ফাইল ছবি
সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে স্কেল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনার পাশাপাশি অসন্তোষও রয়েছে। মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাজারদরের ঊর্ধ্বগতির প্রেক্ষাপটে নতুন বেতন কাঠামোর দাবি আরও জোরালো হয়েছে। এমন বাস্তবতায় পে স্কেলের পক্ষে অবস্থান জানিয়েছেন তারেক রহমান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিপুল ভোট জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পথে বিএনপি, তারেক রহমানের দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশ। ফলে প্রশ্ন উঠেছে-সরকারি কর্মচারীদের জন্য কি আসছে নতুন সুখবর?
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের প্রেক্ষাপটে সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাস একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। কারণ প্রশাসনই সরকারের নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নের প্রধান হাতিয়ার। প্রশাসনের সন্তুষ্টি ও কর্মোদ্যম নিশ্চিত করতে আর্থিক প্রণোদনা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীরা ২০১৫ সালের ঘোষিত অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেলের আওতায় আছেন। গত এক দশকে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও শিক্ষাব্যয়ের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন বহুবার মহার্ঘ ভাতা বা অন্তর্বর্তীকালীন বেতন সমন্বয়ের দাবি জানিয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের একাংশ বলছেন, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন সহজ সিদ্ধান্ত নয়। এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে বড় অঙ্কের বাজেট ব্যয়, যা সরকারি কোষাগারের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। রাজস্ব আয়, বৈদেশিক ঋণ পরিস্থিতি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বিবেচনায় নিয়েই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
অন্যদিকে প্রশাসনিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন, ধাপে ধাপে বেতন সমন্বয় বা মহার্ঘ ভাতা ঘোষণা একটি মধ্যপন্থা হতে পারে। এতে একদিকে কর্মচারীদের আংশিক স্বস্তি মিলবে, অন্যদিকে সরকারের ওপর তাৎক্ষণিক চাপ কম থাকবে।
তারেক রহমানের পক্ষে অবস্থানকে অনেকেই রাজনৈতিক অঙ্গীকার হিসেবেও দেখছেন। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নতুন সরকারের জন্য একটি বিশ্বাসযোগ্যতার পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সব মিলিয়ে সরকারি কর্মচারীদের প্রত্যাশা এখন নতুন সরকারের দিকে। পে স্কেল বাস্তবায়ন হবে কি না, হলে কবে এবং কীভাবে-তা নির্ভর করবে সরকারের অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার ও নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর। তবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে যে বিষয়টি স্পষ্ট, তা হলো-প্রশাসনের আর্থিক স্বস্তি এখন রাজনৈতিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা হয়ে উঠেছে।
এসএইচ
আপনার মতামত লিখুন :