ফাইল ছবি
ঢাকা: দেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত নবম জাতীয় পে স্কেল। নতুন এই বেতন কাঠামোকে ঘিরে ইতোমধ্যেই সরকারি চাকুরিজীবীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের কর্মচারী ও অবসরপ্রাপ্ত পেনশনারদের জন্য বড় সুখবর আসছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এবারের পে স্কেলে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাচ্ছেন নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা। দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ ও নিম্ন গ্রেডের বেতনের মধ্যে যে বৈষম্য ছিল, তা কমিয়ে আনতেই সরকার নতুন কাঠামোতে নিচের স্তরের কর্মীদের জন্য বেশি বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব রেখেছে।
এছাড়া অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশন সুবিধাও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর আলোচনা চলছে। বিশেষ করে বর্তমানে যারা ২০ হাজার টাকার নিচে পেনশন পাচ্ছেন, তাদের পেনশন ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে অনেক পেনশনার কার্যত দ্বিগুণ সুবিধা পেতে পারেন।
নতুন পে স্কেলের আওতায় সাধারণ প্রশাসন, শিক্ষক, পুলিশ, স্বাস্থ্য বিভাগ, বিচার বিভাগসহ সব সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। পাশাপাশি স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্যও সমন্বিত গাইডলাইন তৈরি করা হচ্ছে।
গত ২১ মে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সচিব কমিটির বৈঠকে নতুন পে স্কেলের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেখানে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় বাড়তি সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
সরকারি সূত্র বলছে, আগামী ১ জুলাইয়ের মধ্যে নতুন পে স্কেল কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়ে দ্রুত কাজ চলছে। চূড়ান্ত অনুমোদন ও গেজেট প্রকাশের পরই নতুন বেতন কাঠামোর বিস্তারিত জানা যাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পে স্কেল বাস্তবায়িত হলে নিম্ন আয়ের সরকারি কর্মচারী ও কম পেনশন পাওয়া অবসরপ্রাপ্তরা সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন। একই সঙ্গে সরকারি চাকরিতে দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্যও অনেকটা কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পিএস
আপনার মতামত লিখুন :