বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ডের পাহাড়ি এলাকায় শ্বাসনালী কেটে হত্যাচেষ্টার শিকার মেয়ে শিশুটি মঙ্গলবার (৩ মার্চ) মারা গেছে। অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় ইতিমধ্যে মামলা হয়েছে। তারা এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে মুল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে।
শিশুটির চাচা মো. আব্দুল আজিজ বলেছেন, রাত সাড়ে তিনটার দিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই শিশুটি মারা যায়।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খাঁন জানান, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তারা মুল অভিযুক্ত বাবু শেখকে গ্রেপ্তার করেছেন।
পুলিশ জানায়, বাবু শেখের স্থায়ী ঠিকানা গাইবান্ধা জেলায়। তবে তিনি ওই শিশুটির বাড়ির পাশে ভাড়া থাকতেন। নিহত শিশুর বাবার সঙ্গে বাবু শেখের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
চট্টগ্রামের পুলিশের সুপার নাজির আহমেদ খাঁন বলেন, চকলেট কিনে দেওয়া ও বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে মি. শেখ শিশুটিকে বাড়ি থেকে বের করে আনে। তারা বাসে করে প্রথমে সীতাকুণ্ড বাস স্ট্যান্ডে যান, তারপরও সেখান থেকে গহীন জঙ্গলে। ‘সেখানে নিয়ে প্রথমে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। শিশুটি চিৎকারের চেষ্টা করলে বাবু শেখ চাকু দিয়ে শিশুর গলায় পোচ দেন এবং আহত অবস্থায় ফেলে রেখে চলে আসেন।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পার্কের একটি সিসিটিভি ফুটেজে শিশুটিকে বাবু শেখের হাত ধরে হেঁটে যেতে দেখা গেছে। ভিডিওটি সীতাকুণ্ডের বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কের বলে স্থানীয় সাংবাদিকরা নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবু শেখ পুলিশকে বলেছেন, জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে তিনি প্রথমে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এই সময় শিশুটি চিৎকার করলে ও বাবাকে বলে দেবে বলে জানালে বাবু শেখ তার মুখ চেপে ধরেন। এরপর গলা কেটে সেখানেই রেখে চলে আসেন।
পুলিশ তাকে সঙ্গে নিয়ে জঙ্গলের ওই স্থানে গিয়ে শিশুটির রক্তমাখা সালোয়ার উদ্ধার করেছে। এ ঘটনার সঙ্গে আরো
কেউ জড়িত আছেন কি-না, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ, শিশুটির চাচা ও স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাসা থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে, যেখানে শিশুটিকে গুরুতর আহত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল, সেটি ভূমি থেকে প্রায় এক হাজার ফুট উঁচু পাহাড়ি এলাকা।
সীতাকুণ্ড ইকোপার্ক থেকে চন্দ্রনাথ মন্দিরে ওঠার রাস্তার একটি অংশে সংস্কারের কাজ করছিলেন শ্রমিকরা। গত রবিবার শিশুটি যখন দুর্গম পাহাড় থেকে ওই রাস্তা ধরে হেঁটে নেমে আসছিল তখনো তার গলা থেকে রক্ত ঝরছিল বলে শ্রমিকরা স্থানীয় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।
শিশুটি প্রথমে রাস্তার কাজে থাকা এক্সকাভেটরের কাছে এসে কিছু বলার চেষ্টা করছিল। কিন্তু শ্বাসনালী কাটা থাকায় গলা থেকে কোনো শব্দ আসছিল না। দ্রুত সেখানে থাকা শ্রমিকরা কাপড় দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে সেখানে কাজ করার বালুর গাড়িতে করে তাকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান বলে জানিয়েছেন একজন সাংবাদিক।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে তারাও একই বর্ণনা পেয়েছে।
রবিবারই শিশুটিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। ওই রাতেই তার গলায় অস্ত্রোপচারের পর সোমবার সকালে তাকে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেলে নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে
তার মৃত্যু হয়।
সীতাকুণ্ড থানার ওসি জানান, একটু সময় দিন আমাদের। আমরা জড়িত সবাইকেই চিহ্নিত করব ও আইনের আওতায় আনতে পারব আশা করছি। সূত্র : বিবিসি বাংলা
এম
আপনার মতামত লিখুন :