বয়স আর অক্ষমতাকে পেছনে ফেলে ভোট দিলেন ৭০ বছরের বৃদ্ধ

  • নাটোর প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬, ১২:৫৫ পিএম
বয়স আর অক্ষমতাকে পেছনে ফেলে ভোট দিলেন ৭০ বছরের বৃদ্ধ

ছবি : প্রতিনিধি

নাটোর: গণতন্ত্রের প্রতি অগাধ ভালোবাসা আর ভোটাধিকার প্রয়োগের প্রবল আগ্রহ| এই দুই শক্তিতেই ভর করে ছেলের কোলে চড়ে ভোটকেন্দ্রে হাজির হলেন পা হারানো ৭০ বছরের বৃদ্ধ জনাব আলী। বয়সের ভার আর শারীরিক অক্ষমতাও তাকে আটকাতে পারেনি নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আনন্দ থেকে।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে নাটোর সদর উপজেলার হালসা উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে দেখা যায় হৃদয়ছোঁয়া এই দৃশ্য। ছেলে শরীফুল ইসলামের কোলে চড়ে কেন্দ্রে এসে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন তিনি। তাকে ঘিরে কেন্দ্রের ভোটার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যেও সৃষ্টি হয় আবেগঘন পরিবেশ।

জনাব আলী নাটোর সদর উপজেলার হালসা ইউনিয়নের চিড়াখোলা গ্রামের বাসিন্দা এবং প্রয়াত নছের ফকিরের ছেলে। পরিবারে স্ত্রী, তিন ছেলে ও নাতি-নাতনি নিয়ে তার সংসার। বয়সের কারণে চলাফেরায় অসুবিধা থাকলেও নির্বাচনের দিন ভোট দেওয়ার ইচ্ছা ছিল অদম্য।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে যোহরের নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে এক দুর্ঘটনায় তার ডান পা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর থেকে তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাচলের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। বর্তমানে ছেলেদের সহযোগিতায় চলাফেরা করেন এই বৃদ্ধ। তবুও ভোটের দিন আসতেই ভোট দিতে যাওয়ার জন্য তিনি প্রবল আগ্রহ প্রকাশ করেন।

ভোট দেওয়ার পর আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জনাব আলী বলেন, “অনেক বছর পর ভোট দিতে আইছি। ভোট দিতে পেরে অনেক ভালো লাগছে। জীবনে কতবার ভোট দিছি মনে নাই, তবে অনেকবার দিছি। আল্লাহ বাঁচিয়ে রাখলে সামনে আবারও ভোট দেবো।”

তার ছেলে শরীফুল ইসলাম জানান, “বাবা এখন আর হাঁটতে পারেন না, কথাও স্পষ্টভাবে বলতে পারেন না। আমাদের সাহায্যেই চলতে হয় তাকে। তবুও ভোটের দিন আসতেই খুব আগ্রহ দেখান। বাবার ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে তাকে কোলে করে কেন্দ্রে নিয়ে আসি। তিনি তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন। ভোট দিতে পেরে বাবা খুবই খুশি।”

স্থানীয় ভোটাররাও এই দৃশ্য দেখে অভিভূত হন। অনেকেই বলেন, বয়স কিংবা শারীরিক প্রতিবন্ধকতা যে ভোটাধিকারের পথে বাধা হতে পারে না—জনাব আলী তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

হালসা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা আশরাফ আলী জানান, এমন দৃশ্য আমাদেরও অনুপ্রাণিত করে। বৃদ্ধ মানুষটি কষ্ট করে ভোট দিতে এসেছেন—এটাই প্রমাণ করে মানুষ ভোটের প্রতি কতটা শ্রদ্ধাশীল।

ভোটের দিনে জনাব আলীর এই উপস্থিতি যেন আবারও মনে করিয়ে দিল—গণতন্ত্রের শক্তি মানুষের মধ্যেই নিহিত, বয়স বা শারীরিক সীমাবদ্ধতা তাকে দমিয়ে রাখতে পারে না।

পিএস

Link copied!