যৌতুকের জন্য গৃহবধূর দু’পা ভাঙল স্বামী, আটক ২

  • লালমনিরহাট প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুন ১৫, ২০২৬, ০৮:৫৯ পিএম
যৌতুকের জন্য গৃহবধূর দু’পা ভাঙল স্বামী, আটক ২

ফাইল ছবি

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় যৌতুকের দাবি পূরণ না করায় এক গৃহবধূকে পিটিয়ে দুই পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় আদালতে মামলা করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ১৮ মাস বয়সী শিশু সন্তানকে অপহরণ ও ভারতে পাচারের চেষ্টাকালে স্বামীসহ দু’জনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।

নৃশংসতার শিকার ওই গৃহবধূর নাম ভরতী রানী রায় (২৪)। তিনি কালীগঞ্জ উপজেলার খালীশা মদাতী গ্রামের ধরনী চন্দ্র বর্মনের মেয়ে।

ঘটনার বিবরণ ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের টাকার জন্য ভরতী রানীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ এপ্রিল যৌতুকের দাবিতে স্বামী দীপন দেব সিংহ (৩০) ও শাশুড়ি অনিতা রাণী রায় ভরতী রানীর ওপর নৃশংস হামলা চালান। এতে ভরতী রানী গুরুতর আহত হন এবং তাঁর দুটি পা-ই ভেঙে যায়।

এই ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় হাতীবান্ধা থানায় অভিযোগ দেওয়া হলেও পুলিশ মামলা রেকর্ড করেনি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের। বাধ্য হয়ে পরিবারটি আদালতের দ্বারস্থ হয়। পরে গত ২২ মে লালমনিরহাটের একটি আদালতে মামলা দায়ের করা হলে, আদালত বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য হাতীবান্ধা থানা-পুলিশকে নির্দেশ দেন।

আদালতে মামলার খবর জানতে পেরে চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে অভিযুক্তরা। পরে গত ২৪ মে স্বামী দীপন দেব সিংহ ও তাঁর প্রতিবেশী সহযোগী তপু চন্দ্র বর্মন (২২) ভুক্তভোগী গৃহবধূর বাপের বাড়িতে চড়াও হন। তাঁরা কৌশলে ভরতী রানীর ১৮ মাস বয়সী শিশু সন্তান দুয্য দেব সিংহকে ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় পরিবারের চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে দীপন ও তপুকে হাতেনাতে আটক করে কালীগঞ্জ থানা-পুলিশে সোপর্দ করেন।

স্থানীয়দের মধ্যে গুঞ্জন রয়েছে, দীপন দেব সিংহের ভাই গৌতম দেব সিংহ দীর্ঘদিন ধরে ভারতে বসবাস করছেন। মূলত শিশুটিকে অপহরণ করে ভারতে পাচার করার একটি সুপরিকল্পিত ছক ছিল তাদের। এছাড়া মামলা তুলে নেওয়ার জন্য ভরতী রানী ও তাঁর পরিবারকে ক্রমাগত প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করেছে।

বর্তমানে গুরুতর আহত ভরতী রানী চিকিৎসাধীন অবস্থায় চরম উদ্বেগ ও জীবন শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। নিজের এবং সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে পুরো পরিবারটি এখন চরম আতঙ্কিত।

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, আদালতের নির্দেশনা ও অভিযোগ হাতে পাওয়া গেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এসএইচ 

Link copied!