ফাইল ছবি
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করে একক অবস্থানের কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি এ এ জহির উদ্দিন তুহিন। তিনি বলেন, সবাই যেখানে এর পক্ষে, সেখানে তিনি স্পষ্টভাবে বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় কবি নজরুল কলেজের মুক্ত মঞ্চে জুলাই স্মৃতি বিতর্ক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও কাওয়ালি সন্ধ্যা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
জুলাই–আগস্টের আন্দোলনের গুরুত্ব তুলে ধরে জহির উদ্দিন তুহিন বলেন, সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমেই দেশ স্বাধীনতা ও চূড়ান্ত সার্থকতা অর্জন করেছে। তিনি বলেন, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের সময় মানুষ ভোট দিতে গিয়ে দেখত ভোট আগেই দেওয়া হয়ে গেছে। কিন্তু এবার ভোটের একটি সংস্কৃতি ফিরে এসেছে, নির্বাচনী পরিবেশও হয়েছে জমজমাট।
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির বিরোধিতা করে তিনি বলেন, কবি নজরুল কলেজ একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শত বছরের ঐতিহ্য বহন করা এই কলেজের স্বকীয়তা নষ্ট হয়ে যাবে। হয়তো আজ আছে, কিন্তু দুই–এক বছর পর এই ঐতিহ্য আর থাকবে না।
তার মতে, এ উদ্যোগের ফলে ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ হয়ে যাবে, অথবা থাকলেও তা হবে গুপ্ত সংগঠনের মাধ্যমে। তিনি বলেন, তখন বিভিন্ন ভাষায় বক্তব্য দেওয়া হবে, যা সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের ভাষা নয়।
জহির উদ্দিন তুহিন বলেন, বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যেসব ভাষায় স্লোগান দেওয়া হচ্ছে, তা কোনো সাধারণ শিক্ষার্থীর ভাষা হতে পারে না। এটি একটি সাজানো পরিকল্পনার অংশ বলেই মনে করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পাসগুলোতে কী হচ্ছে, তা স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে না। এ কারণে ছাত্র অধিকার পরিষদ, ইসলামী আন্দোলনসহ সব ছাত্র রাজনৈতিক সংগঠনকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি, যাতে ক্যাম্পাসে কোনো ধর্মের নামে গুপ্ত রাজনীতি ছড়িয়ে না পড়ে।
অনুষ্ঠানে ছাত্র অধিকার পরিষদ কবি নজরুল কলেজ শাখার সভাপতি মো. নাহিদ হাসানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাদেক বাপ্পিরির সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণঅধিকার পরিষদের (ভারপ্রাপ্ত) সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের ঢাকা–৭ আসনের এমপি পদপ্রার্থী আলহাজ আব্দুর রহমান এবং বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি নাজমুল হাসান।
এ ছাড়া কবি নজরুল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ইরফান আহমেদ ফাহিম, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান, ইসলামী আন্দোলনের কলেজ সভাপতি দেওয়ান মুহাম্মদ তাজিমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অনুষ্ঠানের শেষে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।
এসএইচ
আপনার মতামত লিখুন :