মানবতাবিরোধী অপরাধ

কাদের-সাদ্দামসহ ৭ নেতার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু

  • আদালত প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬, ০৯:০২ এএম
কাদের-সাদ্দামসহ ৭ নেতার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু

জুলাই গণঅভ্যুত্থান ঘিরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাত শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে আজ থেকে আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মামলার বিচারপর্বে প্রবেশ করবে ট্রাইব্যুনাল; একই দিনে সাক্ষ্যগ্রহণও শুরু হতে পারে।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এ বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী–এর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। বিচারিক প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

আইন অনুযায়ী এদিন প্রসিকিউশন তাদের ওপেনিং স্টেটমেন্ট উপস্থাপন করবে। এরপর প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে মূল বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হবে। মামলার সাত আসামির কেউই বর্তমানে গ্রেপ্তার নেই; তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগ সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।

গত ২২ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল-২ সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন এবং সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ১৭ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন। এর আগে ১৮ জানুয়ারি অভিযোগ গঠন সংক্রান্ত শুনানি শেষ হয়। পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয় ৮ জানুয়ারি।

গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে ট্রাইব্যুনাল সাতজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়েছে, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে অভিযুক্তরা সমন্বিতভাবে নির্দেশনা, উসকানিমূলক বক্তব্য ও পরিকল্পনার মাধ্যমে সহিংসতা ছড়িয়ে দেন। বিভিন্ন বৈঠকে কঠোর দমন-পীড়নের কৌশল নির্ধারণ, নেতাকর্মীদের মাঠে নামানোর আহ্বান, সশস্ত্র হামলা ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশব্যাপী হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে, যা মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল বলে প্রসিকিউশন দাবি করেছে।

এম

Link copied!