• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২১, ১২ মাঘ ১৪২৭

স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ১৩ লাখ পথশিশু


নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ৪, ২০২০, ০৩:০৭ পিএম
স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ১৩ লাখ পথশিশু

ঢাকা : পথশিশুরা এমনিতেই স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে থাকে। তবে করোনা মহামারীর কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি আরো কয়েক গুণ বেড়েছে অনেকটা গোদের উপর বিষফোড়ার মতো। বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনা থেকে বাঁচতে স্বাস্থ্যবিধি মানার মতো যথেষ্ট সচেতন নয় পথশিশুরা। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, মাস্ক কিংবা হ্যান্ডস্যানিটাইজার ব্যবহারের সক্ষমতাও তাদের নেই।

শিশু অধিকার কর্মীদের দাবি, বিশেষ স্বাস্থ্যক্যাম্প পরিচালনা করে করোনা শনাক্ত শিশুদের আইসোলেশন চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক। বাংলাদেশে প্রায় ১৩ লাখ পথশিশু আছে। এর মধ্যে সাড়ে ৪ লাখ রয়েছে ঢাকাতেই। পথশিশুরা রেলস্টেশন, লঞ্চঘাট, বাসস্ট্যান্ড, খোলা রাস্তা কিংবা খোলা জায়গা থাকার ফলে সাধারণ মানুষের চেয়ে তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেক বেশি। আক্রান্ত হলে তারা বুঝতেও পারে না। তাদের চিকিৎসারও তেমন সুযোগ নেই।

স্ট্রিট চিলড্রেন অ্যাক্টিভিস্টস নেটওয়ার্ক (স্ক্যান) তথ্য বলছে, অন্য সাধারণ সময়ের চেয়ে বর্তমানে অতিমাত্রায় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে পথশিশুরা। এ নিয়ে সরকারি বা বেসরকারি কোনো পক্ষ তেমন সক্রিয় নই। বরং লকডাউনের সময় শিশুদের নিয়ে অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগ থমকে গেছে। পথশিশুদের নিরাপদ কোনো আশ্রয় না থাকায় করোনার এ সময়ে বহুল প্রচলিত শব্দ হোম কোয়ারেন্টাইন কিংবা আইসোলেশন পথশিশুদের কাছে দিবাস্বপ্নের মতোই।

সংস্থাটি লকডাউনের শুরুতে ঢাকার আটটি পয়েন্টে ৪৫২ জন পথশিশুর ওপর একটি জরিপ পরিচালনা করে। এতে  দেখা যায়,  করোনা  নিয়ে পথশিশুদের কোনো ধারণা নেই। তাদের মধ্যে মাস্ক কিংবা হ্যান্ডস্যানিটাইজার ব্যবহারের কোনো বালাই নেই। তারা মনে করে, করোনা বড়লোকের অসুখ। যেহেতু শিশুরা জনসমাগম হয়, এমন এলাকায় থাকে, ফলে তাদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি। ফলে  সমাজে দ্রুত সংক্রমণেরও ঝুঁকি তৈরি হয়।

স্ট্রিট চিলড্রেন অ্যাক্টিভিস্টস নেটওয়ার্কের সভাপতি জাহাঙ্গীর নকির বলেন, পথশিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে সরকারের এখনই উদ্যোগ নেওয়া দরকার। বিশেষ করে বিভাগীয় শহরগুলোতে যেসব শিশু ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে, তাদের সরকারি আইসোলেশনে আনতে হবে। আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। একই কথা বললেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সেলিনা খানম। বলেন, অবস্থানগত কারণে পথশিশুরা অনেক বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে। সরকারের উচিত পথশিশুদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যক্যাম্প পরিচালনা করা।

সাবেক সংসদ সদস্য ও খেলাঘর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতিমণ্ডলীর চেয়ারম্যান অধ্যাপিকা পান্না কায়সার বলেন, করোনায় সাধারণ শিশুরা যখন গৃহবন্দি, তখন পথশিশুরা স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে পথেই রয়েছে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে অনেক পথশিশু জীবন হারানোর আশঙ্কা আছে। করোনায় পথশিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে বিশেষ প্রকল্পের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নেহাল করিম বলেন, পথশিশুদের নিয়ে চিন্তা করার মতো সময় সরকারের নেই। যারা সরকারের গুণগান গাইতে গাইতে মুখ দিয়ে ফেনা তুলছে, সরকার তাদের কথাই ভাবে। আমরা যদি করোনা জোয়ারে ভাসি, পথশিশুরাও ভাসবে। সত্যিকার অর্থে আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটলে সমাজে কোনো পথশিশু থাকবে না।

সোনালীনিউজ/এমটিআই