম্পদ। সুষ্ঠুভাবে মেইনটেন হোক এবং যেখান থেকেই হোক আমরা সেটাই চাই।

ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, এটা উনারা করেছেন, এটা এখানে থাকাই ভালো। তাই এটা নিয়ে প্রযুক্তিবিদদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আমাদের কর্মকর্তারা আমাদের কাছে একটা স্মারকলিপি দিয়েছিলেন ও যুক্তি তুলে ধরেছিলেন যে, ইভিএমে ভোট হলে ও মন্ত্রণালয়ে এনআইডি চলে গেলে ভোট নিতে সমস্যা হতে পারে। যেহেতু বিষয়টা টেকনিক্যাল, তাই আইটি বিশেষজ্ঞদের মতামত জানতে চাওয়া হয়েছে। আমরা সেগুলো শুনেছি। কোনো মতামত দেইনি।

আলোচনায় কেউ বলেছেন, যেহেতু এটা সরকারেরই কাজ, তাই সরকার চাইলে নিতে পারে। তবে যেহেতু ইসি এটা করে আসছে দক্ষতার সঙ্গে, এক্ষেত্রে কমিশনের কাছেই যদি দক্ষতার সঙ্গে রাখা যায়। এখন অন্য কেউ কাজ করবে, সময় লাগবে, এতে মানুষ যে সার্ভিস পাচ্ছে এটা বিঘ্নিত হতে পারে। তাই সরকারকে যদি কনভিন্স করা যায় যে, আপনারা চাইলে নিতে পারেন, তবে এটা এখানে থাকলে ভালো হয়।

নির্বাচন কমিশনার বেগম রাশেদা সুলতানা বলেছেন, এনআইডি স্থানান্তর নিয়ে আমরা বসে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করবো। তবে এখনই কিছু বলবো না। এনআইডি থাকা না থাকা নিয়ে কোনো সংকট নেই। তিনি বলেন, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন (এনআইডি) অনুবিভাগ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অধীনে থাকা না থাকা নিয়ে কোনো সংকট নেই। তবে এটা নিয়ে যেন টানাহেঁচড়া না হয়, যেন সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারি। তাই আমরা প্রযুক্তিবিদদের মতামত নিয়েছি। পরবর্তীসময়ে কমিশন বৈঠকে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

তিনি বলেন, প্রযুক্তিবিদদের মধ্যে কেউ কেউ ইসির অধীনেই এনআইডি থাকার পক্ষে। কেউ কেউ থাকার পক্ষে নয়। আমরা কোনো সিদ্ধান্ত নেইনি। টেকনিক্যাল বিষয়গুলো জানার জন্য বসেছিলাম। এখন আমরা নিজেরা বসবো। বসে সিদ্ধান্ত নেবো। জিনিসটা যেন সঠিক হয়, আমরা যেন সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারি এজন্যই প্রযুক্তিবিদদের সঙ্গে বসেছিলাম।

নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বলেন, যেহেতু সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনআইডি উনারা করবেন। তিনি বলেন, উনারা স্পষ্টভাবে চারজন যেটা বলেছেন, টেকনিক্যালি কোনো সমস্যা হবে না। কারণ সার্ভার তো আমাদের কাছেই থাকছে। এটা কোনো সমস্যা নয়। উনাদের মিশ্র বক্তব্য আসছে। তিনি বলেন, একজন বলেছেন এটা তো নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। আপনারা কেন বাড়তি দায়িত্ব নিতে যাবেন। ইসির কাজ হলো ভোটার তালিকা করা, সুষ্ঠু নির্বাচন করা। এটা তো দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। কাজেই না থাকাই ভালো।

তিনি বলেন, উনারা আরও বলেছেন, ইভিএমে যেখানে ভোট হবে সেখানে শুধু এনআইডি ইনসার্ট করতে হবে। এক্ষেত্রে নামটা চেঞ্জ করে ভোটার কার্ড করে দেবেন। যেহেতু অনেক মানুষ সার্ভিস নেওয়ার জন্য এনআইডি নেয়, এতে ভোটার হাওয়ার আগ্রহ কমে যেতে পারে। তবে ভোট সুষ্ঠু হলে ভোটার হওয়ার আগ্রহ কমে যাবে না।

সোনালীনিউজ/এম

Wordbridge School