থমথমে মতিঝিল ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় এলাকা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুন ১, ২০২৬, ০৫:৫১ পিএম
থমথমে মতিঝিল ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় এলাকা

ছবি: নিজস্ব

ঢাকা: ইসলামী ব্যাংকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমের নিয়োগ নিয়ে মতিঝিলের দিলকুশা এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আন্দোলনকারী ও পুলিশের অবস্থান এবং পুলিশের হামলায় দিনের কার্যদিবস শেষ হয়েছে। তবুও মাঠ ছাড়েনি আমানতকারীরা। 

সোমবার (০১ জুন) বিকেল ৫.৩০ মিনিট পর্যন্ত আমানতকারীরা দিলকুশা ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সামনে অবস্থান করছে।

এদিকে আজ সোমবার ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে সড়কের দুই প্রান্তে পুলিশ অবস্থান নিয়ে চলাচল বন্ধ করে দেয়। দুই প্রান্তে পুলিশ থাকলেও মাঝখানে ছোটো ছোটো দলে অবস্থান নিয়ে রয়েছে সচেতন গ্রাহক ফোরাম। এ এলাকায় পুলিশ ভ্যানের পাশাপাশি জলকামান দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে।

ঈদের ছুটির পর প্রথম কর্মদিবসের সকালে সচেতন গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন একদল ব্যক্তি। জামায়াতপন্থি হিসেবে পরিচিত প্লাটফর্মটির সদস্যদের লক্ষ্য করে টিয়ারশেল ছুড়ে ও জলকামান দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে পুলিশ সতর্ক অবস্থান নেয়।

খানিক বাদে সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা ফের ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে অবস্থান নিয়ে সমাবেশ শুরু করেন। খুরশীদ আলমকে এস আলম গ্রুপের সহযোগী আখ্যা দিয়ে তাকে সরানোর দাবি জানাচ্ছেন আন্দোলনকারীরা। তারা বলছেন, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপের দখলে যাওয়ার আগে যারা পরিচালনা পর্ষদে ছিলেন তাদেরকেই ফেরাতে হবে।

সমাবেশে সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্য খন্দকার মাহবুবুল হক বলেন, “ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠার সময় থেকে আমার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে। এই ব্যাংক পরিচালনা করতে শরীয়াহ জানতে হবে, সৎ থাকতে হবে।

দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়িক হিসাব পরিচালনা করে আসা গ্রাহক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “এস আলমের কোনো ম্যানেজার আমরা এই ব্যাংকে দেখতে চাই না। আমার টাকা আর কাউকে লুট করতে দিবো না। এস আলমের বিচার করতে হবে, ব্যাংক থেকে লুট হওয়া অর্থ ফেরত আনতে হবে।”

নতুন চেয়ারম্যানের ইসলামী ব্যাংক পরিচালনা করার মতো ‘দক্ষতা ও শরীয়াহ জ্ঞান নেই’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “কোনো অযোগ্য ব্যক্তিকে আমরা ইসলামী ব্যাংকে দেখতে চাই না। যোগ্য ব্যক্তিকে ব্যাংক পরিচালনার দায়িত্ব দিতে হবে।”

ঈদের ছুটির আগে শেষ কর্মদিবসে ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তার আগে সেদিন চেয়ারম্যান জোবায়দুর রহমান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খান পদত্যাগ করেন।

খুরশীদ আলম ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিন বছর মেয়াদে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হয়েছিলেন। তবে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর খুরশীদ আলমসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন চার কর্মকর্তা পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলম ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা ইসলামী ব্যাংকে অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের নানা ঘটনা ঘটে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ে সরকার গঠন করা বিএনপির সময়ে সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে বেছে নেওয়া হয়।

ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, “ইসলামী ব্যাংকের আজ একইসময়ে দুটি গ্রুপের কর্মসূচি ছিল। একটি ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত গ্রুপ। আরেকটি গ্রাহকদের গ্রুপ, যারা ঠিকমতো টাকা পয়সা তুলতে পারে না এমন। চাকরিচ্যুত গ্রুপটা তাদের কর্মসূচির বিষয়ে অনুমতি চেয়ে পুলিশের কাছে আবেদন করেছিল।”

‘পর্ষদ সভা ভার্চুয়ালি’ এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভা ভার্চুয়ালি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বেলা আড়াইটায় অনলাইনে যুক্ত হয়ে পর্ষদ সদস্যরা অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন কোম্পানি সচিব হাবিবুর রহমান। সেখানে নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম সভাপতিত্ব করবেন।

সচেতন গ্রাহক ফোরামের আন্দোলনের মুখে গত ২৪ মে ব্যাংকটির পূর্ব নির্ধারিত পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ হওয়ার পর পর্ষদ সভার নতুন দিন ঠিক করা হয়। ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারে সভাটি হওয়ার কথা থাকলেও পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তা অনলাইনে অনুষ্ঠিত হবে।

এএইচ/পিএস

Link copied!