কুড়িগ্রামের ডিসিকে ফোন দিলেই বলেন ‘টেক্সট মি প্লিজ’

  • কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি  | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: আগস্ট ৪, ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম
কুড়িগ্রামের ডিসিকে ফোন দিলেই বলেন ‘টেক্সট মি প্লিজ’

ছবি : প্রতিনিধি

কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের বিরুদ্ধে সংবাদকর্মীদের ফোন না ধরা এবং ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে অনীহার অভিযোগ উঠেছে। জেলার বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে বক্তব্য নিতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি অধিকাংশ সময় ফোন রিসিভ না করে ‘Please text me’ লিখে বার্তা পাঠান বলে অভিযোগ করেছেন জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী। এতে গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ প্রকাশ ও প্রচারের ক্ষেত্রে সাংবাদিকরা নানা ধরনের বিড়ম্বনার মুখে পড়ছেন বলে দাবি তাদের।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সময় টেলিভিশনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি বাদশাহ সৈকত জেলা প্রশাসকের বক্তব্য নিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় দুই ঘণ্টা বসিয়ে রেখেও তিনি বক্তব্য দেননি।

বাদশাহ সৈকত জানান, ৫ বছর ধরে গুরুত্বপুর্ণ বাইপাস সড়কের ভূমি অধিগ্রহণ আটকে রাখার বিষয়ে ডিসির বক্তব্য নিতে যান তিনি। এসময় বক্তব্য না দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে, ডিসি জানান, আমিসহ আমার প্রশাসনের কোন কর্মকর্তা ক্যামেরায় কথা বলবে না।

পরে ওই সাংবাদিক তার নিজের ফেসবুক আইডিতে লিখেন, ‘কোন গোপন রহস্যে সাংবাদিকদের ক্যামেরায় কথা বলতে চান না কুড়িগ্রামের ডিসি অন্নপূর্ণা দেবনাথ, জানতে চায় জাতি!’

শুধু বাদশাহ্ সৈকত নয়, ডিসি যোগদান করার পর থেকে জেলায় কর্মরত কোন মিডিয়ার সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে কথা বলেননি তিনি। এমনকি ডিসির অনুমতি ছাড়া তার অধিনস্ত ইউএনওসহ জেলা প্রশাসনের সকল কর্মকর্তা ক্যামেরার সামনে কথা বলেন না। বিষয়টা এমন যে সাংবাদিকদের নিকট তাদের কোন দায়বদ্ধতা নেই।

ডিবিসি নিউজের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি ওয়াহিদুজ্জামান তুহিন বলেন, জেলার উন্নয়ন, সমস্যা কিংবা সংকট সংক্রান্ত বিষয়ে সংবাদ প্রচারের জন্য জেলা প্রশাসকের বক্তব্য নিতে চাইলেই তিনি বিভিন্ন অজুহাতে তা এড়িয়ে যান।

এসএ টিভির কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, পরপর জেলায় কয়েকজন নারী জেলা প্রশাসক পেয়েছিলাম। কম-বেশি সকলেই একই কাজ করেছেন। জেলাকে এগিয়ে নিতে নারী প্রশাসকই প্রতিবন্ধকতা।

চ্যানেল ওয়ানের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি রাশেদুল ইসলাম বলেন, জেলা প্রশাসক জনগণের সেবক। জনগণ রাষ্ট্রের মালিক এবং গণমাধ্যম সেই জনগণের মুখপাত্র। গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা না বলা মানে জনগণের কাছেই জবাবদিহি এড়িয়ে যাওয়া।

দেশ টিভির কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জুয়েল রানা বলেন, আমি যতবার জেলা প্রশাসকের কাছে বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য নিতে ফোন করেছি, অধিকাংশ সময়ই তিনি ফোন না ধরে ‘Please text me’ লিখে বার্তা পাঠিয়েছেন।

জাগো নিউজ ও দৈনিক কালের কণ্ঠের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি রোকনুরজ্জামান মানু বলেন, বিভিন্ন সংবাদের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য ফোন করা হলেও তিনি বেশিরভাগ সময় ফোন রিসিভ করেন না।

সিনিয়র সাংবাদিক দীপ্ত টিভির কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি মো. ইউনুছ আলী বলেন, এটি খুবই দুঃখজনক। সংবাদমাধ্যমকে এড়িয়ে চলা সুখকর নয়।

নাগরিক টিভির কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি ফজলুল করিম ফারাজি বলেন, কুড়িগ্রামবাসীর কপালে খারাপ। কারণ পর পর নারী জেলা প্রশাসক কুড়িগ্রামে যোগদানের কারণে এ জনপদের মানুষ উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ এর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

পিএস

Link copied!