ফাইল ছবি
ঢাকা: দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর মুনাফার থেকে বেশি লভ্যাংশ দিয়ে টাকা বের করে নিচ্ছেন রবি আজিয়াটার উদ্যোক্তা/পরিচালকেরা। কোম্পানিটি পুনর্বিনিয়োগের পরিবর্তে অর্থ বের করে বিদেশে নিয়ে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে তালিকাভুক্তির ৬ বছরে কোম্পানিটির পর্ষদ মুনাফার থেকে ৩৭৫ কোটি টাকার বেশি লভ্যাংশ ঘোষণা দিয়েছে।
শেয়ারবাজারে গ্রামীণফোন ও রবি আজিয়াটা দুটি মোবাইল অপারেটর তালিকাভুক্ত কোম্পানি। এর মধ্যে রবি আজিয়াটার পরিশোধিত মূলধন গ্রামীণফোনের থেকে কয়েকগুণ বেশি হলেও মুনাফায় অনেক তলানিতে। তারপরেও প্রতিযোগিতামূলক বাজারে পিছিয়ে থাকা রবি আজিয়াটার পর্ষদ পুনর্বিনিয়োগের পরিবর্তে নিয়মিত বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন।
দেখা গেছে, রবি আজিয়াটার তালিকাভুক্তির ৬ বছরে (২০২০-২৫) নিট মুনাফা হয়েছে ২ হাজার ৪৭৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা। এর বিপরীতে কোম্পানিটির পর্ষদ ২ হাজার ৮৫৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকার লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এক্ষেত্রে মুনাফার থেকে ৩৭৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকার বেশি লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে।
এর মধ্যে রবি আজিয়াটার ২০২৫ সালে শেয়ারপ্রতি ১.৭৯ টাকা হিসাবে ৯৩৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকার নিট মুনাফা হয়েছে। এর বিপরীতে কোম্পানিটির পর্ষদ ১৭.৫০ শতাংশ বা শেয়ারপ্রতি ১.৭৫ টাকা হিসেবে মোট ৯১৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকার নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। অর্থাৎ এ বছর মুনাফার থেকে ২০ কোটি ৯৫ লাখ টাকার কম লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে। যা সংরক্ষিত মুনাফায় (রিটেইন আর্নিংস) রাখা হবে।
২০২৪ সালে রবি আজিয়াটার পর্ষদ শেয়ারপ্রতি ১.৩৪ টাকা হিসাবে ৭০১ কোটি ৮৮ লাখ টাকার নিট মুনাফার বিপরীতে ১৫ শতাংশ বা শেয়ারপ্রতি ১.৫০ টাকা হিসেবে মোট ৭৮৫ কোটি ৬৯ লাখ টাকার নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে। অর্থাৎ মুনাফার থেকে ৮৩ কোটি ৮১ লাখ টাকার বেশি লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়। যা সংরক্ষিত মুনাফা (রিটেইন আর্নিংস) থেকে দেওয়া হয়।
এর আগে ২০২৩ সালে রবির শেয়ারপ্রতি ০.৬১ টাকা করে নিট ৩২০ কোটি ৯৬ লাখ টাকার নিট মুনাফা হয়েছিল। ওই অর্থবছরের জন্য ১০ শতাংশ হারে ৫২৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকার লভ্যাংশ দেওয়া হয়েছিল। এক্ষেত্রে মুনাফা থেকে ২০২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা বেশি লভ্যাংশ দেওয়া হয়েছিল।
একইভাবে কোম্পানিটির তালিকাভুক্তির ২০২১ সাল ও পরবর্তী ২০২২ সালেও মুনাফার থেকে বেশি লভ্যাংশ দেওয়া হয়েছিল।
কোম্পানিটির ২০২১ সালে শেয়ারপ্রতি ০.৩৪ টাকা করে ১৮০ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ও ২০২২ সালে শেয়ারপ্রতি ০.৩৫ টাকা করে ১৮২ কোটি ৭২ লাখ টাকার নিট মুনাফা হয়েছিল। এর বিপরীতে ২০২১ সালে ৫ শতাংশ হারে মোট ২৬১ কোটি ৯০ লাখ টাকার ও ২০২২ সালে ৭ শতাংশ হারে মোট ৩৬৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকার লভ্যাংশ দিয়েছে। ওই ২ বছরে মুনাফার থেকে ২৬৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার বেশি লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়।
তবে এ কোম্পানিটির ২০২০ সালে শেয়ারপ্রতি ০.৩৩ টাকা করে নিট ১৫৫ কোটি ৩৩ টাকা মুনাফা হলেও ওই বছরে কোন লভ্যাংশ দেয়নি।
উল্লেখ্য রবির বর্তমানে ৫ হাজার ২৩৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকার পরিশোধিত মূলধন রয়েছে। এর মধ্যে শেয়ারবাজারের বিভিন্ন শ্রেণীর (উদ্যোক্তা/পরিচালক ব্যতিত) বিনিয়োগকারীদের মালিকানা ১০ শতাংশ।
পিএস
আপনার মতামত লিখুন :