এক দশক ধরে ঝুঁকিপূর্ণ সেতুতে চলছে যানবাহন পারাপার

  • ঝালকাঠি প্রতিনিধি  | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুলাই ২৬, ২০২৬, ০২:৫৮ পিএম
এক দশক ধরে ঝুঁকিপূর্ণ সেতুতে চলছে যানবাহন পারাপার

ছবি : প্রতিনিধি

ঝালকাঠি: বরিশাল-খুলনা আঞ্চলিক মহাসড়কের ঝালকাঠি সদর উপজেলার বাসন্ডা নদীর ওপর দীর্ঘ ৩৭ বছরের পুরনো বেইলি সেতু। প্রতিদিন শত শত বাস, ট্রাক, কাভারভ্যান, ও পণ্যবাহী যানবাহনের ভার বহন করে সেতুটি বয়সে ন্যুজহয়ে পড়েছে। গাড়ি  উঠলেই কেঁপে ওঠে পুরো সেতু। স্টিলের পাটাতন আলগা হয়ে যাওয়ায় বিকট শব্দে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে এলাকা। কিছুদিন পর পর কর্তৃপক্ষের ঝালাই করে দেয়া কয়েকদিন যেতে না যেতেই আবার শুরু হয় সমস্যা।

১০ বছর পূর্বে সেতুটিকে ঝুকিপূর্ণ ঘোষণা করে সড়ক ও জনপদ কর্তৃপক্ষ। ১১৩টি জোড়াতালি দেয়া, নাট বল্টু আলগা হয়ে যাওয়া সেতুতেই জান ও মালের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে  চালক, যাত্রী  ও সাধারণ মানুষ। 

সড়ক ও জনপদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী ১৯৮৯ সালে বাসন্ডা নদীর ওপর ৩৯৪ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ২৫ ফুট প্রস্থের এই বেইলি সেতুটি নির্মাণ করা হয়।  এই সেতুর ওপর নির্ভর করছে বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বাগেরহাট, খুলনা, যশোর সহ দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ। অতিরিক্ত চাপের কারণে স্টিলের পাটাতন ফেটে নাট বল্টু আলগা হয়ে সেতুর বিভিন্ন স্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

স্থানীয়দের আশংকা কোন সময় যদি সেতুটি ভেঙে পড়ে, তাহলে দক্ষিণাঞ্চলের  অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। সড়ক ও জনপদ এর প্রকৌশলীরা নিয়মিত মেরামতের মাধ্যমে সেতুটি সচল রাখার চেষ্টা করছে। 

একাধিক পরিবহন চালকেরা জানান, আমাদের গাড়ি যাবার সময় বিকট শব্দে আমরাই আতঙ্কিত হয়ে উঠি। সেতুতে গাড়ি উঠলে সেতুটি কাঁপতে থাকে। যে কোনো সময় মারাত্মক দুর্ঘটনার আশঙ্কায় থাকি আমরা। 

সড়ক ও জনপদ বিভাগ জানায়, নতুন সেতু নির্মাণের জন্য ফিজিবিলিটি স্টাডি সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নথি প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। 

ঝালকাঠি সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহরিয়ার শরীফ খান বলেন, বাসন্ডা বেইলি সেতুর পরিবর্তে নতুন স্থায়ী সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে ফিজিবিলিটি স্টাডি সম্পন্ন হয়েছে। অনুমোদন পেলেই নতুন নির্মাণ কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

এক দশক ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা, অসংখ্যবার মেরামত আর সংস্কার কোটি টাকার জোড়াতালির পরেও এখন পর্যন্ত হয়নি কোনো স্থায়ী সমাধান। এই সেতু এখন শুধু একটা অবকাঠামো নয়,  এটি দক্ষিনাঞ্চলের লাখো মানুষের নিরাপত্তা ও যোগাযোগের ব্যবস্থার সাথে জড়িয়ে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। বড়ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই নতুন সেতু নির্মাণ এখন সময়ের সবচেয়ে জরুরি দাবি সচেতন মহলের। 

ঝালকাঠি ২ আসনের সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য জিবা আমিনা আল গাজী জানান, এ বিষয়ে জাতীয় সংসদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর নিকট জোর দাবি করছি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে দায়িত্ব নিয়ে কথা বলেছি। ইনশাআল্লাহ শীঘ্রই সমাধানের আশা করছি।

পিএস

Link copied!