ফাইল ছবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের পর দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তাঁর সঙ্গে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে ২৫ জন ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ২৪ জন শপথ গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাদের শপথবাক্য পাঠ করান।
মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবন–এর দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন। দীর্ঘ দেড় বছরের অন্তর্বর্তী সরকারের পর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায় শুরু হলো।
এদিকে বর্তমান রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের খবরের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপ্রধান কে হচ্ছেন তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। রাষ্ট্রপতি পদের জন্য জোরালোভাবে নাম আসছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন–এর। সদ্য গঠিত মন্ত্রিসভায় তাঁকে কোনো দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। সিনিয়র নেতাদের মধ্যে নজরুল ইসলাম খান ও ড. আব্দুল মঈন খান নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি।
৭৯ বছর বয়সী খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবার কুমিল্লা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক এই অধ্যাপক এর আগে জ্বালানি ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা ও দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কারণে তাঁকে রাষ্ট্রপতি পদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
বিএনপির একটি সূত্র বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে তিনি দলীয় কর্মকাণ্ডে তুলনামূলক কম সক্রিয় থেকেছেন এবং নিজেকে আড়ালে রেখেছেন, যাতে তাকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি না হয়। তবে নতুন রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, কয়েক দিনের মধ্যেই বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে।
এর আগে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, নির্বাচনের পর নতুন সরকার দায়িত্ব নিলে তিনি পদত্যাগে আগ্রহী। যদিও সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর এবং সে হিসাবে তাঁর মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা।
এসএইচ
আপনার মতামত লিখুন :