বুক ভরা স্বপ্ন নিয়ে জমিতে সোনালী ধান রোপণ করেন গ্রামের মেহনতি কৃষকরা। ঘাম ঝড়ানো শ্রমের বিনিময়ে উৎপাদিত ধানের ন্যায্য মূল্য পেতে আপনজন নিয়ে কিছুটা স্বাচ্ছন্দ্যে থাকবেন- এমনটাই আশা কৃষকের । চুয়াডাঙ্গার গ্রামীণ জনপদে।মাঠজুড়ে এখন শুধু সোনালী মায়াবী হাতছানি। বাতাসের সঙ্গে সোনালী ধানের শীষে রোদ আর হিমেল হাওয়ায় ফসলের মাঠে মাঠে দোল খাচ্ছে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন।ধানের শীষ আর সেই দোলায় লুকিয়ে আছে হাজারো কৃষকের রঙিন স্বপ্ন।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে,জেলার সব এলাকার মাঠ গুলোতে একই চিত্র। আলমডাঙ্গা উপজেলায় জুড়ে ফসলের মাঠ, সবুজ বর্ণ থেকে হলুদ বর্ণ ধারণ করতে শুরু করেছে। আর মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই কৃষকদের ধান কেটে ঘরে তোলার উপযোগী হবে। বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ মাঠেই ধানের শীষে পাক ধরেছে। আবার কোন কোন মাঠে সবুজ শীষও লক্ষ্য করা গেছে।
দামুড়হুদা উপজেলায় রোপা আমন ধানের পর রবি ফসলের চাষ হয় প্রচুর। এজন্য বোরো ধান রোপণ করে থাকে। কিন্তু এবার বৃষ্টির জন্য কিছুটা দেরিতে রোপণ হয়। বেশির ভাগ কৃষকরা সেচের পানিতেই রোপন করে ফেলেন। যার কারণে বাড়তি খরচও গুণতে হয়। মাঝে প্রচুর বৃষ্টি হওয়ায় স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলে কৃষকরা। এবার ধান চাষাবাদে কৃষকদের দ্বিগুণের বেশি খরচ গুণতে হয়েছে। সেচের পানিতে রোপণসহ, বাড়তি দামে সার কীটনাশক ব্যবহার ইত্যাদি কৃষকদের মড়ার উপর খাড়ার ঘায়ের মতো হয়ে আছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা জানান, এবার বোরো ধান রোপন করা থেকে শুরু করে পরিচর্যায় খরচ বেশি হয়েছে। আর কিছুদিন পর পাকা ধান ঘরে উঠবে সেই অপেক্ষায় দিন গুনছে কৃষকরা। আবাদ হলেও সেচ নিয়ে কৃষকরা হতাশা বিরাজ করছে,এখন লোডশেডিং চলছে কয়েকদিন আগেও কৃষকরা পর্যাপ্ত বিদ্যুৎসেবা পেয়েছেন কিন্তু এখন প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ ঘন্টা লোডশেটিং চলছে। আবার যেখানে ডিজেলচালিত মেশিনের ওপর সেচ নির্ভর, সেখানে কৃষকরা পর্যাপ্ত পরিমাণ ডিজেল পাচ্ছে না। কৃষকদের দাবি, ধান উৎপাদনে সেচ, শ্রমিকের মজুরি, সার ও কীটনাশকের দাম বেড়ে যাওয়ায় কৃষকের উৎপাদন খরচও বেড়ে গেছে। ঝাঁঝালো রোদের মাঝে মাঠে মাঠে সবুজ আর সোনালী ধানের হাসি যেন কৃষকদের মনে আনন্দ বয়ে আনছে। এছাড়াও এই বছরে ধানের বাম্পার ফলন হবে আশা করছেন কৃষকরা।
কৃষক নাসির উদ্দীন বলেন, ‘ধান আবাদে তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। ফলনও বাম্পার হয়েছে। আমার জমিতে ধান কাটা শুরু করেছি। আশা করছি ঝড়-বৃষ্টি না হলে আগামী তিন-চার দিনের মধ্যে সব ধান ঘরে তুলতে পারব। শুনেছি বাজারে দাম ভালো। আশা করছি এবার লাভ হবে।’
কুড়ুলগাছি গ্রামের কৃষক ইয়াকুব বলেন, ‘আমার ছয় বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছি। শুরুর দিকে পানি না পেলেও পরে যথেষ্ট পানি পেয়েছি। প্রায় জমির ধান পেকে গেছে। কয়েক দিনের মধ্যে ধান কাটা-মাড়াই শুরু করব।’
দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জানান, চলিত বছরে এ উপজেলায় ৮ হাজার ৭৫৭হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮হাজার ৭৫৭ হেক্টর। এখনো পর্যন্ত কৃষকদের ধান ভালো পর্যায়ে আছে। অফিস থেকে কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকেরা সঠিক সময় ধান কেটে ঘরে তুলতে পারবেন বলে আশা করছি।
জীবননগর উপজেলা কৃষি অফিসার আলমগীর হোসেন।জানান, ৭ হাজার ২৬২হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ হাজার ২৫০ হেক্টর। এবছর বোরো ধান চাষ বেশী হয়েছে। এখনো পর্যন্ত কৃষকদের ধান ভালো পর্যায়ে আছে, আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে কৃষকেরা কাঙ্খিত ফলন পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, ‘বোরো ধানের সেচ নিয়ে আমাদের কাছে এখনো পর্যন্ত কোনো কৃষক অভিযোগ করেননি। এখন লোডশেডিং হলেও কয়েকদিন আগেও কৃষকরা পর্যাপ্ত বিদ্যুৎসেবা পেয়েছেন। আবার যেখানে ডিজেলচালিত মেশিনের ওপর সেচ নির্ভর, সেখানে কৃষকরা পর্যাপ্ত ডিজেল পেয়েছেন। পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ এবং ডিজেলের সমন্বয়ে কৃষক সুবিধা মতো বোরো ধানে সেচ দিতে পেরেছেন। এবার বোরো মৌসুমে জেলায় ৩৫ হাজার ২৩৬ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। ফলনও খুব ভাল হয়েছে। ভুট্টা কর্তন করার ফলে সেই জমিতে কৃষকরা পাট চাষ করছে কৃষকদের নানা ধরনের সহায়তা দিয়ে সাহায্য করে যাচ্ছি বলে জানান কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা।
এম
আপনার মতামত লিখুন :