• ঢাকা
  • শনিবার, ২১ মে, ২০২২, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

দেশে বিধবা নারীর সংখ্যা বাড়ছে


নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৩, ২০২১, ০২:৩২ পিএম
দেশে বিধবা নারীর সংখ্যা বাড়ছে

ফাইল ছবি

ঢাকা: গত চার বছরে নানা কারণে দেশে বিধবার হার বেড়েছে ০.৮ ভাগ। বর্তমানে মোট নারী জনগোষ্ঠীর ৯ দশমিক ৫ ভাগ বিধবা। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জরিপ, ২০১৯ বলছে, নারী বিধবা হওয়ার অনেকগুলো কারণ থাকলেও বয়সী নারীরাই বিধবা হচ্ছেন বেশি।

বিভিন্ন গবেষণায় নারীর এই বিধবা হওয়ার পেছনে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রোগ-জটিলতা, দুর্ঘটনা ও অপমৃত্যু কিংবা বেশি বয়সের কারণে স্বামীর স্বাভাবিক মৃত্যুকে দায়ী করা হয়।

বুধবার (২৩ জুন) বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক বিধবা দিবস। দেশে দিবসটি জাতীয়ভাবে পালন হয় না। কারণ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে দিবসটি পালনের আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা এখনও দেয়া হয়নি। ফলে দেশে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় কিংবা সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এ বিষয়ক কোনো কর্মসূচি নেই।

তবে সারা বিশ্বের বিধবাদের সম্মান-মর্যাদা এবং অধিকার সুরক্ষা ও নিশ্চিত করার জন্য যুক্তরাজ্যভিত্তিক ‘দ্য লোম্বা ফাউন্ডেশন’-এর প্রস্তাবনার আলোকে জাতিসংঘে পাস হওয়া সাপেক্ষে ২০১০ সাল থেকে এই দিবসটি এখন আন্তর্জাতিকভাবে পালিত হয়ে আসছে।

এদিকে বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়নের তথ্য অনুসারে, দেশে নারীর সংখ্যা ৮ কোটি ৭ লাখ। বিবিএস-এর ‘দি রিপোর্ট অন বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস ২০১৯’ শীর্ষক এই জরিপ বলছে, এই নারীদের ৬৩ দশমিক ৮ ভাগ বিবাহিত। অর্থাৎ দেশে ৫ কোটি ৫৫ লাখ ৬ হাজার নারী বিবাহিত। যাদের ৯ দশমিক ৫ ভাগ বিধবা। যার সংখ্যা ৫২ লাখ ৭৩ হাজার ৭০ জন।

এই জরিপ আরও বলছে, দেশে এ পরিমাণ বিধবা নারীর মধ্যে মাত্র ০.৪ ভাগের বয়স হচ্ছে ২০-২৪ বছরের মধ্যে। বিধবা নারীর ০.৭ ভাগের বয়স ২৫-২৯ বছর বয়সী। এছাড়া ৩০-৩৪ বছর বয়সী বিধবার সংখ্যা মোট বিধবার ১ দশমিক ৩ ভাগ, ৩৫-৩৯ বয়সী বিধবা ৩ দশমিক ১ ভাগ, ৪০-৪৪ বছর বয়সী বিধবা নারী হার ৬ ভাগ।

আর ১০ দশমিক ৪ ভাগ বিধবা নারীর বয়স ৪৫-৪৯ এর মধ্যে। ১৯.১ ভাগ বিধবা নারীর বয়স ৫০-৪৫ বছরের মধ্যে। ২৭ দশমিক ৮ ভাগ বিধবা নারী ৫৫-৫৯ বছর বয়সী। ৬০-৬৪ বছর বয়সী বিধবা নারী রয়েছেন, যাদের সংখ্যা মোট বিধবার ৪২ দশমিক ৪ ভাগ এবং ৬৭ দশমিক ৫ ভাগ নারী বিধবা রয়েছেন যাদের বয়স ৬৫ তদুর্ধ্ব। অর্থাৎ নারীর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিধবা হওয়ার হারও বাড়ছে।

তবে দাম্পত্য জীবনে নারী-পুরুষের মধ্যে বিচ্ছেদও ঘটছে। ২০১৯ সালের জরিপেও তালাকপ্রাপ্ত বা বিয়ে বিচ্ছেদ হওয়া নারীর সংখ্যা মোট বিবাহিত নারীর ১ দশমিক ৩ ভাগ। এ ক্ষেত্রে বয়সভেদে এই বিচ্ছেদের পরিমাণও কমবেশি হচ্ছে। জরিপ বলছে, ২০-২৪ বছর বয়সের নারীদের মধ্যে তালাকপ্রাপ্ত বা বিয়ে বিচ্ছেদ হওয়ার সংখ্যা ১ দশমিক ৪ ভাগ। এটা ২৫-২৯ বয়সীদের ক্ষেত্র ১ দশমিক ৬ ভাগ, ৩০-৩৪ বয়সীদের ১ দশমিক ৬ ভাগ, ৩৫-৩৯ বয়সী ১ দশমিক ৮ ভাগ, ৪০-৪৪ বছর বয়সী ১ দশমিক ৯ ভাগ, ৪৫-৪৯ বয়সী ২ দশমিক ২ ভাগ, ৫০-৫৪ বছর বয়সী ২ দশমিক ৩ ভাগ, ৫৫-৫৯ বয়সী ২ দশমিক ০ ভাগ, ৬০-৬৪ বছর বয়সী ১ দশমিক ৭ ভাগ এবং ৬৫ তদুর্ধ্বো বয়সীদের মধ্যে ১ দশমিক ৬ ভাগ।

একাধিক জরিপের প্রবণতা লক্ষ্য করলে দেখা যায়, দেশে বিধবা নারীর সংখ্যা বাড়ছে। ২০১৬ সালের জরিপে যেখানে এই হার ছিল মোট নারীর ৮ দশমিক ৭ ভাগ, সেখানে ২০১৯ এ তা ৯ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নিত হয়েছে। তবে এই সময়ে দেশে তালাকপ্রাপ্ত বা বিয়ে বিচ্ছেদ হওয়া নারীর অবস্থান ২০১৬ সালের মতো ২০১৯ সালের জরিপেও ১ দশমিক ৩ ভাগ অপরিবর্তিত রয়েছে।

সোনালীনিউজ/আইএ

Wordbridge School
Sonali IT Pharmacy Managment System