ছবি : প্রতিনিধি
পাথরঘাটা (বরগুনা): আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে উঠেছে বরগুনা-২ (পাথরঘাটা, বামনা ও বেতাগী) নির্বাচনী এলাকা। পোস্টার, ব্যানার ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণার কোনো কমতি নেই,তবুও সাধারণ ভোটারদের মাঝে দেখা গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
বিশেষ করে ৯ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও ভোটারদের কাছে পরিচিত মুখ হিসেবে আলোচিত হচ্ছেন মাত্র ৩ জন। বাকি ৬ প্রার্থীকে নিয়ে ভোটারদের মাঝে এক ধরনের অপরিচিতি ও অনাগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে।
নির্বাচনী মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, ভোটারদের মুখে মুখে প্রধানত তিন নাম ঘুরপাক খাচ্ছে। তারা হলেন- বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী মো. নূরুল ইসলাম মণি (ধানের শীষ)। সাবেক সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি এলাকায় ব্যাপক পরিচিত। দলের তৃণমূল পর্যায়ে তার শক্তিশালী অবস্থান এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার তাকে আলোচনার শীর্ষে রেখেছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. সুলতান আহমদ (দাঁড়িপাল্লা) দীর্ঘদিন ধরে মাঠে সক্রিয়। দলটির সুসংগঠিত ভোটব্যাংক এবং প্রার্থীর পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি তাকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। দলের নেতারা মনে করছেন, নারী ভোটারদের অধিকাংশ ভোট তারা পাবেন।
এরপর মাঠে সক্রিয় অবস্থানে রয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান (হাতপাখা)। তিনি পাথরঘাটা থেকে বেতাগী পর্যন্ত চষে বেড়াচ্ছেন। বিশেষ করে ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি একটি বড় বলয় তৈরি করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বাকি ৬ জন প্রার্থী ভোটারদের কাছে অচেনা। দলগুলো প্রার্থী দিলেও সাধারণ ভোটাররা তাদের নাম বা রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে অনেকেই জানেন না। এই তালিকায় রয়েছেন: বাংলাদেশ কংগ্রেস থেকে মো. সাব্বির আহম্মেদ (ডাব), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি থেকে মো. কামরুজ্জামান লিটন (কাঁঠাল), জাতীয় পার্টি থেকে আবদুল লতিফ ফরাজী (লাঙ্গল), জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) থেকে সৈয়দ মো. নাজেস আফরোজ (সিংহ), ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) থেকে মো. সোলায়মান (আম) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রাশেদ উদ জমান (জাহাজ)।
পাথরঘাটা বাজারের ভোটার কবির বলেন, টিভি বা ফেসবুকের খবরে অনেকের নাম শুনি, কিন্তু মাঠে তাদের কাউকে খুব একটা দেখি না। নূরুল ইসলাম মণি বা ডা. সুলতান আহমেদকে চিনি, কিন্তু বাকিদের চিনবো কীভাবে?
বেতাগীর কৃষক আব্দুল লতিফ জানান, ভোট আইলেই অনেকে খাড়ায় (দাঁড়ায়), কিন্তু কাজের সময় কাউকে পাওয়া যায় না। চেনা মানুষের মধ্যেই ভোট দেওয়ার চিন্তা আছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের মাঝে এই অপরিচিতির প্রধান কারণ হলো প্রার্থীদের মাঠ পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদী গণসংযোগের অভাব। বড় দলগুলোর বাইরে ছোট দলগুলো কেবল নির্বাচন ঘনিয়ে এলে প্রার্থী ঘোষণা করে, ফলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাদের দূরত্ব থেকে যায়। তবে নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসবে, প্রচারণার মাধ্যমে এই দূরত্ব কতটা কমানো যায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
বরগুনা-২ আসনে শেষ পর্যন্ত লড়াই হবে ‘ধানের শীষ’ এবং ‘দাঁড়িপাল্লা’ এই দুই প্রার্থীর মধ্যে বলে মনে করছেন এলাকার সচেতন ভোটাররা। নাকি ‘অচেনা’ কেউ চমক দেখাবেন, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ভোটের দিন পর্যন্ত।
বরগুনা -২ (পাথরঘাটা, বামনা ও বেতাগী) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৭৪৪ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৬৯ হাজার ৭৭৫ জন, পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৭ হাজার ৯৬৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৪ জন। এই আসনে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১২২টি।
পিএস
আপনার মতামত লিখুন :