ছবি : প্রতিনিধি
পাথরঘাটা:- বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় পানিতে ডুবে নাবিল (৫) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর মাত্র তিন ঘণ্টা আগে ছেলেকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া মায়ের একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস এখন স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা ও নেটিজেনদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুর ১২ টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের হাজারখাল এলাকায় নিজ বাড়ির পুকুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত নাবিল স্থানীয় বাসিন্দা হাসান মিয়ার ছেলে। তার মা ফাহিমা রিমু পাথরঘাটা মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চাকরি করেন। কর্মব্যস্ততার কারণে নাবিল বেশিরভাগ সময় নানির কাছেই থাকত।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার মাত্র ২০ মিনিট আগেও নাবিল তার মায়ের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলেছিল। এরপর কিছু সময় তাকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে ঘরের সামনের পুকুরপাড়ে নাবিলের জুতা পানিতে ভাসতে দেখতে পান তার চাচাতো মামা বেল্লাল। সঙ্গে সঙ্গে তিনি পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে ঘাটের নিচ থেকে নাবিলকে উদ্ধার করেন।
পরে দ্রুত তাকে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হৃদয়বিদারক এ ঘটনার প্রায় তিন ঘণ্টা আগে মা ফাহিমা রিমু নিজের ফেসবুক আইডিতে ছেলেকে নিয়ে লিখেছিলেন, “আমার সন্তানকে কে ভালোবাসলো আর কে ভালোবাসলো না, তা নিয়ে আমার কোনো আক্ষেপ নেই। কারণ আমি একাই আমার সন্তানের জন্য পুরো একটা পৃথিবী। আলহামদুলিল্লাহ, আমার সন্তানের হাসিই আমার সবচেয়ে বড় সুখ।”
মর্মান্তিক এই ঘটনার পর স্ট্যাটাসটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই মন্তব্যে শোক প্রকাশ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
শোকাহত মা ফাহিমা রিমু কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলেকে আমি অনেক ভালোবাসতাম। এখন আমি কাকে নিয়ে বাঁচবো? মাত্র ২০ মিনিট আগেই ও আমার সঙ্গে কথা বলেছে। এখন মনে হচ্ছে, ওর কথাগুলো যেন অন্যরকম ছিল।”
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নাবিলের বাবা ঢাকায় অবস্থান করছেন। তিনি রাত ৯টার দিকে বাড়িতে পৌঁছানোর পর জানাজার নামাজ শেষে নাবিলকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে সন্তানের প্রতি মায়ের নিঃস্বার্থ ভালোবাসার প্রকাশ, আর কয়েক ঘণ্টা পর সেই সন্তানকে চিরবিদায়—এ মর্মান্তিক ঘটনায় পাথরঘাটাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
পিএস
আপনার মতামত লিখুন :