ফাইল ছবি
বৈশাখের শুরু থেকেই তীব্র তাপপ্রবাহ ও উচ্চ আর্দ্রতায় পাবনার ঈশ্বরদীসহ বিভিন্ন এলাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অসহনীয় গরমে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষক, শ্রমিক ও দিনমজুররা। এতে কৃষি উৎপাদন নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বুধবার ঈশ্বরদীতে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ। ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হেলালুর রহমান জানান, গত ৪ এপ্রিল মৌসুমের প্রথম তাপপ্রবাহে তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি। পরে কিছুটা কমলেও ১২ এপ্রিল থেকে আবার তাপপ্রবাহ শুরু হয়। মঙ্গলবার তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি, যা পরদিন আরও বেড়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে।
প্রচণ্ড গরমে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি। শহর থেকে গ্রাম, পথঘাট—সবখানেই বিরাজ করছে অসহনীয় উত্তাপ। তপ্ত রোদে কাজ করতে গিয়ে অল্প সময়েই হাঁপিয়ে উঠছেন শ্রমিকরা। শৈলপাড়া এলাকায় ইট ভাঙার কাজ করা শ্রমিক শফিকুল আলম জানান, তীব্র গরমে টানা কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না, কিছুক্ষণ পরপরই বিশ্রাম নিতে হচ্ছে।
তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে রাস্তাঘাটেও মানুষের চলাচল কমে গেছে। পরিবহনচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, দুপুরের দিকে যাত্রী কম থাকায় আয় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। একই চিত্র দোকানপাটেও। স্টেশন রোডের ব্যবসায়ী টোকন জানান, দোকান খোলা থাকলেও ক্রেতা নেই বললেই চলে।
চিকিৎসক আব্দুল বাতেন বলেন, তাপপ্রবাহে পানিশূন্যতা ও বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। এ সময় বেশি করে পানি পান, সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা এবং শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মমিন বলেন, তীব্র তাপদাহে শ্রমিকদের কর্মক্ষমতা কমে যাচ্ছে, যা কৃষিকাজে প্রভাব ফেলছে। তিনি দুপুরের তীব্র রোদ এড়িয়ে কাজ করা, বিরতি নেওয়া এবং পর্যাপ্ত পানি পান করার পরামর্শ দেন।
এসএইচ
আপনার মতামত লিখুন :