দুই বছরেও শেষ হয়নি নিয়োগ, নতুন করে পরীক্ষা নিচ্ছে চট্টগ্রাম ওয়াসা

  • চট্টগ্রাম প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জানুয়ারি ৩০, ২০২৬, ০২:৫১ পিএম
দুই বছরেও শেষ হয়নি নিয়োগ, নতুন করে পরীক্ষা নিচ্ছে চট্টগ্রাম ওয়াসা

ছবি : প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম ওয়াসায় সহকারী ও উপসহকারী প্রকৌশলীর ২১টি পদে নিয়োগের জন্য আগামীকাল শনিবার লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অথচ একই পদে ২০২৩ সালের ১২ মে নেওয়া লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরও আজ পর্যন্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হয়নি।

ওই পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর ২০২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর মৌখিক পরীক্ষার দিনক্ষণ নির্ধারণ করে অফিস আদেশ জারি করা হয়। তবে নির্ধারিত সেই মৌখিক পরীক্ষা আর অনুষ্ঠিত হয়নি।

সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কয়েকজন কর্মকর্তার পছন্দের প্রার্থীরা লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়ায় মৌখিক পরীক্ষা দুই বছর ধরে ঝুলে আছে। বর্তমান ব্যবস্থাপনাও একই পথে হাঁটছে বলে অভিযোগ তাঁদের।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পরীক্ষার্থী বলেন, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষায় অনিয়মের সুযোগ নেই। কিন্তু ওয়াসার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পছন্দের প্রার্থীরা উত্তীর্ণ না হওয়ায় মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়নি। এতে উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তেমনি রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকেও বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হচ্ছে।

ওয়াসা সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের লিখিত পরীক্ষায় নিয়ম অনুযায়ী ৬৬ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্ন করে নিয়োগ দেওয়া হলে প্রক্রিয়াটি তখনই শেষ করা যেত।

এরপরও নতুন করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় গত ১০ ডিসেম্বর। চুয়েটে অনুষ্ঠেয় এবারের লিখিত পরীক্ষার জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মনোয়ারা বেগম বলেন, আগের পরীক্ষায় কিছু নিয়ম-কানুনের ব্যত্যয় ছিল। সেগুলো সংশোধন করে নতুনভাবে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।

আগের পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ নিশ্চিত না করায় রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অর্থ ব্যয় হলেও নিয়ম-কানুন মেনে পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পিপি অ্যাডভোকেট মোকাররম হোসাইন বলেন, আগের উত্তীর্ণদের ঝুলিয়ে রেখে নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া এবং রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে অর্থ ব্যয় করা আইনের ব্যত্যয় এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।

পিএস

Link copied!