ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ননদের জামাইয়ের পুরুষাঙ্গে ব্লেডের আঘাত

  • ঝালকাঠি প্রতিনিধি  | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুলাই ৩০, ২০২৬, ০৫:৩৭ পিএম
ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ননদের জামাইয়ের পুরুষাঙ্গে ব্লেডের আঘাত

ছবি : প্রতিনিধি

ঝালকাঠি: ঝালকাঠি সদর উপজেলায় ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ তুলে ননদের জামাইয়ের পুরুষাঙ্গে ব্লেড দিয়ে আঘাত করার দাবি করেছেন এক গৃহবধূ। এ ঘটনায় মিঠু মল্লিক (৪০) নামে এক ফার্মেসি ব্যবসায়ী গুরুতর আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে সদর উপজেলার গাভারামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রমজানকাঠি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত মিঠু মল্লিক বরিশাল জেলার বানারীপাড়া উপজেলার চাখার এলাকার বাসিন্দা। তিনি মৃত মোশাররফ মল্লিকের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ঝালকাঠিতে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করে স্থানীয় মদিনা মার্কেট এলাকায় একটি ফার্মেসি পরিচালনা করতেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে ওই গৃহবধূর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় মিঠু মল্লিককে উদ্ধার করে স্বজনরা প্রথমে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছে। তবে তিনি বর্তমানে কোথায় চিকিৎসাধীন আছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার বিষয়ে ওই গৃহবধূর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তার স্বামী একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক। এর আগেও দুইবার একা পেয়ে মিঠু মল্লিক তার সঙ্গে জোরপূর্বক অনৈতিক আচরণের চেষ্টা করেছিলেন। প্রথমবার বিষয়টি আমি আমার স্বামীকে না জানালেও দ্বিতীয়বার আমার সাথে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়ার পরে বিষয়টি আমি আমার স্বামীকে জানিয়েছিলাম। কিন্তু আমার স্বামী বিষয়টিকে মজা করে বলা কথা বলে মনে করেছিলেন।

ওই নারী আরও  বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে মিঠু মল্লিক তার বাসায় আসেন। একপর্যায়ে তিনি দরজা বন্ধ করে দিলে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এ সময় আত্মরক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি ঘরে থাকা ব্লেড দিয়ে মিঠু মল্লিকের পুরুষাঙ্গে আঘাত করেন।

তিনি বলেন, যে ব্লেড দিয়ে তিনি আঘাত করেছেন, সেটি দিয়ে ওই দিন সকালে আমার স্বামীর পায়ের নখ কেটে দিয়েছিলাম। ঘটনার পরপরই  বিষয়টি আমি আমার স্বামী, মা এবং নবগ্রাম পুলিশ ক্যাম্পের একজনকে ফোন করে জানাই। এবং পরবর্তীতে আমি আমার মায়ের কাছে চলে আসি।

এ বিষয়ে আহত মিঠু মল্লিকের বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। প্রথমবার সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর কলটি কেটে দেওয়া হয়। পরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তার পরিবারের সদস্যদের বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)মো. মাহমুদ হাসান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পিএস

Link copied!