ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীরকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। রোববার (৮ মার্চ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশ।
গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের পর সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে আত্মগোপন করেছিলেন ফয়সাল ও আলমগীর। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এই গ্রেপ্তারকে একটি বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছে। কারণ হাদি হত্যার পর বাংলাদেশে ব্যাপক আলোড়ন ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল।
দুই আসামি গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশের পরই তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে বলেন, আসামিদের ফেরত আনার বিষয়টি মূলত দুই দেশের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হবে। কোন প্রক্রিয়ায় এবং কীভাবে তাদের বাংলাদেশে আনা হবে তা দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করবে।
তবে এ বিষয়ে এখনো ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম।
গোয়েন্দা সূত্র আরও জানিয়েছে, শুধু ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিই নয়, ভারতে অবস্থান করে বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধেও দেশটির কর্তৃপক্ষ অভিযান জোরদার করার আশ্বাস দিয়েছে।
যেভাবে দেশে ফেরানো হতে পারে আসামিদের
ভারত থেকে আসামি ফেরানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২০১৩ সালে স্বাক্ষরিত বহিঃসমর্পণ (এক্সট্রাডিশন) চুক্তি কার্যকর রয়েছে। এই চুক্তির আওতায় দুই দেশ নিজেদের ভূখণ্ডে আশ্রয় নেওয়া অপরাধী বা সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একে অপরের কাছে হস্তান্তর করতে পারে। ২০১৬ সালে এই চুক্তিতে সংশোধনী এনে প্রক্রিয়াটি আরও সহজ করা হয়।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, কোনো অভিযুক্তকে ফেরাতে বাংলাদেশ সরকারকে কূটনৈতিক বার্তা বা ‘নোট ভার্বাল’-এর মাধ্যমে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানাতে হয়। এছাড়া সংশ্লিষ্ট আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানাকেই আসামি প্রত্যর্পণের জন্য যথেষ্ট প্রমাণ হিসেবে ধরা হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, সাধারণত সেই সব অপরাধের ক্ষেত্রে প্রত্যর্পণ প্রযোজ্য, যেখানে শাস্তি অন্তত এক বছর কারাদণ্ড। হত্যা, চাঁদাবাজি ও গুরুতর ফৌজদারি অপরাধগুলো এর আওতায় পড়ে।
তবে যদি কোনো অপরাধকে রাজনৈতিক বলে বিবেচনা করা হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট দেশ চাইলে প্রত্যর্পণে আপত্তি জানাতে পারে। যদিও হত্যা বা সহিংস অপরাধকে রাজনৈতিক অপরাধ হিসেবে গণ্য না করার বিধানও চুক্তিতে রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টনের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় জুমার নামাজ শেষে প্রচারণা চালানোর সময় দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ইতোমধ্যে কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ছয়জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। এখন ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামিকে দেশে ফিরিয়ে এনে মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
এম
আপনার মতামত লিখুন :