প্রেম থেকে পরিণয়: দুবাইয়ের সলেমানকে বিয়ে করছেন শরীয়তপুরের সুবর্ণা

  • শরীয়তপুর প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুন ১৫, ২০২৬, ০৮:৫৪ পিএম
প্রেম থেকে পরিণয়: দুবাইয়ের সলেমানকে বিয়ে করছেন শরীয়তপুরের সুবর্ণা

ছবি: প্রতিনিধি

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার মূলনা ইউনিয়নের সাবেক লাউখোলা গ্রামের তরুণী সুবর্ণার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল দুবাইয়ের নাগরিক সলেমানের। ভিন্ন দুই দেশের এই ভালোবাসার গল্প অবশেষে পরিণয় লাভ করতে যাচ্ছে। দুই পরিবারের সম্মতিতে জাজিরাতেই তাঁদের ধুমধাম করে বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে চাকরির উদ্দেশ্যে দুবাই যান ফারুক খানের মেয়ে সুবর্ণা। সেখানে আবুধাবির একটি পার্কে প্রথম পরিচয় হয় দুবাইয়ের নাগরিক সলেমানের সঙ্গে। প্রথমে সাধারণ বন্ধুত্ব, এরপর ধীরে ধীরে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই ভালোবাসার টানেই এবার বাংলাদেশে ছুটে এসেছেন সলেমান।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সলেমান পূর্বে বিবাহিত এবং তিনি তিন সন্তানের জনক। বিষয়টি সম্পর্কে সুবর্ণা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা আগে থেকেই অবগত রয়েছেন। সুবর্ণার পরিবারের সম্পূর্ণ সম্মতিতেই এই বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে।

গতকাল রোববার রাতে সুবর্ণার বাড়িতে জমকালো গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। আজ সোমবার বিয়েকে ঘিরে ব্যাপক আয়োজন করেছে কনে পক্ষ। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, প্রতিবেশীসহ প্রায় দুই হাজার অতিথির জন্য করা হয়েছে বিশাল ভোজের ব্যবস্থা। ভিন্ন দেশের বরকে দেখতে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। আজই আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হবেন দুবাইয়ের নাগরিক সলেমান ও জাজিরার সুবর্ণা।

এ বিষয়ে সুবর্ণা বলেন, “আমি তাকে ভালোবাসি, সেও আমাকে ভালোবাসে। আমরা দুজনের সম্মতি ও দুই পরিবারের আন্তরিকতায় বিয়ে করছি। নতুন জীবনের শুরুতে আমরা সবার কাছে দোয়া চাই।”

তবে পেশাগত কারণে গণমাধ্যমের সামনে কথা বলতে রাজি হননি বর সলেমান। তিনি জানিয়েছেন, দুবাই পুলিশে কর্মরত থাকায় ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে মিডিয়ার সামনে আসার ব্যাপারে কিছু প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে তাঁর।

এদিকে এই বিয়ে ঘিরে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। ভিন্ন দেশের দুই মানুষের ভালোবাসার গল্প এখন পুরো এলাকার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ছেলে ভালো হলে এবং দুই পরিবারের সম্মতি থাকলে এটি আনন্দের বিষয়। তবে এটি যেন কোনো ধরনের প্রতারণা না হয়, সেটাই কাম্য। মেয়েটি যাতে প্রবাসে গিয়ে সুখী জীবন কাটাতে পারেন, এলাকাবাসী হিসেবে সেই প্রত্যাশাই সবার।

এসএইচ 

Link copied!